ভারতে আরও ‘নিয়ন্ত্রিত’ হচ্ছে সামাজিক মাধ্যম

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৩:০৫ এএম

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এখন থেকে সব ধরনের ডিজিটাল মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমের ওপর নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারের দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ ও প্রকাশ জাভড়েকর এ সংক্রান্ত একগুচ্ছ নির্দেশিকা ও নিয়মনীতি ঘোষণা করেন।

‘অন্তর্বর্তী গাইডলাইন’ এবং ‘ডিজিটাল মিডিয়া এথিকস কোড’ নামের খসড়া এ নীতিমালার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলোকে তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে বিতর্কিত কনটেন্ট দ্রুত মুছে ফেলতে এবং তদন্তে সহায়তা বাধ্যতামূলক করতে চাইছে দিল্লি। এরই অংশ হিসেবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা নষ্ট করার মতো কিছু করলে তাদের কড়া শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, ‘ভারতে ব্যবসা করার জন্য সামাজিক মাধ্যমকে স্বাগত। কিন্তু এজন্য তাদের আমাদের দেশের আইন মানতে হবে। ব্যবহারকারীদের অভিযোগের নিরসন দ্রুত করতে হবে। বন্ধ করতে হবে সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহার।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপত্তিকর ছবি ব্যবহার করে নারীদের অসম্মানিত করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রতারণা ও ভুয়া খবরে ছেয়ে যাচ্ছে দেশ। হিংসা ছড়ানো হচ্ছে। এসব নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।’

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী সরকার যদি জানতে চায় কোনো বার্তা বা টুইট কে করেছিলেন বা কোথা থেকে তার উৎপত্তি, সংশ্লিষ্ট সামাজিক মাধ্যম জানাতে বাধ্য থাকবে। এ বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য হবে দেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, নিরাপত্তা, বৈদেশিক সম্পর্ক, শান্তি-শৃঙ্খলা, যৌন অত্যাচার ও নারীর সম্মানের মতো ঘটনার ক্ষেত্রে। একইভাবে এ মাধ্যম কারও কোনো বিষয় প্রত্যাহার করলে তার কারণও জানাতে বাধ্য থাকবে।

নতুন এ নীতিমালা অনুযায়ী ফেইসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটার বা ইনস্টাগ্রামের মতো মাধ্যমকে অভিযোগ মীমাংসার জন্য একটা স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে। একজন কর্তাকে সেজন্য ভারতে নিযুক্ত করতে হবে, যাকে দেশটির নাগরিক হতে হবে। অভিযোগ দাখিলের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তাকে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ১৫ দিনের মধ্যে বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে হবে। নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আগামী তিন মাসের মধ্যে কার্যকর করা হবে।

নেটফ্লিক্স, আমাজন প্রাইম ভিডিও, হটস্টারের মতো ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে স্বনিয়ন্ত্রিত হতে হবে। সেজন্য এমন এক ব্যবস্থা করতে হবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন সুপ্রিম অথবা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বা বিশিষ্ট মানুষ। সরকারের তরফে একটি ব্যবস্থা করা হবে, যারা সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করবেন। আর আপত্তির মীমাংসা হবে আদালতে।

অবশ্য ২০১৮ সাল থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের ভাষ্যে, বেআইনি ও ভুয়া তথ্য সংবলিত কনটেন্ট সামাজিক মাধ্যম থেকে সরাতে কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করার চেষ্টা চালাচ্ছে। দেশটির চলমান কৃষক আন্দোলন সংক্রান্ত কনটেন্ট মুছে দিতে দাবি করলেও অস্বীকৃতি জানায় তারা। এরপরই সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলোকে আইনিভাবে বাধ্য করার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে দিল্লি। নতুন নীতিমালা কবে থেকে কার্যকর কিংবা এতে আরও কোনো পরিবর্তন আসবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন নীতিমালার ফলে ভারতে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত