মেলোডি অফ নূর: শরীর ও মনের ধ্যান

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২১, ০২:৪৫ পিএম

আমাদের দেহ ও পৃথিবী একই উপাদানের সৃষ্টি। যে সকল পদার্থসমূহ  বর্তমান না থাকলে দেহ চলতে পারে না, পৃথিবীও নয়– আলো, পানি, মাটি, বাতাস, আগুন, অভ্যন্তরীণ গতি । এর বাইরে আরও উপাদান আছে এবং আমাদের জানা জগতের বাইরেও আরও জ্ঞান আছে। হাতের ও পায়ের পাঁচ আঙুলসমূহ শরীরের এগারো’শত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এর সঙ্গে সম্পৃক্ত।

সকল সৃষ্টির একই সূত্র, একই আকার। এবং সকল কিছুর চূড়ান্ত হলো নিরাকারে উত্তীর্ণ হওয়া, তারপর আকারের তাগিদ হলে একমাত্র আল্লাহপাকই জানেন, কোন আকার বা কোন সময় বলয়ে তা সংঘটিত হয়......

সকল শক্তি রূপান্তরিত হয়, এমনকি শক্তির নিজস্ব যে ধর্ম আছে তার ব্যতিক্রম হয় আল্লাহর ইশারায়। সকল শক্তিসমূহকে নিজে দেহে ও পরিবেশে সঠিক সময়, মাত্রায় ও মর্যাদায় ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা কিছু বিষয় বা অ্যাকশনের দাবি করি; শরীরকে সুস্থ রাখতে আমরা ব্যায়াম করি আর মনকে সুস্থ রাখতে জিকির, নামাজ, মেডিটেশন প্রার্থনা করি। ২০১৭ থেকে আমি যোগ-ব্যায়াম করছি, কিছু বিষয়ের উপলব্ধি আমাকে সাহায্য করেছে দেহের চাহিদা কীভাবে হৃদয়ের চাহিদার সঙ্গে সম্পৃক্ত তা বুঝতে। এবং কীভাবে তা আমাদের পরিচালিত করে!  পৃথিবী ক্ষণস্থায়ী এবং যা কিছু এখানে বর্তমান, তা আসলে অতীত। সবই ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। কিন্তু , শক্তি ও আলোর কোনো শেষ নাই।  কোরআনে বর্ণিত একটি আয়াত রয়েছে-যেটি পড়লে আগুন নেভাতে প্রভাব পড়ে, আগুনের ক্রিয়া নিস্তেজ হয়ে আসে। আল্লাহর নবী ইব্রাহিম (আ.)-কে আগুন যেন স্পর্শ না করে, সে নির্দেশ দিয়েছিলেন মহান আল্লাহ তাআলা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ হয়েছে, ‘يَا نَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلَامًا عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ’ উচ্চারণ: ইয়া না-রু কু-নি বারদান ওয়া সালামান আলা ইব্রাহিম। অর্থ: ‘হে আগুন! তুমি ইব্রাহিমের জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৬৯)

ধ্যানের মধ্যে দিয়ে শরীরে অবস্থিত সকল উপাদানকে সুস্থভাবে ব্যবহার করা এবং কতটা শরীরে প্রয়োজনীয় এবং কতটা নির্গত হবে তা নিয়ে আমার হৃদয় নিঃসৃত কিছু ধ্যান আজকের আলোচনায় বলে দেব

আমার হৃদয় ও অনুশীলন থেকে অনুসৃত কিছু ধ্যানের নিয়ম

প্রথমেই আলোর কথা বলি- সান স্যালুটেশনস বলে যে চর্চা এটা তার থেকে ভিন্ন, নিঃশ্বাসের খেলা ও দীর্ঘ নিঃশ্বাস গ্রহণ ও পরিত্যাগের বিষয়টি শুধু একই থাকছে। যে কোনো আসনের আগে আপনি দীর্ঘ নিঃশ্বাস নেবেন ও আস্তে আস্তে ছাড়বেন। এবং প্রত্যেক ধ্যানের পর  বিশ্রাম খুব জরুরি।

যে ধ্যান সম্পর্কে বলব তার নাম দিয়েছি ‘সূর্যমুখী’

