২০১৬ সালে ‘ধ্যাত্তেরিকি’ সিনেমা দিয়ে রূপালি জগতে যাত্রা শুরু করেন ফারিন। কিন্তু ওই সিনেমা মুক্তির পর আর কোনো সিনেমা করেননি তিনি। তিন বছর পর গত বছরের শেষের দিকে আবারো সিনে অঙ্গনে ফিরেছেন এই চিত্রনায়িকা। কাজ করছেন বেশ কয়েকটি সিনেমায়। সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে তিনি কথা বললেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুদীপ্ত সাইদ খান।
এই মুহূর্তে কি করছেন?
একটা সিনেমার স্ক্রিপ্ট পড়ছি।
কিসের স্ক্রিপ্ট?
৫ মার্চ থেকে নতুন ছবির শুটিং শুরু করতে যাচ্ছি। নাম ‘ফেসবুক’। সেটার স্ক্রিপ্ট পড়ছি। পরিচালক হচ্ছেন সেলিম আজম। আর আমার বিপরীতে আছেন শিপন মিত্র। কাহিনি, সংলাপ, চিত্রনাট্য লিখেছেন আব্দুল্লাহ জহির বাবু।
‘ফেসবুক’ সিনেমায় কোন চরিত্রে দেখা যাবে…
এই সিনেমায় সলো হিরোইন হিসেবে কাজ করছি। এখানে আমি ডানা নামের একটি মেয়ের চরিত্রে কাজ করব। ডানা হচ্ছে অন্যরকম একটা মেয়ে । তার লাইফস্টাইল হচ্ছে টোটালি পড়াশোনা খেলাধুলা এইসব নিয়ে ব্যস্ত থাকা। একটা সময় গিয়ে অনেক কিছু ঘটে। সবকিছু তো বলা যাবে না । বললে আবার স্পয়লার হয়ে যাবে।
‘প্ল্যানার’ নামের সিনেমাটির কি খবর?
প্ল্যানার সিনোময় আমাকে একটা নারীবাদী চরিত্রে দেখা যাবে। এটা পরিচালনা করছে এ্সএইসচকে গ্লোবাল টিম। অলরেডি সেভেনটি ফাইভ পারসেন্ট কাজ শেষ হয়েছে। এটি গল্প ভিত্তিক থ্রিলার মুভি। একটা মেয়েকে কেন্দ্র করেই গল্পটা। আর সেই মেয়েটা হচ্ছি আমি। এখানে দুটো চরিত্রে আমাকে দেখা যাবে। একটা চরিত্র হচ্ছে সে একজন নারীবাদী মেয়ে, আরেকটা চরিত্র হচ্ছে সে একজন সিরিয়াল কিলার। এটাই হচ্ছে গল্পের মেইন টুইস্ট। হলে গিয়ে দর্শক দেখবে খুব সুন্দর একটা গল্প। আমি এ যাবৎ যতগুলো সিনেমায় কাজ করেছি তার মধ্যে প্ল্যানারের গল্প হচ্ছে আমার কাছে বেস্ট।
আর কি কি ছবি হাতে আছে?
আরও দুটি ছবি হাতে আছে। একটা দেবাশীষ বিশ্বাসের। আরেকটি পরিচালনা করছেন সাইফ চন্দন। অফিসিয়ালি নিষেধ থাকায় এই মুহূর্তে ছবির নাম বলতে পারছি না। আশা করছি, শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ছবি দুটির ঘোষণা দেওয়া হবে। এর মধ্যে একটার কাজ মার্চের শেষ দিকে কাজ শুরুর হতে পারে। সব মিলিয়ে ৫/৭ টা সিনেমায় কাজ করছি। আমি যেহেতু জাজের মেয়ে ছিলাম, সেহেতু জাজের সঙ্গেও একটা ছবির কাজ শুরু হতে পারে।

২০১৬ সালে যাত্রা শুরু হলেও দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরছেন। বিরতির কারণ কি?
২০১৬ সালে ধ্যাত্তেরিকি দিয়ে আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল । তারপর ফ্যামিলি, পড়াশোনাসহ নানা ঝামেলার কারণে কাজ থেকে বিরতি নিয়েছিলাম।
সেসময় কি ধরনের ঝামেলা ফেস করতে হয়েছে?
বেসিক্যালি ঝামেলা বলতে কিছু না। ঝামেলা বললে ভুল হবে। কারণ তখন আমি নিজেই মুভি করার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। তখন আমি অনেক ছোট ছিলাম, একদমই ছোট। ওই সময় অ্যাক্টিং থেকে শুরু করে কোনোকিছু নিয়েই গ্রুমিং করা ছিল না আমার । যেহেতু এই সেক্টরে আমি কাজ করতেছি এবং এটা আমার প্যাশন ফলে নিজেকে গ্রুমিং করা প্রয়োজন। আমার কথায় বলি তখন কোনো সাংবাদিক আমাকে ফোন দিলে কীভাবে কথা বলতে হবে সেটা বুঝতাম না। একদম সত্যি কথা। এখন যেটা হয় আমার প্রেজেন্টেশন থেকে শুরু করে সবকিছুতেই আমার মনে হয় আমি এখন ম্যাচিউরড। একটা আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে আমি এখন এটা করতে পারব।

গত তিন বছরে কি কি শিখলেন?
সত্যি বলতে কি গত তিন বছরে নিজেকে প্রস্তুত করেছি। জাজে থাকা অবস্থাতেই জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নাট্যকর্মশালা করেছি। তারপর গত ১ বছর ধরে নাচ শিখছি। সম্প্রতি একটা সুন্দর একটা অ্যাকশন ধাঁচের ছবির জন্য আমি ফাইট শিখছি। বাইক চালানোটা আগে থেকেই জানতাম, এখন আরও ফাস্ট চালানোর চেষ্টা করছি। হাতের চার পাঁচটা কাজ কয়েক মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। এর ভেতরে নিজেও প্রস্তুত হয়ে যাবো। এরপর অনেক বড় একটা ধামাকা নিউজ দিতে পারব। অ্যাকশন ধাচের ওই মুভিটা নিয়ে আমি খুবই এক্সাইটেড। অনেক বিগ বাজেট, বিগ হাউস, নামি পরিচালক- একটা চমক দিতে পারব। এর বাইরে বিস্তারিত কিছু বলতে চাই না। কারণ এটা খুবই সিক্রেট। আমি যেহেতু অনেক ভালো একটা হাউস থেকে লঞ্চ হয়েছিলাম, আমি আসলে সেই ধরনের চিন্তা ভাবনাতেই আবদ্ধ ছিলাম, যে আবার কখন বড় হাউসের নিউজ দিতে পারব। তো আশা করছি শিগগিরই একটা ধামাকা নিউজ আপনাদেরকে দিতে পারব। আর এর আগে ২০১৬ সালে যখন সিনেমায় আসি তখন আসলে নিজেও দর্শককে কিছু দিতে পারিনি, নিজেও কিছু করতে পারিনি। কারণ আমি প্রস্তুত ছিলাম না। এখন যারা কাজ করছে তারা প্রত্যেকেই গ্রুমিং করে এসেছে। তাদের সঙ্গে যদি কাজ করতে যাই, তাহলে আমাকেও ওই লেভেলে কাজ শিখতে হবে, কাজ জানতে হবে- নচেৎ কাজ করা তো সম্ভব না। মূল কথা হচ্ছে আমি সারা বছর কাজ করতে চাই না, বরং একটা হলেও ভাল মানের কাজ করতে চাই। এটাই আমি চাচ্ছি।
ব্যক্তিগত জীবন কেমন কাটছে?
ব্যক্তিগত জীবন খুব ভালো কাটছে। ব্যক্তিগত জীবনে কোনো প্রবলেম নেই। ব্যক্তিগত লাইফ সবসময় ভালো। আর স্পেশাল কোনো ঘটনা ঘটলে সেটা জানাবো। কাজের পাশাপাশি পড়াশোনা করছি। এভাবেই চলছে জীবন।
