আগামী ২৬ মার্চে আগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, অন্যথায় গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই সরকারকে বিদায় করা হবে।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
মান্না বলেন, সরকারের হাতে দেশ নিরাপদ নয়, মানুষের জীবন নিরাপদ নয়। একটি মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য এই সরকারকে এখনই অপসারণ করতে হবে। আমরা আগেই ঘোষণা করেছি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অর্থাৎ ২৬ মার্চের মধ্যে এই কালো আইন বাতিল করতে হবে। অন্যথায় গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই সরকারকে বিদায় করা হবে।
‘কার্টুনিস্ট কিশোরের ওপর নির্যাতনের সম্পূর্ণ দায় সরকারকে নিতে হবে’, এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘কিশোরের জামিনে মুক্তির পর আমরা তার ওপর হওয়া নির্যাতনের বিষয়ে জানতে পারলাম। একই মামলায় গ্রেপ্তার লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যুর দায়ও সরকারকে নিতে হবে।’
মান্না বলেন, ‘মুশতাকের মৃত্যুর পর দেশব্যাপী যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, তাতে আশা করেছিলাম সরকার এই অত্যাচার থেকে সরে আসবে। কিন্তু ময়নাতদন্তের আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, মুশতাকের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘কারাগারে অসুখে যে কোনো মানুষ মারা যেতেই পারে’। এসব থেকে বোঝা যায় মুশতাকের মৃত্যুর আসল রহস্য সরকার প্রথম থেকেই গোপন করতে চেয়েছে। এও বোঝা যায়, এই সরকার তাদের স্বৈরাচারী আচরণ থেকে সরে আসবে না। বরং রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে এসব বিচারবহির্ভূত অত্যাচার, হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক আরো বলেন, ‘নির্যাতনের যে বর্ণনা কিশোরের সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে, তা বিগত ১৩ বছর ধরে এই রাষ্ট্রের চিত্র। বর্তমান সরকার অবৈধভাবে তাদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে বিরোধী মতের ওপর অমানবিক, নিষ্ঠুর বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নামের কালো আইনের মাধ্যমে জনগণের মত-প্রকাশের স্বাধীনতা পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে। গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, রিমান্ডে নারকীয় নির্যাতন বর্তমান ক্ষমতাসীনদের শাসনকালে নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।’
বিবৃতিতে দল, মত নির্বিশেষে সব বিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান মাহমুদুর রহমান মান্না।
