উড়োজাহাজ ‘শ্বেতবলাকা’ এখন ঢাকায়

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২১, ০২:০৫ এএম

কানাডা থেকে ঢাকায় এসেছে বিমানের সর্বশেষ ড্যাশ-৮ শ্বেতবলাকা। বাংলাদেশ ও কানাডা সরকারের মধ্যে জি-টু-জি ভিত্তিতে ক্রয় করা তিনটি ড্যাশ-৮-এর তৃতীয়টি বিকেল ৫টা ৩৬ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই উড়োজাহাজের নাম রেখেছেন ‘শ্বেতবলাকা’।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে নতুন উড়োজাহাজটি গ্রহণ করেন। এ সময় এভিয়েশন ফ্যানফেয়ারের অংশ হিসেবে উড়োজাহাজটিকে ওয়াটার ক্যানন স্যালুট দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। আরও উপস্থিত ছিলেন সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, বিমান চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদুল হাসান, বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. আবু সালেহ্ মোস্তফা কামাল।

শ্বেতবলাকা গ্রহণের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসডকে। দেশের সব সেক্টরের উন্নয়ন আজ দৃশ্যমান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসেও ঢেলে সাজানো হচ্ছে। বিমানের বহরকে আধুনিকায়ন ও সেবার মান বৃদ্ধি করা হয়েছে। তার অংশ হিসেবেই নতুন উড়োজাহাজ ‘শ্বেতবলাকা’ আজ দেশে এসেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকীতে তার জন্মদিন উদযাপনের পূর্বে এই মার্চ মাসে উড়োজাহাজটি দেশে পৌঁছায় আমরা আনন্দিত। তিনি বলেন, আশা করি আগামী ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ‘আকাশতরী’ ও ‘শ্বেতবলাকা’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন। বিমান বহরে এই ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হওয়ার ফলে বিমান তার অভ্যন্তরীণ, স্বল্প দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুট ও আঞ্চলিক রুটগুলোতে ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধি করবে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ও স্বল্প দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রীদের আরও উন্নত ইন-ফ্লাইট সেবা প্রদান সম্ভব হবে।

কানাডার বিখ্যাত এয়ারক্রাফট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডি হ্যাভিল্যান্ড নির্মিত অত্যাধুনিক নতুন ড্যাশ ৮-৪০০ চুয়াত্তর সিট সংবলিত উড়োজাহাজ। পরিবেশবান্ধব এবং অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ এ উড়োজাহাজে রয়েছে ‘হেপা’ ফিল্টার প্রযুক্তি, যা মাত্র চার মিনিটেই ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসসহ অন্যান্য জীবাণু ধ্বংসের মাধ্যমে উড়োজাহাজের অভ্যন্তরের বাতাসকে সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ করে যা সম্মানিত যাত্রীদের যাত্রাকে করে তোলে অধিক সতেজ ও নিরাপদ। এছাড়া এ উড়োজাহাজে বেশি লেগস্পেস, এলইডি লাইটিং এবং প্রশস্ত জানালা থাকার কারণে ভ্রমণ হয়ে উঠবে অধিক আরামদায়ক ও আনন্দময়।

এর আগে কানাডার প্রখ্যাত উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডি হ্যাভিল্যান্ড বোম্বার্ডিয়ার অ্যারোস্পেস থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেয়।  বাংলাদেশ ও কানাডা সরকারের মধ্যে জিটুজি ভিত্তিতে কেনা তিনটি ড্যাশ-৮ প্লেনের প্রথমটি ‘ধ্রুবতারা’ ২৭ ডিসেম্বর ও দ্বিতীয় উড়োজাহাজ ‘আকাশতরী’ ২৪ ফেব্রুয়ারি বিমান বহরে যুক্ত হয়। আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধার সমন্বয়ে তৈরি উড়োজাহাজটিতে আসন রয়েছে ৭৪টি। শ্বেতবলাকা বহরে যুক্ত হওয়ার পর উড়োজাহাজের সংখ্যা হবে ২১টি । তন্মধ্যে ১৬টি নিজস্ব এবং ৫টি লিজ। নিজস্ব ১৬টির মধ্যে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর চারটি, বোয়িং ৭৮৭-৮ চারটি, বোয়িং ৭৮৭-৯ দুটি, বোয়িং ৭৩৭ দুটি এবং ড্যাশ-৮ চারটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত