যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী সিরিয়ায় ইরান-সমর্থিত বাহিনীর ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এ হামলা চালানোর দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন। এতে ইরানপন্থি ১৭ যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুদ্ধপরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস।
গত দুই সপ্তাহে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ওপর কিছু রকেট হামলার প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ অভিযান পরিচালনার অনুমোদন দেন বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সিএনএন বলছে, জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা নেওয়ার পর তার নির্দেশে জানামতে এটাই প্রথম হামলা। সিরিয়ায় যে স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট হামলা হয়েছিল, বৃহস্পতিবারের ওই হামলা নির্দিষ্ট করে সেই স্থানে চালানো হয়নি। তবে বিমানবাহিনীর হামলার স্থানে ইরান-সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়ারা সক্রিয় রয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে রকেট হামলায় এক বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হন। ইরবিলের যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের ব্যবহৃত একটি ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনাতে রকেটের আঘাতে এক সেনা সদস্য ও পাঁচ ঠিকাদার আহত হন। রকেট বাগদাদের গ্রিন জোনসহ বেশ কয়েকটি ঘাঁটিতেও আঘাত হানে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও অন্যান্য কূটনৈতিক মিশন রয়েছে।
পেন্টাগন বলেছে, বৃহস্পতিবার সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে যে ইরান-সমর্থিত বাহিনীগুলোর ওপর হামলা চালানো হয়েছে, তাদের মধ্যে কাতিব হিজবুল্লাহ ও কাতিব সাইদ আল-সুহাদা রয়েছে। এ অভিযান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে প্রেসিডেন্ট বাইডেন যুক্তরাষ্ট্র ও জোটের সেনাদের রক্ষায় পদক্ষেপ নেবেন। একই সঙ্গে আমরা সিরিয়ার পূর্বাঞ্চল ও ইরাকের সামগ্রিক পরিস্থিতির উত্তেজনা প্রশমনে পরিকল্পিত উপায়ে কাজ করব।
সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের প্রতিষ্ঠাতা রামি আবদুল রাহমান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় অন্তত ১৭ ইরানপন্থি যোদ্ধা নিহত ও বহু আহত হয়েছে। আর গোলাবারুদ ভর্তি তিনটি লরি ধ্বংস হয়ে গেছে।’
হামলার বিষয়ে পেন্টাগনের মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নির্দেশনায় হামলাটি চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যৌথ বাহিনীর ওপর সম্প্রতি যে রকেট হামলা হয়েছে, তার জবাব দিতেই যে শুধু বাইডেন এ অনুমোদন দিয়েছেন তা নয় বরং যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ওপর হুমকির বিষয়টিকেও মোকাবিলা করতে বলেছেন তিনি। একই সময় আমরা স্বেচ্ছায় কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি; সিরিয়ার পূর্বাঞ্চল ও ইরাকের সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত করাই যার লক্ষ্য।’
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বাইডেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সমঝোতায় আসার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। এ হামলা ইরানের কর্মসূচি নিয়ে চলমান ভঙ্গুর সমঝোতা-প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলবে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ওপর রকেট হামলার ঘটনায় দেশটি নির্দিষ্ট করে কোনো গোষ্ঠীকে অভিযুক্ত করেনি। তবে হামলার মধ্য দিয়ে বাইডেন প্রশাসন এ জন্য কাকে অভিযুক্ত করতে চায়, তা স্পষ্ট করেছে।
