মহামারীতে বিজ্ঞান গবেষণায় নেতৃস্থানীয় ১০ নারী

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২১, ১২:৪১ এএম

কভিড-১৯ জর্জরিত সময়ে নানা খাতে সফলতা দেখিয়েছে বিজ্ঞান। এই অর্জনে পুরুষের সঙ্গে নারীরা সমান অংশীদার ছিলেন। মহামারীতে বিজ্ঞান গবেষণায় অবদান রেখেছেন এমন ১০ নারীকে নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

সারাহ গিলবার্ট

মহামারীতে নারীদের অবদানের কথা বলা হলে সবার আগে যার নাম আসবে তিনি ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ড. সারাহ গিলবার্ট। বিশ্বের বিজ্ঞান মহলে সারাহ পরিচিত ‘ব্রিলিয়ান্ট ভ্যাকসিনোলজিস্ট’ হিসেবে। করোনা আবহে তার তৈরি ভ্যাকসিন আলাদাভাবে নজর কেড়েছিল বিশ্বের। ব্রিটেনের বিখ্যাত ভ্যাকসিন রিসার্চ সেন্টার অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনের ইনস্টিটিউটের ভ্যাকসিনোলজিস্টের প্রফেসর সারাহ বিভিন্ন সংক্রামিত ব্যাধি এবং ক্যানসারের বিরুদ্ধে ইমিউনোথেরাপি প্রোডাক্টও তৈরি করেছেন। প্রায় ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে মানবদেহে টি সেল-কে কীভাবে বৃদ্ধি করা যায় সেই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন তিনি। টি-সেল হলো এক ধরনের শ্বেতরক্ত কণিকা, যা মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। এছাড়াও ম্যালেরিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা, টিউবারকিউলোসিসের মতো রোগের বিরুদ্ধে টি সেলকে কীভাবে কাজ করানো যেতে পারে সেই বিষয়টি নিয়েও কাজ করছেন সারাহ। এর আগে লাসসা, নিপাহ, মার্স (মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম) ভাইরাসের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন তৈরিতে নিজের দক্ষতা বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছিলেন তিনি।

ওজলেম তুরেসি

বায়োটেকনোলজি কোম্পানি বায়োএনটেকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ওজলেম তুরেসি। তিনি শুধু একজন বিজ্ঞানী ও ফিজিশিয়ানই নন, গ্লোবাল হেলথ সেক্টরে একজন উদ্যোক্তা ও নেতৃত্ব প্রদানকারীও। ২০২০ সালে তার প্রতিষ্ঠান কভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে প্রথম আরএনএ-ভিত্তিক ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করে। পৃথিবীর স্থবির ও নজিরবিহীন সে সময়ে তার এই উদ্ভাবন আশার আলো দেখিয়েছিল বিশ্ববাসীকে। ৬০টিরও বেশি দেশের ১৩০০-এর বেশি মানুষ কাজ করে তুরেসির প্রতিষ্ঠানে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী। বিষয়টি গর্ব করার মতো। এত মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা তুরেসি ভাবছেন নারীদের কাজকে আরও অগ্রগতি দেওয়ার। তার মতে, বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে, আরও সুদূরপ্রসারী চিন্তা করতে এবং বড় স্বপ্ন দেখতে নারীরাও নানাভাবে অবদান রাখতে পারেন। কভিড-১৯-এ ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করার জন্য ইউনেসকোও অভিবাদন জানিয়েছে তুরেসিকে। একটি টুইটার বার্তায় ইউনেসকো জানায়, ‘লিঙ্গ, জাতি বা ধর্ম-নির্বিশেষে বিজ্ঞান কেবল তখনই শক্তিশালী হয়ে ওঠে, যখন বিশ্বের বৃহত্তর একটি অংশ তা থেকে উপকৃত হয়। কভিড-১৯ ভ্যাকসিন-দৌড়ে বিজ্ঞানে নারীদের ভূমিকায় ড. ওজলেম তুরেসির ভূমিকা অন্যতম।’

