দেশে বর্তমানে ৪০ বছর থেকে তদূর্ধ্ব বয়সী শিক্ষক-কর্মচারীরা টিকা পেলেও ৪০ বছরের কম বয়সী শিক্ষক-কর্মচারীরা টিকার বাইরে ছিলেন। এখন স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত হওয়ায় ৪০ বছরের কম বয়সী শিক্ষক-কর্মচারীদের দ্রুত টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ জন্য এই শ্রেণির শিক্ষক-কর্মচারীদের তালিকা জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে দেওয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (ব্যানবেইস) নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
গতকাল সোমবার এই তালিকা চেয়ে মাউশি ও ব্যানবেইস এই দুই সংস্থার মহাপরিচালকের কাছে চিঠি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি (এমপিও এবং নন-এমপিও) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) যেসব শিক্ষক-কর্মচারীর বয়স ৪০-এর নিচে, তাদের তালিকা (সফট কপি) শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত ছকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠাতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের নিবন্ধন অপশন নিশ্চিত করার পর এসব শিক্ষক-কর্মচারীকেও নিবন্ধন করে টিকা নিতে হবে। আর যেসব শিক্ষক-কর্মচারীর বয়স ৪০ বা তার বেশি, তাদের https://surokkha.gov.bd/ ঠিকানায় নিবন্ধন করে টিকা নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।
চিঠির পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাউশির মহাপরিচালক সৈয়দ গোলাম ফারুক। তিনি বলেন, চিঠি পেয়েছি। তালিকা তৈরি। আগামীকাল (আজ) মঙ্গলবার পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
আগামী ৩০ মার্চ দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে সরকার। গত শনিবার এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিবেশ পর্যালোচনা করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই দিন শিক্ষামন্ত্রী জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হবে ঈদের পর ২৪ মে থেকে।
শনিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ঘোষণার আগে বিকেলে এক ভার্চুয়ালি সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে চাই। তবে তার আগে আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী যাদের বয়স হয়েছে এমন শিক্ষার্থীদেরও করোনার টিকা দিতে চাই। উচ্চ শিক্ষাস্তরে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সব শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের করোনার টিকা দেওয়া হবে। নিম্নস্তরেও শিক্ষকদের টিকা দেওয়ার কাজ শেষ করতে চাইছি।
অবশ্য ইতিমধ্যেই ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সরকারি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি তালিকা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সে তালিকায় সরকারি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠানের মোট ৯ লাখ ৯৭ হাজার ৩১৫ জন শিক্ষক ও ২৬ লাখ ৮৫ হাজার ৪৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৯৬ জন, প্রফেশনাল শিক্ষার্থী ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৫৩ জন, মাদ্রাসা (ফাজেল-কামিল) ৬ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৭ জন ও টেকনিক্যাল (নন-ভোকেশনাল) ৬ লাখ ৯ হাজার জন রয়েছেন। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এই তালিকা সম্পূর্ণ নয় বলে ওই মন্ত্রণালয় থেকে সম্পূর্ণ তালিকা চেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সে তালিকা পেলেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) ওয়েবসাইটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তারপর এসব শিক্ষক ও শিক্ষার্থী টিকার জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষকদের টিকা দিতে বয়সসীমা শিথিল করা হয়েছে। বর্তমানে ৪০ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী শিক্ষকরা অগ্রাধিকারভিত্তিতে টিকা নিতে পারলেও এখন থেকে ৪০ বছরের কম বয়সী শিক্ষকরাও টিকা নিতে পারবেন। এ জন্য টিকা নিবন্ধনের সুরক্ষা অ্যাপে শিক্ষকদের অগ্রাধিকারের তালিকার শীর্ষে আনা হয়েছে। সেখানে ‘শিক্ষক’ নামে নতুন ক্যাটাগরি করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য সুরক্ষা অ্যাপে এখনো কোনো ক্যাটাগরি করা হয়নি।