১০ বার আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়িয়ে যাবেন (মুসলিম), ১১ বার গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে আস্তে আস্তে ত্যাগ করবে। আমাদের শরীরে সৌর শক্তি আছে, তা অতিরিক্ত পরিমাণে যদি উৎপত্তি হয় কোনো রাগ, কাম বা ক্রোধ থেকে, তাহলে সেই অতিরিক্ত শক্তিকে ত্যাগ করা সম্ভব…. যারা কোনো গভীর শোকে আচ্ছন্ন আছেন অথবা সার্বক্ষণিক উত্তেজনা বোধ করেন, তাদের জন্য খুব কার্যকরী এই ব্যায়াম । 

image

এই ছবি অনুসারে হাত উঠবে

১. যখন তৃতীয় অবস্থানে আসবে, সামনের দিকে একটু ঝুঁকে যেতে হবে, পায়ের গোড়ালি শূন্যে থাকবে। চোখ বন্ধ করে হাত দুটো পেছনে যত দূর সম্ভব দিয়ে দিতে হবে। এঙ্গার রিলিজ করার জন্য মন খুলে চিৎকার করতে হবে যা শুনতে আর্তনাদের মতো না চিৎকারের একটিই আবেগ ও একটি স্কেল থাকবে।

 ২. চিৎকার শেষে পা নামিয়ে সমান করে মাটিতে রেখে বাকি স্টেপস মানে বাকি ২ স্টেপস হেসে করতে হবে। 

৩.  প্রত্যেক অ্যাকশন এ ১ থেকে ১১ গুনতে হবে

 ৪.  হাত মাথার ওপর পর্যন্ত যাবে।

৫.  image পুরো ব্যায়ামে হাত এ অবস্থায় থাকবে।

যেন আপনি বাঁধন ছাড়া… নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছেন… যোগের মাধ্যমে দৈহিক, মানসিক ও আত্মিক (স্পিরিচুয়াল) চর্চা ও উন্নতি সম্ভব। দেহ–মন–আত্মা, মস্তিষ্ক, বিবেক, বুদ্ধি; অর্থাৎ আমাদের যা কিছু আছে সব একসূত্রে গাঁথা বা যুক্ত করার নামই ইয়োগা বা যোগ। আর ব্যায়াম বা ধ্যানগুলো আপনাদের শরীরে যোগের পর অতিরিক্ত শক্তিকে ত্যাগ করে শরীরে নিহিত শক্তিসমূহকে সঠিক ভাবে ব্যবহারে সাহায্য করে। যারা আল্লাহ ধ্যানে থাকেন তাদের কাছে এ জ্ঞান রয়েছে; তাদের রিপু নিয়ন্ত্রণ ও কলব পরিষ্কারের জন্য তারা সদা আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করেন।

যে ধ্যান সম্পর্কে বলব তার নাম দিয়েছি ‘বাতাসি’

এ ধ্যানটি অনেকটা ওইরলিং ড্যান্সের মতো কিন্তু সম্পূর্ণ এক নয়। নিঃশ্বাসের খেলা ও দীর্ঘ নিঃশ্বাস গ্রহণ ও পরিত্যাগের বিষয়টি শুধু একই থাকছে। সকল ধ্যানে আগে আপনি দীর্ঘ নিঃশ্বাস নেবেন ও আস্তে আস্তে ছাড়বেন। এবং প্রত্যেক অ্যাক্টিভিটিজের পর বিশ্রাম খুব জরুরি।

এ ধ্যানের ক্ষেত্রে একটি পা এক জায়গায় রেখে অন্য পা দ্বারা ঘুরবেন, হাত মাথার ওপর থাকবে।

১. নিঃশ্বাস নিতে নিতে হাত ওপরে (১ থেকে ১১ গুনতে গুনতে)

২. নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে ঘুরবেন

৩. ঘূর্ণমান অবস্থায়- নিঃশ্বাস নিতে নিতে হাত নামাতে হবে

৪. ঘূর্ণমান অবস্থায় -নিজেকে জড়িয়ে ধরে....স্থান পরিবর্তন করে একটু জায়গা নিয়ে ঘুরতে হবে (১ থেকে ১১ গুনতে গুনতে )। এটি দক্ষিণ দিক থেকে শুরু করে পর্ব-উত্তর-পশ্চিম এ সার্কেলে করতে হবে।

image

৫. দাঁড়িয়ে নিঃশ্বাস নিতে নিতে হাত নামিয়ে ফেলবেন (১ থেকে ১১ গুনতে গুনতে )

ধ্যান আল্লাহর নামের জিকিরের সঙ্গে করা বাঞ্ছনীয়।

লেখক: শায়লা সিমি নূর। সুফি শিল্পী ও কবি। স্বত্বাধিকারী: বেগম রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড গ্যালারি, বেগম প্রকাশনা, বেগম অ্যানিমেল  কেয়ার। প্রাক্তন মিস বাংলাদেশ ১৯৯৮। অটিজম লাইফস্টাইল কনসালট্যান্ট। প্রকাশিত কবিতা গ্রন্থ: প্রভু সমগ্র।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত