প্রগতিশীল ছাত্র জোটের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও

পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় ধাক্কাধাক্কি

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২১, ০৪:৫৫ এএম

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, কারা হেফাজতে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত দায়ীদের বিচার ও প্রতিবাদকারীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে প্রগতিশীল ছাত্র জোট। গতকাল সোমবার দুপুরে কর্মসূচি পালনের সময় তাদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে পুলিশের অনুরোধে তারা ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ তাদের কর্মসূচি সম্পন্ন করে।

গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল সহকারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করার উদ্দেশে মিছিল বের করেন প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও দোয়েল চত্বর হয়ে শিক্ষা ভবনের সামনে এলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তির পর বাধা ডিঙ্গিয়ে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের দিকে যেতে থাকে। সচিবালয়সংলগ্ন রেলভবনের সামনে আবারও পুলিশের বাধায় সড়কে অবস্থান করে বিক্ষোভ করে। এতে আশপাশের বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজট দেখা দেয়।

কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের মূলত পাঁচটি দাবি ছিল। সেগুলো হচ্ছে অবিলম্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা বাতিল করা, কারা হেফাজতে নিহত লেখক মুশতাক আহমেদের অস্বাভাবিক মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত করা, হেফাজতে মুশতাকের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা, প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমাদের যেসব নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া এবং কার্টুনিস্ট কিশোরসহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মুক্তচিন্তার মানুষ যারা কারাগারে আছেন তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে আমাদের কর্মসূচি পালন করেছি।’

জোটের পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে ফয়েজ বলেন, ‘আমরা নয়টি সংগঠন নিয়ে এ জোট করেছি। আমরা রাতেই আলোচনায় বসব। সেখানে বসে আমাদের পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করব।’

ঘেরাও কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, বাম কয়েকটি দলের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করে। পুলিশের পক্ষ থেকে রেল ভবনের সামনে তাদের থামার জন্য অনুরোধ করে। তারা সেখানে থেকে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করেছে। এ সময় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি ইকবাল কবীর, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (বাসদ) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সভাপতি মাসুদ রানা, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের (গণসংহতি আন্দোলন) কেন্দ্রীয় সভাপতি গোলাম মোস্তফা, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আরিফ মঈনুদ্দীন, ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা মহানগর শাখার নেতা তাসিন মল্লিক বক্তব্য রাখেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত