মানুষের জীবিকা, খাদ্য ও গৃহায়ণ বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কভিড-১৯-এর টিকা সবার জন্য নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া সব মানুষের জন্য খাদ্য এবং বাসস্থানের বিষয়টিও অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এ নির্দেশ দেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এ সভা হয়। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এতে সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়। ব্রিফিংয়ে এনইসি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর এসব নির্দেশনা এবং বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য সরকারের সচিব মোহাম্মদ ফজলুল বারী।
ফজলুল বারী বলেন, সভায় টিকার পাশাপাশি সব মানুষের জন্য খাদ্য এবং বাসস্থানকে সরকারের অন্য অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেছেন, অগ্রাধিকার সম্পর্কে ভাবতে হবে। এটা সবার আগে মাথায় রাখতে হবে। এজন্য খাদ্য উৎপাদনে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখতে হবে। কৃষি উৎপাদন যাতে কোনোভাবে বিঘিœত না হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য নির্দেশনা সম্পর্কে সচিব বলেন, করোনায় সারা বিশে^র অর্থনীতি হুমকির মধ্যে পড়েছে। এর মধ্যেও দেশের অর্থনীতি এগিয়েছে। এ অগ্রগতি ধরে রাখতে হবে। প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে শেষ করতে আবারও তাগাদা দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে এখন শুষ্ক মৌসুমে পুরোদমে নির্মাণকাজ চালিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ যথাসময়ে শেষ করতে প্রকল্প পরিচালককে প্রকল্প এলাকায় থাকতে হবে। একই ব্যক্তি যাতে একাধিক প্রকল্পের পরিচালক নিযুক্ত না হয় সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি ব্যাখ্যা করেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সদস্য সরকারের সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী। চলতি অর্থবছরে গত জানুয়ারি পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়নের হার ২৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এ বাস্তবায়ন অগ্রগতি অন্যান্য বছরের তুলনায় কম। বাস্তবায়নের কারণ ব্যাখ্যায় প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, করোনার প্রভাব, একই ব্যক্তির অধীনে একাধিক প্রকল্প ও জমি অধিগ্রহণে জটিলতার কারণে সময়মতো এডিপি বাস্তবায়নে সমস্যা হচ্ছে।
বৈঠকে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে নির্মাণকাজ শেষ হবে এরকম ৪৪২ প্রকল্প রয়েছে। বছরের বাকি চার মাসের মধ্যে এসব প্রকল্পের কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এডিপির খাতও সমুন্নয় করা হয়েছে এনইসিতে। এডিপির খাত ১৫টি নির্ধারণ করা হয়। আগামী অর্থবছর থেকে এ ১৫ খাতেই উন্নয়ন বরাদ্দ থাকবে। চলতি অর্থবছর পর্যন্ত এডিপির খাতের সংখ্যা আছে ১৭টি।
গতকালের সভায় পরিষদের সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি), পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
