ঝিনাইদহ সদরে হাত-পা বাঁধা এক মাদ্রাসাশিক্ষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম সুজন। গতকাল সোমবার সকালে সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর কলুপাড়ার একটি ভাড়াবাসা থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, সুজনকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত সুজন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে।
সুজনের ছোট মা মিতা খাতুন বলেন, ‘এশার নামাজ শেষে একই গ্রামের এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে দেখা করে মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বলে সেখান থেকে চলে আসে। এরপর সকালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পারি আমার ছেলে মারা গেছে। খবর পেয়ে ওই গ্রামে গিয়ে দেখতে পাই সুজন হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে আছে। আমাদের ধারণা, তাকে হত্যা করে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।’
মিতা খাতুন আরও জানান, সুজনের মর্মান্তিক মৃত্যু তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। কী কারণে তাকে হাত-পা বেঁধে হত্যা করা হয়েছে, তা তারা এখন পর্ষন্ত বুঝতে পারছেন না। তারা এ হত্যার বিচার চান।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, বাজার গোপালপুর বড় বাড়ি দাখিল মাদ্রাসার সুপার ইসমাইল হোসেন সুজনের ঘরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় পরিবারের লোকজন। পরে পুলিশ এসে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। হাত-পা বেঁধে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে নিহতের পরিবার। তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে এটা হত্যা না অন্য কিছু। চার বছর ধরে গ্রামের শরিফুল ইসলামের বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তিনি বসবাস করে আসছেন।
এ ঘটনায় সুজনের মা রহিমা খাতুন বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন।
