হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলায় আহতদের নিয়ে কাজ করার জন্য বিখ্যাত জাপানি সার্জন তমিন হারাদা। হারাদা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যুদ্ধাহতদের জন্য। তাকে নিয়ে লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা
ডাক্তার হারাদা
হিরোশিমায় বোমা হামলার সময়ে শহরের মোট জনসংখ্যা ছিল সাড়ে তিন লাখ। তাৎক্ষণিকভাবে আশি হাজার এবং পরে এক লাখ চল্লিশ হাজার লোকের মৃত্যু ঘটে। বোমা হামলার সময় হারাদা তাইওয়ানে সেনাবাহিনীর ডাক্তার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পারমাণবিক হামলার পরে তাৎক্ষণিকভাবে অনেক রোগ দৃশ্যমান ছিল না। সরাসরি আহতদের চিকিৎসা করা গেলেও তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব যে পরবর্তী প্রজন্মে বাহিত হয়ে চলবে সেটা তখনো ডাক্তারদের জানা ছিল না। তথ্য পাচার হয়ে যেতে পারে আমেরিকাতে, আসতে পারে আরও ভয়াবহ কোনো হামলা এমন আশঙ্কায় জাপানি কর্র্তৃপক্ষ বোমা হামলা নিয়ে গবেষণার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু তাতেও থেমে থাকেননি হারাদা। নিজের আগ্রহে বোমা হামলায় আহত রোগীদের চিকিৎসা করে গেছেন।
১৯১২ সালে জাপানের হিরোশিমায় তমিন হারাদার জন্ম। সেই সময়ের ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, “প্রাচীন গ্রিসের কিংবদন্তি চিকিৎসক হিপোক্রেটসের প্রতিজ্ঞা ছিল ‘আমার যোগ্যতা ও বিচারবোধ অনুযায়ী আমি কেবল আমার রোগীদের সুবিধার কথাই ভাবব।’ এটি ছিল তার নিজের কাছে নিজের প্রতিজ্ঞা। একমাত্র আমিই এই প্রতিজ্ঞা দিয়ে প্রভাবিত হয়েছি বলে আমি মনে করি না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নৈতিকতা হিসেবে এই প্রতিজ্ঞাটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিবেচিত হয়েছে। হানসিন ভূমিকম্পের পরে যেসব নার্স ও চিকিৎসক নিজেদের উৎসর্গ করে দিয়েছেন তারাও নিশ্চয়ই এই প্রতিজ্ঞাটি দিয়েই প্রভাবিত ছিলেন।
হিরোসিমার পারমাণবিক বোমাবর্ষণের পরেও একই ঘটনা ঘটেছিল। নিজেদের অসহনীয় দুর্ভোগের পরেও অনেক নার্স ও চিকিৎসক তাদের নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন কাজে। এসব চিকিৎসকের অনেকেই পরে অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছেন। বোমা সংক্রান্ত ঘটনাগুলোকে তখন ট্যাবু হিসেবে দেখা হতো। তখন চিকিৎসকরা ক্ষতিগ্রস্তকে এড়িয়ে যাননি। বোমাবর্ষণের পরে পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তায় অনেক রোগের উৎপত্তিও আমরা জেনেছি চিকিসকদের কাছ থেকে। তাদের পেশা ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে তাদের মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধা দিয়েছিল।”
শুরুর ঘটনা
বোমাবর্ষণের চার বছর পরের ঘটনা। এক শীতের রাতে ডাক্তার হারাদার কাছে ছেলে কেনজিকে তার বাবা কাঁধে করে বয়ে এনেছিলেন। ছেলেটির বয়স পাঁচ। কিন্তু তাকে দেখতে দেড় বছরের বাচ্চাদের মতো দেখাচ্ছিল। কেনজির মাথা ছিল তুলনামূলকভাবে বেশ বড়। কাছ থেকে পরীক্ষা করে দেখা গেল, তার মাথায় একটি চাকা রয়েছে ও পুঁজ ঝরছে সেখান থেকে। রক্ত পরীক্ষা করার জন্য ছেলেটির কানের খানিক চিরে ফেললেন তিনি। কিন্তু কোনো রক্তের ধারা দেখতে পেলেন না তিনি। রক্তের বদলে হলুদাভ ক্ষরণ দেখতে পেলেন।
