রক্তাক্ত দিনের পর মিয়ানমারে ফের বিক্ষোভ

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২১, ০২:০১ এএম

মিয়ানমারে পুলিশের গুলিতে গত বুধবার এক দিনে ৩৮ বিক্ষোভকারী নিহত হন। সেনা অভ্যুত্থানের পর সবচেয়ে রক্তাক্ত দিনের শোক বুকে চেপে গতকাল বৃহস্পতিবার বিভিন্ন শহরে ফের ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। এদিনও বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ দমনে পুলিশ গুলি এবং টিয়ারশেল ছুড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এমন পরিস্থিতিতে নির্বিচার গুলি চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের হত্যার নীতি থেকে জান্তা সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান মিশেল বাশেলেট। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে প্রতিদিনই নির্বিচার গুলি চালাচ্ছে। জান্তা সরকারকে অবশ্যই বিক্ষোভকারীদের হত্যা ও গ্রেপ্তার বন্ধ করতে হবে।’

গত ১ ফেব্রুয়ারি সু চি সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এরপর গ্রেপ্তার করা হয় স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের। অভ্যুত্থানের পর থেকে এর বিরুদ্ধে রাজপথে বিক্ষোভ করে আসছেন হাজারো মানুষ। তবে চলমান সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ দমনে চরম শক্তি প্রয়োগের নীতি বেছে নিয়েছে জান্তা সরকার। প্রতিদিনই রাজপথে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সেনা ও পুলিশ গুলি চালাচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, গত এক মাসের বিক্ষোভে মিয়ানমারে অন্তত ৫৪ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। আটক হয়েছেন ১ হাজার ৭০০-এর বেশি।

গতকাল ইয়াঙ্গুন ও মধ্যাঞ্চলীয় শহর মোনিয়ায় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি ও টিয়ারশেল ছুড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এসব উপেক্ষা করে ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে সেøাগান দেন ও প্রতিবাদী গান গান। মং সংখ নামে এক আন্দোলনকারী বলেন, ‘আমরা জানি, যেকোনো সময় গুলিতে নিহত হতে পারি। কিন্তু জান্তার অধীনে বেঁচে থাকার কোনো অর্থ নেই। মুক্তির জন্য বিপজ্জনক এ পথই বেছে নিয়েছি। সামরিক জান্তার শেকড় গোড়া থেকে উপড়ে ফেলাই আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য।’

বিক্ষোভ দমনে এদিন পুলিশ ইয়াঙ্গুনের পশ্চিমের শহর পাথেইনেও গুলি চালিয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। এ ছাড়া মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয় এবং মন্দিরের শহর বাগানে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেছে। এ সময় আন্দোলনকারীরা সু চির ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল করেন।

এ ছাড়া মান্দালয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত ১৯ বছর বয়সী এক প্রতিবাদকারীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় শোক জানাতে গতকাল বহু মানুষ যোগ দেন। কায়াল সিন নামে পরিচিত অ্যাঞ্জেল বুধবার মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ সময় তার পরনে যে টি-শার্ট ছিল তাতে ‘এভরিথিং উয়িল বি ওকে’ বার্তা লেখা ছিল। তার জন্য শোক জানাতে মিছিলে আসা অনেকেই অ্যাঞ্জেলের বয়সী এবং তারা তিন আঙুল উঁচিয়ে স্যালুট দিয়ে জান্তাবিরোধী প্রতিবাদ জানান।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় আসা ৩২ বছর বয়সী সাই তুন বলেন, ‘অ্যাঞ্জেলের সঙ্গে যা ঘটেছে তা মেনে নিতে পারছি না। প্রচণ্ড রাগের সঙ্গে গভীর দুঃখবোধ করছি। আমরা একনায়কতন্ত্র শেষ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব। আমরা অবশ্যই বিজয়ী হব।’

এসব প্রসঙ্গে দেশটিতে ক্ষমতাসীন সামরিক কাউন্সিলের এক মুখপাত্রের মন্তব্যের জন্য তাকে টেলিফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

এদিকে জান্তা সরকারের আদেশ পালনে অস্বীকৃতি জানিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে পুলিশের ১৯ সদস্য ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। ভারতের এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, মিয়ানমারের এসব নিরস্ত্র পুলিশ সদস্য ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিজোরামের চাম্পাই এবং সারচিপ জেলার সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করেন। তবে স্পর্শকাতর ইস্যু হওয়ায় আশ্রয়প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেননি তিনি।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই ভারতীয় কর্মকর্তা বলেন, মিয়ানমার থেকে আরও অনেকে সীমান্ত পেরিয়ে আসতে পারেন বলে ধারণা করছেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত