বিমানবন্দর নয়, যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সড়কপথে দেশ ছাড়েন রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী পি কে হালদার (প্রশান্ত কুমার হালদার)। তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চিঠি ইস্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর বিকেল ৩টা ৩৮ মিনিটে দেশত্যাগ করেন তিনি। গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়কে এ তথ্য জানায় পুলিশের ইমিগ্রেশন বিভাগ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘পুলিশের ইমিগ্রেশন বিভাগ আজ (গতকাল) আমাদের মৌখিকভাবে জানিয়েছে যে দুদক এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন বিভাগকে ২২ অক্টোবর ডাকযোগে চিঠি পাঠিয়েছিল। সেটি ইমিগ্রেশন বিভাগ পরদিন সাড়ে ৪টায় পায় বলে জানিয়েছে। এরপর পি কে হালদারসহ ২৪ জনের ফাইল প্রস্তুত করে দেশের সব বিমান ও স্থলবন্দরকে ওই দিন ৫টা ৪৭ মিনিটে অবহিত করে। এর আগেই পি কে হালদার বেনাপোল দিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, ইমিগ্রেশন বিভাগ বিষয়টি প্রতিবেদন সহকারে প্রস্তুত করলে এটি হলফনামা আকারে হাইকোর্টে দাখিল করা হবে। পি কে হালদার বর্তমানে কানাডায় রয়েছেন বলে বিভিন্ন সময় শোনা যায়।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এক আদেশে পাসপোর্ট জব্দের পরেও পি কে হালদার কীভাবে বিদেশে পালিয়ে গেলেন, তা জানতে চায়। একই সঙ্গে পি কে হালদার যেদিন দেশত্যাগ করেন, সেদিন বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে দায়িত্বরত এবং এ বিষয়ে দুদকের কারা দায়িত্বে ছিলেন এর তালিকা দাখিল করতে বলে হাইকোর্ট। ডিএজি আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, ‘কারা ওই দিন দায়িত্বে ছিলেন তা প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে।’
পি কে হালদার প্রথমে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও পরে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। পরে ব্যাংকবহির্ভূত আরও চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজ কর্তৃত্বে ও নিয়ন্ত্রণে নেন। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণের নামে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ ওঠে পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। গত ১৯ নভেম্বর হাইকোর্ট এক আদেশে পি কে হালদারকে বিদেশ থেকে ফেরাতে এবং তাকে গ্রেপ্তারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানতে স্বপ্রণোদিত আদেশ দেয়। পলাতক পি কে হালদারকে গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি হয়েছে। অর্থ পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।