বোমা হামলার সময় হামলা কেন্দ্র থেকে ৮০০ মিটার দূরে ইনোকি এলাকায় বাচ্চাটি অবস্থান করছিল। হামলার পরে বাচ্চাটির বারবার জ্বর আসতে থাকে ও তার সব চুল পড়ে যায়। বাচ্চাটি কখনোই তার সেই হারানো স্বাস্থ্য ফিরে পায়নি। কেনজির বাবা জানান, ছয় মাস আগে সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় এই চাকা তৈরি হয়। ব্ল্যাকআউটের পরে যখন বিদ্যুৎ ফিরে আসে ডাক্তার হারাদা অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষা করে দেখেন কেনজির শরীতে শ্বেত রক্তকণিকার পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। তখন একটি শব্দই তার মাথায় ঘুরছিল ‘লিউকেমিয়া’।
সার্জন হিসেবে ডাক্তার হারাদা লিউকেমিয়ার ঘটনা খুব কম পেয়েছেন। তিনি মনে করার চেষ্টা করেন মেডিকেল স্কুলে পড়ার সময় দশ মিনিটেরও কম সময় দিয়েছিলেন লিউকেমিয়ার ওপরে। কেনজির সেই রক্তের নমুনা নিয়ে উজাইনার দক্ষিণে অবস্থিত পারমাণবিক বোমা দুর্ঘটনা কমিশনে উপস্থিত হন। আমেরিকার একজন প্যাথলজিস্ট নিশ্চিত করেন কেনজি লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত। সেই প্যাথলজিস্টের কথা অনুযায়ী তখন হারাদা চিকিৎসা শুরু করেন। বোমার তেজস্ক্রিয়তা কীভাবে মানুষের শরীরে রোগের উত্থান ঘটায় সেটা পর্যবেক্ষণ করা শুরু করেন হারাদা।
পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তায় ছড়িয়ে পড়া নিউট্রন কণিকা মানুষের শরীরের অস্থিমজ্জাকে ধ্বংস করে ফেলে এবং লিউকেমিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। উদ্বেগজনক হারে লিউকোমিয়ার রোগী বাড়তে থাকায় সেই প্যাথলজিস্ট তখন জাপানে আসার সিদ্ধান্ত নেন। আশপাশে প্রায় ৩০০ জন লোক খুঁজে পাওয়া যায় যারা লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত। এই সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী দেখে হারাদার মেরুদণ্ড বেয়ে শীতল স্রোত নেমে যায়।
ডাক্তার জানতে পারেন কেনজির বাবা হিরোশিমা ত্যাগ করেছেন। শেষ সময়টুকুতে ছেলেকে দাদাবাড়িতে রাখার ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। কিছুদিন পরেই কেনজির মৃত্যু হয়। মৃত্যু সনদে উল্লেখ করা ছিল নিউমোনিয়ায় ভুগে কেনজি মারা গেছে। এই ঘটনায় ডাক্তার হারাদা ভীষণ কষ্ট পান। তিনি সিদ্ধান্ত নেন বোমা হামলা পরবর্তী সময়ে উদ্ভূত রোগ নিয়েই তিনি কাজ করবেন। এর পরের তিন বছরে তিনি আরও সাতজন লিউকেমিয়া রোগী শনাক্ত করেন।
বোমা হামলার পরের বছর ১৯৪৬ সালের ঘটনা। হারাদা তখন সেনাবাহিনীর চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। সেই বছরের নভেম্বর মাসে তিনি হিরোশিমা এলাকায় ধ্বংসস্তূপের মধ্যে একটা কুটির বানিয়ে চিকিৎসাবিদ্যার চর্চা শুরু করেন। সেই সময়ে সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি নেওয়া চিকিৎসদের অনেকেই ছোট ছোট ক্লিনিক বানিয়ে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বোমার হামলার তেজস্ক্রিয়তায় আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছিল। কিন্তু কেউই বুঝে উঠতে পারছিল না সমস্যাটা কোথায় হচ্ছে।
নতুন রোগ কেলয়েড
বোমা হামলা পরবর্তী একটি রোগ হলো কেলয়েড। হামলায় আহত রোগীদের চামড়া পুড়ে উঠে আসে ও সেখানে দগদগে ঘা তৈরি হয়। সেই ঘা-যুক্ত ত্বক উঠিয়ে ফেলার পরেও শরীরের অন্যস্থান থেকে ত্বক এনে ঐ স্থানে জোড়া দেওয়া হলে, কেলয়েডের ক্ষত সেই স্থানে আবারও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। এই রোগটিকেও হারাদার কাছে বোমা হামলা থেকে উদ্ভূত রোগ মনে হয়।
মিত্রশক্তির সাধারণ সদর দপ্তর থেকে তখন পারমাণবিক বোমা সংক্রান্ত কোনো তথ্য নিয়ে কথা বলা বা কাজ করার ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। চিকিৎসাক্ষেত্রও এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে ছিল না। বোমা হামলা নিয়ে যে সমস্ত গবেষণা কাজ করা হয়েছিল তা বাজেয়াপ্ত করা হয়।
হারাদা তার নিজস্ব ক্লিনিক খুলে বসেন। তিনি একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছ থেকে জানতে পারেন এনেনসেফালিক (মস্তিষ্কের একাংশ অনুপস্থিত) রোগ নিয়ে শিশু জন্মগ্রহণ করছে। তিনি ভাবতে বসেন, বোমা হামলা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আর কী কী বয়ে আনছে। তিনি অন্য চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনার সিদ্ধান্ত নেন। বিভিন্ন বিষয়ের ওপরে আটজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেতে খেতে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানে তারা রোগীদের অবস্থা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি উত্তরণের উপায় নিয়েও আলোচনা করেন। পারমাণবিক বোমা দুর্ঘটনা কমিশনে ডাক্তার হারাদাকে বলা হয়েছিল লিউকেমিয়ার সঙ্গে বোমা হামলাকে মেলানো হাস্যকর। সরকারি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করে তারা নিজেদের উদ্যোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন।
চিকিৎসা আইন সংশোধন
১৯৫২ সালে টোকিও ও ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলায় আহত একদল নারীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ সম্পর্কে তার মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে হারাদা সরাসরি প্রশ্ন করে বসেন কেন এই নারীদের হিরোশিমায় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি? যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তখন শান্তিচুক্তি কার্যকর করা হয়েছে। তিনি বোমা হামলা পরবর্তী ট্যাবুকে চিহ্নিত করে সেøাগান তোলেন আমরা বোমা হামলায় আহতদের চিকিৎসা করব। সেই সময়ে এই সেøাগান সব চিকিৎসকদের একই কাতারে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। ১৯৫২ সালেই হামলার শিকার সব রোগীর চিকিৎসা খরচ থেকে অব্যাহতি দেন চিকিৎসকরা। দেশের প্রতি ও রোগীদের প্রতি সহমর্মী হয়ে তারা ফ্রি চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেন। চিকিৎসকদের এই পদক্ষেপের কারণেই একসময় হারাদাকে ফিরিয়ে দেয় পারমাণবিক বোমা দুর্ঘটনা কমিশন এবারে নড়েচড়ে বসে। পরের বছর পারমাণবিক বোমা দুর্ঘটনা কমিশনই হামলায় আহত রোগীদের চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকায় দাঁড়ায়। নিজেদের ভূমিকা উল্লেখ করে হারাদা জানান, ‘হিরোশিমার চিকিৎসকদের এর আগে কখনো এত করিৎকর্মা ভূমিকায় দেখা যায়নি। কেবল আমাদের ইচ্ছাশক্তিই আমাদের এতদূর নিয়ে এসেছিল। আমাদের নিজেদের জন্যই হামলায় শিকার রোগীদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া উচিত ছিল। আর আমরা তা করেছি।’ এমনকি ডাক্তারদের একত্রিত ও শক্তিশালী ভূমিকার জন্যই পারমাণবিক বোমা মেডিকেল রিলিফ আইন ১৯৫৭ সালে কার্যকর করা হয়।
অব্যাহত প্রচেষ্টা
বোমা হামলায় আহত সবাই তেজস্ক্রিয়তায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন রোগের শিকার হতে থাকেন। তেজস্ক্রিয়তার ফলে রোগীদের চিকিৎসা করা সে সময় খুব বিপজ্জনক ছিল। কারণ তেজস্ক্রিয়তা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আক্রান্ত করে ফেলে। ২২৫ জন চিকিৎসক হিরোশিমায় তেজস্ক্রিয়তার শিকার রোগীদের চিকিৎসা করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। চারভাগের তিনভাগ চিকিৎসকই বোমা হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে মারা যান। ফলে এই বোমা হামলায় অনেক চিকিৎসক মারা যাওয়ায় দেশটির চিকিৎসাব্যবস্থা প্রায় ধ্বংসের মুখোমুখি এসে দাঁড়ায়।
তখন যারা জীবিত ছিলেন তাদের ওপরে এসে পড়ে সারা দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার বিশাল দায়িত্ব। যেহেতু বোমা হামলায় তাদের বেশিরভাগেরই কেউ না কেউ মারা গেছেন তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত ক্ষতও কম ছিল না। এসব নিয়েই ক্লান্তিহীন তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি স্থাপনের মতো কাজ করে গেছেন, চিকিৎসাসেবা দিয়ে গেছেন। তাদের অব্যাহত প্রচেষ্টায় শহরের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে গেছে। ৭ আগস্ট একটি মেডিকেল টিম ওকায়ামা থেকে হিরোশিমায় এসে পৌঁছে। এরপরে আস্তে আস্তে শিমান, ইয়ামাগুচি, তত্তোরি, হিয়োগো, ওসাকা ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে ডাক্তারদের দল এসে পৌঁছাতে থাকে।
হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া শহরের এই রকমের দুর্ঘটনা সামাল দেওয়ার জন্য শহরটি প্রস্তুত ছিল না। জাপানি সেনাবাহিনী বোমা হামলার পরপরই একটা তদন্ত দলকে সেখানে পাঠায়। নৌবাহিনীর কুরে নেভাল ডিস্ট্রিক্ট ৬ আগস্ট হিরোশিমায় পৌঁছে। এরপরে টেকনোলজি এজেন্সি, ইম্পেরিয়াল জাপানিজ আর্মি, আর্মি মিনিস্ট্রি ৮ আগস্ট এবং কিয়োতো ও ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১০ আগস্ট হিরোশিমায় গিয়ে পৌঁছে। এই সমস্ত বাহিনীর সম্মিলিত শক্তি মিলে তেজস্ক্রিয়তার বিষয়টি পরীক্ষা করে বের করে। প্রথমবারের মতো বোমা হামলায় নিহত এক ব্যক্তির মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হয় সেখানে। ১০ আগস্ট সম্মিলিত সেই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
তাদের তৎকালীন সেই গবেষণাকে গোপনে রাখা হয়েছিল। কিন্তু জাপানি চিকিৎসকরা তাদের কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। ১৯৫২ সালের পরে এই গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। ডাক্তার তাকুসো ইয়ামাওয়াকি প্রমাণ করে দেখান, হারাদার ভাবনাই সঠিক ছিল। গবেষণাপত্রে স্পষ্ট দেখা যায়, বোমা হামলার সঙ্গে লিউকেমিয়ার সম্পর্ক আছে। বোমা হামলার ফলে উদ্ভূত তেজস্ক্রিয়তাই লিউকেমিয়ার হার বাড়িয়ে দেওয়ার কারণ।
প্লাস্টিক সার্জারি
জাপানি হিবাকুশা শব্দের অর্থ বোমা হামলার শিকার। বোমা হামলার শিকার মানুষদের জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছিল বিভিন্ন কারণে। হিবাকুশা নারীদের সামাজিক ও পারিবারিক জীবন প্রায় থমকে গিয়েছিল। তাদের স্বামীরা তাদের গ্রহণ করতে চাচ্ছিলেন না এবং বাচ্চারা তাদের ক্ষত দেখলে ভয় পাচ্ছিল। ডাক্তার হারাদা তাদের এই অবস্থা দেখে আর মেনে নিতে পারছিলেন না। কেলয়েড ক্ষত দূর করতে বারো জনেরও বেশি রোগীকে তিনি চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখনো পর্যন্ত জাপানে প্লাস্টিক সার্জারির প্রচলন ছিল না।
প্রায় ২০০ জন আহত নারীর চিকিৎসার্থে ১৯৫৫ সালে স্যাটারডে রিভিউ নামক পত্রিকার সম্পাদক নরম্যান কাজিনস ফান্ড আহ্বান করেন। হারাদা এই দলটিকে নিউ ইয়র্কের মাউন্ট সিনাই মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে এসব নারীর প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়।
১৯৯৯ সালের ২৫ জুন তমিন হারাদা মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি যুদ্ধবিরোধী অবস্থান থেকে একচুল নড়েননি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি স্থাপন ও চিকিৎসাজ্ঞান বিনিময়ের জন্য জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র দুটো দেশেই গভীর সম্মানের সঙ্গে তার কথা স্মরণ করা হয়।
