স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সুপারিশ পেয়েছে বাংলাদেশ

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০২:৫৬ এএম

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরেই স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ পেল বাংলাদেশ। সবকিছু ঠিক থাকলে পাঁচ বছর পর ২০২৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত স্বীকৃতি মিলবে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বেরিয়ে আসার শেষ ধাপের এই স্বীকৃতি দেশের জন্য বিশাল অর্জন। এতে করে শুধু দেশেই নয়, বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদা অনেকগুণ বাড়বে। দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগে নতুন মেরুকরণ হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। তবে এই অর্জন সমুন্নত রাখতে অনেক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখন থেকেই পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন তারা।

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের (ইকোসোক) উন্নয়ন নীতিমালাবিষয়ক কমিটির (সিডিপি) ৫ দিনের ভার্চুয়াল বৈঠকের শেষ দিন গতকাল শুক্রবারই এই স্বীকৃতির সুপারিশ মেলে। ২২ ফেব্রুয়ারি বৈঠকটি শুরু হয়। সাধারণত সিডিপির সুপারিশের তিন বছরের মধ্যেই এটি হওয়ার কথা। কিন্তু গত ১৫ জানুয়ারি সিডিপির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ দুই বছর সময় বাড়ানোর আবেদন করায় এটি পিছিয়ে যায়।

এই অর্জনে আজ শনিবার বিকেল ৪টায় ভার্চুয়ালি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করা উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রান্তে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কথা বলবেন।

অর্থনীতিবিদরা আরও বলছেন, বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন মেরুকরণ ঘটবে। বর্তমানে এলডিসিভুক্ত হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের মোট রপ্তানির ৬০-৬৪ শতাংশ ইউরোপের বাজারে। কিন্তু এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটার পর এসব দেশ ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশের বিদ্যমান সুবিধা তুলে নেবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উত্তরণ-পরবর্তী সর্বোচ্চ তিন বছর শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য ও ইইউ ২০২৯ সাল পর্যন্ত এই সুবিধা বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু এরপরই বাংলাদেশের এসব দেশে পণ্য পাঠাতে হলে হয় বাণিজ্য চুক্তি করতে হবে, অন্যথায় অতিরিক্ত শুল্ক দিয়ে পণ্য প্রবেশ করাতে হবে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর এনজিও থেকে অনুদান আসার পরিমাণ কমে যাবে বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, যদি বাংলাদেশ নতুন ও বাস্তবসম্মত প্রকল্প হাতে নিতে পারে, তাহলে খুব বেশি একটা অনুদান কমবে না। এমনকি বাড়তেও পারে। কিন্তু এ জন্য সরকারকে একটি শক্তিশালী পলিসি নিতে হবে। এই খাতে কর্মরতদের প্রশিক্ষিত করতে হবে। সরকারের বরাদ্দ আরও বাড়াতে হবে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সামনে। আর ঠিক তার কিছুদিন পূর্বেই আমরা আর্থ-সামাজিক ধারাবাহিকতার বিভিন্ন সূচকের স্বীকৃতি পেলাম। এটা আমাদের সক্ষমতার পরিচয় দেয়। বিশে^ আমাদের ইমেজ বাড়িয়ে দেবে। বাংলাদেশের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়বে। বেসরকারি বিনিয়োগকারী ও পর্যটকরা আকর্ষিত হবেন। অন্য দেশগুলো আমাদের কম ঝুঁকির তালিকায় রাখবে। এটা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য অনেক বড় একটি অর্জন। আমাদের এটিকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের আগামী ৫ বছর প্রতিযোগিতা নির্ভরতার জন্য নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পর্যটকদের সুরক্ষা বাড়াতে হবে। আমাদের একটা ব্র্যান্ডিং হলো।’

অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আমাদের জিএসপি প্লাস বা অন্য কোনো মডেলে যেতে হবে। আমাদের হাতে অনেক দিন সময় আছে। কিন্তু এটি নিয়ে এখনই বিস্তর গবেষণা শুরু করা উচিত। আমি বলছি না যে আজ থেকেই শুরু করতে হবে। তবে আমাদের এলডিসি-পরবর্তী সংকট নিয়ে আগে থাকতেই প্রস্তুতি নিতে হবে। আর সেটা নিতে হবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই। এতে আমাদের সুবিধার দিকগুলো খুঁজে বের করতে পারব।’

এলডিসি থেকের উত্তরণের পর রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘এখন শুল্কের ওপর ভিত্তি করে যেভাবে চলছি, সেটা অনেক কমে যাবে। তাই রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হবে। আমাদের দেশে আয়কর দেওয়ার হার খুবই কম। প্রয়োজনে সরকারকে আয়কর হার কমিয়ে অধিকসংখ্যক মানুষকে ট্যাক্স নেটের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এতে করে সরকারের রাজস্ব আহরণ বাড়বে। তখন এফটিএ বা পিটিএ করলে তেমন একটা চাপ পড়বে না।’

এ বিষয়ে সিপিডির মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এলডিসিভুক্ত হওয়ায় আমাদের এখন বাজার ও মেধাস্বত্ব আইন কার্যকর নয়। ওষুধ বানাতে আমাদের প্যাটার্ন লাইসেন্স লাগে না। কিন্তু এলডিসি থেকে উত্তরণের পর এগুলো আর থাকবে না। ইইউতে ২০২৯ সাল পর্যন্ত শুল্কমুক্ত সুবিধা পাব। কিন্তু অন্যান্য দেশে পাব না। তাই আমাদের যেসব সুযোগ সামনে আছে, সেগুলো কাজে লাগাতে হবে। বিশ^ বাণিজ্য সংস্থায় যেসব সুযোগ আছে, সেগুলো আমাদের কাজে লাগাতে হবে। এ জন্য সক্ষমতা বাড়াতে হবে; বিশেষ করে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।’

১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। ২০১৫ সালের ১ জুলাই বিশ্বব্যাংকের নতুন তালিকায় বাংলাদেশ, কেনিয়া, মিয়ানমার ও তাজিকিস্তান নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে উত্তীর্ণ হয়। সিডিপির ২০১৮ সালের ১৬ মার্চের সভায় প্রাথমিক বাছাই তালিকায় স্থান পায় বাংলাদেশ।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন জানিয়েছেন, বিশ^ব্যাংকের অ্যাটলাস পদ্ধতিতে যেসব দেশের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৫ ডলারের কম, সেগুলোকে নিম্ন আয়ের দেশ বলা হয়। মাথাপিছু আয় ১,০৪৫ থেকে ৪,১২৫ ডলার হলে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ ও ৪,১২৬ থেকে ১২,৭৪৫ ডলারের মধ্যে থাকলে তাকে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশ বলা হয়। এর ওপরে যাদের মাথাপিছু আয় তাদের উন্নত দেশ বলা হয়ে থাকে। অন্যদিকে জাতিসংঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকের ভিত্তিতে বিশে^র দেশগুলোকে স্বল্পোন্নত, উন্নয়নশীল ও উন্নত এই তিন ভাগে ভাগ করেছে। ইকোসোকের উন্নয়ন নীতিমালাবিষয়ক কমিটি (সিডিপি) তিনটি সূচকের ভিত্তিতে তিন বছর পর পর এলডিসির তালিকা তৈরি করে থাকে।

এই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বেরিয়ে আসার সূচকগুলো হচ্ছে : (ক) মাথাপিছু আয় : তিন বছরের গড় মাথাপিছু জাতীয় আয় (জিএনআই); (খ) মানবসম্পদ সূচক, যেটি পুষ্টি, স্বাস্থ্য, স্কুলে ভর্তি ও শিক্ষার হারের সমন্বয়ে তৈরি হয়; (গ) অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক, যেটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক আঘাত, জনসংখ্যার পরিমাণ ও বিশ^বাজার থেকে একটি দেশের দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। এর যেকোনো দুটিতে উত্তীর্ণ হলেই চলবে। তবে ইচ্ছে করলে কোনো দেশ শুধু আয়ের ভিত্তিতেও এলডিসি থেকে বেরিয়ে আসার আবেদন করতে পারে। সে ক্ষেত্রে তার মাথাপিছু আয় মূল্যায়নের বছরে নির্ধারিত প্রয়োজনীয় আয়ের দ্বিগুণ হতে হবে।

বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নে একেবারে নবীন দেশ। স্বাধীনতার ৪৯ বছরের মধ্যে কেবল ভুটানের সঙ্গে গত ৬ ডিসেম্বর একটি অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) করেছে। এ ছাড়া নেপালের সঙ্গেও পিটিএ কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ জন্য হঠাৎ করে বড় দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের পিটিএ ও এফটিএ করা খুবই একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। যদিও সরকার এই বছরের মধ্যে অন্তত ৭-৮টি দেশের সঙ্গে পিটিএ স্বাক্ষর করতে চায়। মূলত ইউরোপসহ বড় দেশের সঙ্গে চুক্তিতে যাওয়ার আগে নিজেদের অভিজ্ঞতা বাড়াতেই এই পদক্ষেপ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ট্যারিফ কমিশনের একটি সেল কাজ করছে। এ ছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এফটিএ বিভাগের কর্মকর্তারাও আলাদা আলাদা দেশকে ভাগ করে কাজ করছেন।

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সমস্যা হলো আমাদের অভিজ্ঞতা ও জনবল দুটোই কম। তাই আমরা চাচ্ছি আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে জাপান, কানাডা, ব্রাজিল ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সেরে ফেলতে। এতে করে আমাদের জন্য প্রধান রপ্তানির দেশগুলোর সঙ্গে দর-কষাকষিতে বাড়তি সুবিধা পাব।’

ট্যারিফ কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এলডিসি থেকে উত্তরণ ও পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে তারা ইতিমধ্যে কয়েকটি গবেষণা করেছেন। সেখানে তারা স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কিছু সমস্যা ও সমাধানের কথাও উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিনিয়োগকারীদের এ দেশে নিয়ে আসা, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানিযোগ্য পণ্য বৃদ্ধি করা, পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আয়করের হার কমিয়ে অধিকসংখ্যক মানুষকে ট্যাক্সের আওতায় নিয়ে আসা, ই-কমার্স খাতকে একটি নীতিমালার আওতায় নিয়ে আসা, মানসম্পন্ন ও দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি করা এবং সর্বক্ষেত্রে ওয়ান স্টপ সুবিধা নিশ্চিত করা। কিন্তু এসব প্রতিবেদনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠান তেমন একটা উদ্যোগ নেয়নি।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সমস্যা হলো, আমাদের গার্মেন্টস ছাড়া রপ্তানি করার মতো আর তেমন কিছু নেই। এটা রাতারাতি পরিবর্তনও হবে না। আমরা যদি এফটিএভুক্ত দেশের সংখ্যা বাড়াতে পারি, তখন আমাদের নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত হবে। এ জন্য এখন থেকে কাজ শুরু করতে হবে। এ ছাড়া দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে প্রয়োজন ব্যবসায় পরিবেশ সূচকে উন্নতি আনা। কিন্তু সেটা এখনো আমরা করতে পারছি না। এগুলো করতে হবে। পরিকল্পিত একটি ব্যবস্থার মধ্যে আগামী ৩-৪টা বছর পার করতে পারলে আমরা এলডিসি থেকে উত্তরণের সুফল ঘরে তুলতে পারব।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) পরিচালক ড. সায়েমা হক বিদিশা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর অনেক সুবিধা আমরা পাব না। এনজিও খাতেও অনুদান কমে যাবে। কারণ তখন আমরা আর গরিব থাকব না। কিন্তু বাংলাদেশের উন্নয়নে এনজিওর ভূমিকা আছে এবং সামনেও প্রয়োজন পড়বে। এখন সরকার হয়তো বলবে, এই মুহূর্তে তো ভালো অনুদান আসছে। আমার ধারণা, আগামী আরও বছর দুয়েক অনুদান আসবে। কারণ একটি প্রকল্প তো অনেক দিন ধরে চলমান থাকে। নতুন প্রকল্পে কী পরিমাণ অনুদান আসছে, সেটা দেখার বিষয়। তা ছাড়া আপনি যখন গরিব থেকে মধ্যবিত্ত হবেন, তখন কিন্তু আপনাকে আগের মতো সহায়তা করতে চাইব না। আমি মনে করি, এই খাতকে ঘিরে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা না করে এলডিসি থেকে বের হওয়া যাবে না। আর এ জন্য এখনই কাজ শুরু করতে হবে। কোনোভাবেই সময় নষ্ট করা যাবে না।’

অর্থনীতিবিদ মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম মনে করেন, বর্তমানে বাংলাদেশের দারিদ্র্য হ্রাসের হার যেভাবে আছে তাতে ২০২৪ সালে তেমন একটা প্রভাব না-ও পড়তে পারে। আর এনজিও খাতে বরাদ্দ অনেকটা নির্ভর করে দেশে কী পরিমাণ গরিব আছে তার ওপর। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর হার বেড়েছে। যারা এনজিও খাতে কাজ করেন, তারা যদি সঠিক পরিসংখ্যান দিয়ে ঠিকমতো প্রকল্প প্রস্তাব করতে পারেন তাহলে মনে হয় না তেমন কোনো প্রভাব পড়বে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত