দেশে ব্যাপক স্বাস্থ্যবীমা চান প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২১, ০৪:৩৬ এএম

গ্রাহক সেবা অগ্রাধিকার দিতে দেশের বীমা কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বীমা একটি সেবামূলক পেশা। গ্রাহক স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি একে জনপ্রিয় ও জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে সরকারি-বেসরকারি বীমা কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রক কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে হবে। গতকাল সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) জাতীয় বীমা দিবস-২০২১ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, বীমা হোক সবার’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গতকাল দেশজুড়ে যথাযথভাবে জাতীয় বীমা দিবস-২০২১ পালিত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বীমাকে পেশা হিসেবে নিয়ে ১৯৬০ সালের ১ মার্চ আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে যোগ দেন। এই দিনটির স্মরণে সরকার প্রতি বছর ১ মার্চ জাতীয় বীমা দিবস পালন করছে। এদিন বীমা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য চার বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়।

দেশের বীমা খাতে বঙ্গবন্ধুর অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স (জাতীয়করণ) আদেশ-১৯৭২ জারি করে ৪৯টি দেশি-বিদেশি বীমা কোম্পানিকে জাতীয়করণ করে সুরমা, রূপসা, তিস্তা ও কর্ণফুলী নামে চারটি বীমা করপোরেশন গঠন করেছিলেন। পরে, অল্প সময়ের মধ্যে তিনি দেশের বীমা শিল্পের উন্নয়নের প্রয়োজনে ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন আইন-১৯৭৩ প্রণয়ন করে জীবন বীমার জন্য জীবন বীমা করপোরেশন এবং নন-লাইফ বীমা সেবা প্রদানের জন্য ‘সাধারণ বীমা করপোরেশন’ নামে দুটি পৃথক বীমা করপোরেশন গঠন করেন। তিনি বলেন, জীবন বীমা করপোরেশন ও সাধারণ বীমা করপোরেশন এখনো মানুষকে বীমা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাকাডেমিও জাতির পিতাই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

বীমা কোম্পানিগুলোর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ যাতে বীমার বিষয়ে উৎসাহিত হয়, সে লক্ষ্যে তাদের সচেতন করতে আপনাদের আরও ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। দেশের অর্থনীতির যত বিস্তৃতি ঘটবে, বীমার গুরুত্বও ততই বৃদ্ধি পাবে, আর এ জন্যই জনগণের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য বীমা কোম্পানিগুলোর আরও বেশি উদ্যোগ নেওয়া উচিত। শেখ হাসিনা বীমা কোম্পানিগুলো থেকে সময়মতো অর্থ পরিশোধের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘মানুষ যেন তাদের বীমা অথবা ক্ষতি অনুযায়ী যথাযথভাবে বীমার অর্থ পেয়ে যায় তা নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে কিছু মানুষের প্রবণতাই হচ্ছে- সাজানো দুর্ঘটনার মাধ্যমে বীমা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করা। এই মুহূর্তে এ ধরনের প্রবণতা কমেছে বা বন্ধ হয়ে গেলেও কোম্পানিগুলোকে এ ব্যাপারে আরও সতর্ক থাকতে হবে এবং দক্ষ ও উপযুক্ত লোককে তদন্ত করতে পাঠাতে হবে।

জাতীয় বীমা নীতি-২০১৪ বাস্তবায়নে সরকারের সময় উপযোগী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে ‘প্রবাসী শ্রমিক বীমা’ চালু করা হয়েছে। বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কাটিতে উঠতে দরিদ্র মানুষের জন্য সীমিত আকারে শস্য বীমা চালু করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে ব্যাপক আকারে স্বাস্থ্যবীমা চালু করা প্রয়োজন। আমাদের জনগণ সচেতন নয়, কিন্তু আমি আশা করছি যে, তারা কভিড-১৯ এর পর এ ব্যাপারে সচেতন হবে।’ মুজিববর্ষ উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবীমা’, ‘বঙ্গবন্ধু নিরাপত্তা বীমা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু স্পোর্টসম্যান’স কম্প্রিহেনসিভ ইন্স্যুরেন্স’ চালু করায় প্রধানমন্ত্রী ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি (ডিআইআরএ)-কে ধন্যবাদ জানান।

বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবীমাকে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বা বাবা-মায়ের অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুর পর এই বীমা তাদের শিক্ষাজীবনকে নির্বিঘ্ন করবে। বীমা খাতের উন্নয়নে সংক্ষেপে তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বীমা গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষায় স্টেট-অব-দ্য-আর্ট প্রযুক্তিভিত্তিক সমন্বিত মেসেজিং প্লাটফরম চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পাশাপাশি বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাকাডেমি, সাধারণ বীমা করপোরেশন, জীবন বীমা করপোরেশন এবং আইডিআরএ কার্যক্রমে অটোমেশন চালু ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে ৬৩২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় অ্যাকচুয়ারিয়াল বিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষার জন্য পাঁচ জন শিক্ষার্থীকে যুক্তরাজ্যে পাঠাচ্ছে।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কভিড-১৯ এর টিকা নেওয়ার পরও যথাযথভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধিমালা মেনে চলতে ও মাস্ক পরার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল এ বছর চার বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন এবং চার ছাত্রের মাঝে বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবীমাও বিতরণ করেন। মোট ৫০ হাজার ছাত্রকে বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবীমা দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম। এছাড়া, বাংলাদেশ বীমা সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন। অনুষ্ঠানে বীমা খাতের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত