ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় ঝুট ব্যবসার দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ডিইপিজেড) পাশে ভাদাইল গ্রামে ওই সংঘর্ষের সময় ১৭টি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে আটক করেছে।
আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. আবু সাদেক ভূঁইয়া ও আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবির হোসেন সরকারের লোকজনের মধ্যে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবির হোসেন সরকার ডিইপিজেডের এক্সপেরিয়েন্স নামে একটি পোশাক কারখানা থেকে ঝুট কিনতেন। সম্প্রতি কারখানা কর্র্তৃপক্ষ ধামসোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এবং ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সাদেক ভূঁইয়ার ছেলে মনির হোসেনের সঙ্গে ঝুট বিক্রির চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী মনির লোকজন নিয়ে গত সোমবার ঝুট বের করতে গেলে কবির সরকারের লোকজন বাধা দেন। তবে বাধা উপেক্ষা করেই মনির ওই কারখানা থেকে ঝুট বের করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল সকাল ৯টার দিকে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল ও একটি পিকআপে করে কবির সরকারের লোকজন ভাদাইলে গিয়ে সাদেক ভূঁইয়ার বাড়ি ও কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ সময় সাদেক ভূঁইয়ার লোকজন তাদের প্রতিহতের চেষ্টা করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। একপর্যায়ে স্থানীয় মসজিদের মাইকে গ্রামবাসীর সাহায্য চাওয়া হলে লোকজন চারদিক থেকে ঘেরাও করে কবির সরকারের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। অবস্থা বেগতিক দেখে তারা মোটরসাইকেল ও গাড়ি ফেলে পালিয়ে যায়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাদেক ভূঁইয়া বলেন, ‘এক্সপেরিয়েন্স ক্লথিং কোম্পানির ঝুট কিনত কবির সরকার। তবে সম্প্রতি তার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কারখানা কর্র্তৃপক্ষ আমার ছেলে মনির হোসেনের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ২০০-৩০০ সশস্ত্র লোক নিয়ে কবির সরকারের লোকজন আমার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা আমার বাড়ি লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। পরে গ্রামবাসী এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ১৭টি মোটরসাইকেল ও একটি পিকআপ রেখে পালিয়ে যায়। পুলিশ এসে পিকআপ ও মোটরসাইকেলগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।’
অন্যদিকে আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবির হোসেন সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে ওই কারখানার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ঝুট ব্যবসা করে আসছি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে কারখানা কর্র্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু এরই মধ্যে সোমবার সাদেক ভূঁইয়ার লোকজন ওই কারখানা থেকে গাড়িভর্তি করে ঝুট আনার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় আমি আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। পরে আজ (গতকাল মঙ্গলবার) সকালে আমার ম্যানেজার সেলিম ১৬-১৭টা মোটরসাইকেলে লোকজন নিয়ে ইপিজেডের দিকে যাওয়ার সময় সাদেক মেম্বারের বাড়ির সামনে পৌঁছলে তার লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। তারা শাহিনসহ আমার দুজন লোককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।’
এক্সপেরিয়েন্স ক্লথিং লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আসলাম বলেন, ‘আমাদের কোম্পানির ঝুট বিক্রির বিষয়ে কবির হোসেন সরকারের সঙ্গে চুক্তি ছিল। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আবু সাদেক ভূঁইয়ার ছেলে মনিরের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। তবে সংঘর্ষের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’
আশুলিয়া থানার এসআই সামিউল ইসলাম বলেন, ‘কবির হোসেন সরকারের লোকজন ভাদাইলে সাদেক ভূঁইয়ার বাড়ির সামনে এলে সাদেক ভূঁইয়ার লোকজন এলাকায় ডাকাত এসেছে বলে মাইকিংয়ে লোকজন জড়ো করে পাল্টা হামলায় জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয়পক্ষের চারজনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়।’ সংঘর্ষের ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