কাতালিন কারিকো

কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিনকে সম্ভাবনা দিয়েছে এমন বেশ কয়েকটি আবিষ্কার সামনে এসেছে। এদের মধ্যে অন্যতম গবেষণা ছিল কাতালিন কারিকোর। তিনি কাজ করেছেন সজঘঅ-এর চিকিৎসাগত সম্ভাবনা নিয়ে। সজঘঅ ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নতুন কিছু নয়। ১৯৭০-এর দশক থেকেই এটি নিয়ে গবেষণা হচ্ছিল। কিন্তু সে সময় এটি ছিল প্রাণঘাতক। সজঘঅ-তে নতুন কোনো সম্ভাবনা আছে কি না, তা নিয়ে কাতালিন গবেষণা শুরু করেন ১৯৮০ সাল থেকে। ২০০৮ সালে তিনি এমন একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেন, যা দিয়ে জঘঅ-এর বার্তা বদল না করেই তাকে এমনভাবে বদলে দেওয়া যায়, যাতে কোনো ধরনের প্রাণনাশের ঝুঁকি থাকে না। তার কাজ নজরে আসে বায়োএনটেকের। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাতালিন সজঘঅ নিয়ে ক্যানসার নিরাময়ে কাজ শুরু করেন। পরে শুরু করেন বিভিন্ন ভাইরাসঘটিত রোগের ভ্যাকসিন বানানো। করোনা মহামারীতে তার এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। চিকিৎসাক্ষেত্রে জরুরি এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করার শুরুতে অনুদান নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছিল কাতালিনকে। ১৯৯৫ সালে ইউপেনের চাকরি করার সময় নিজ পদ থেকে বঞ্চিতও হন তিনি। কিন্তু নিজ কাজে তিনি অটল ছিলেন। সাবেক সহকারী ড্রিউ উইজম্যানের সঙ্গে মিলে রোগ মোকাবিলায় সিন্থেটিক সজঘঅ ব্যবহারের যে পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিলেন, সেটিই এখন ব্যবহার করা হচ্ছে কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিনের জন্য।

আনিকা শেবরলু

বিশ্বের বড় বড় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো যেখানে কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিনের জন্য দৌড়াচ্ছে, সেখানে কিশোর বিজ্ঞানী আনিকা শেবরলু করোনাভাইরাসের থেরাপি দিয়ে যাচ্ছেন। ১৪ বছর বয়সী ইন্ডিয়ান আমেরিকান আনিকা ক্লাস এইটে পড়ার সময় নিজ বেডরুমে বসে একটি সায়েন্স প্রজেক্ট করার সময় সিলিকো মেথড ব্যবহার করে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের চিকিৎসা পদ্ধতি খুঁজে পায়। এর অর্থ হচ্ছে বিশ্ব যখন মহামারীতে আক্রান্ত, তত দিনে এর সমাধান নিয়ে বহুদূর এগিয়ে ছিল আনিকা। সে সময় অবশ্য সে কভিড-১৯-সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে কাজ করেনি। ‘মহামারী, ভাইরাস আর ওষুধ আবিষ্কার নিয়ে অনেক দিন কাজ করার পর এখন আমার ভাবতেই অবাক লাগে যে, আমি আরও আগে থেকেই এসবের মধ্যে ছিলাম।’

ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ে কাজ করলেও যখন মহামারী দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল, তখন মেন্টরের সাহায্য নিয়ে কভিড-১৯ ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয় সে। সে প্রধান একটি মলিকিউল খুঁজে পায় সেটি সার্স-কভ-২ ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনকে বন্ধ করে দিতে পারে এবং করোনাভাইরাসকে ঠেকাতে পারে। নিজের এই আবিষ্কারের জন্য ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে থ্রিএম ইয়ং সায়েন্টিস্ট চ্যালেঞ্জও জিতেছিল আনিকা।

মেগ শাহ ও ফাইরুজ আহমেদ

কভিড-১৯-এর কারণে মানুষকে দীর্ঘদিন যখন বাড়িতে থাকতে হয়, বেশির ভাগ মানুষই বিষয়টিকে বেশ ইতিবাচকভাবে নিয়েছিলেন। বাড়িতে বসে কাজ, আপনজনের সঙ্গে থাকা সব মিলিয়ে ভালোটাই আশা করেছিলেন সবাই। কিন্তু কিছু মানুষের জীবনে দুর্বিষহ পরিস্থিতি তৈরি হয় এ সময়। কারণ তাদের আটকে যেতে হয়েছিলে অনিরাপদ সম্পর্ক অথবা সহিংসতামূলক পরিবেশে। বিস্ময়করভাবে বাড়তে থাকা লিঙ্গভেদে এই সহিংসতাকে কমিয়ে আনার চেষ্টায় গত বছরের জুলাই মাস থেকে সহকর্মী ফাইরুজ আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে টেকনোলজি এক্সিকিউটিভ ও উদ্যোক্তা মেগ শাহ শুরু করেছিলেন ‘দ্য প্যারাসল কো-অপারেটিভ’। ‘প্রযুক্তির মাধ্যমে জীবন বাঁচানো’ এই ভাবনা থেকেই নন-প্রফিট টেকনোলজিক্যাল এই প্রতিষ্ঠানটি চালু করেছিলেন তারা। সহিংসতার শিকার হয়েছেন এমন যে কেউ এখানে যোগাযোগ করলে আইনি সহযোগিতা পাবেন। এ ছাড়া নিজের জীবনকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা এবং নেটওয়ার্কিংয়ের সাহায্যে সদস্য বৃদ্ধিও করা যায় এখানে। তাদের উদ্ভাবনী এই প্রযুক্তি আসলে শুরু হয়েছিল নিজেদের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই।

ইলেকট্রিক্যাল ও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষ করে হেড অব ডিজিটাল ইনভেস্টমেন্ট গভর্নেন্সে কাজ করেছেন মেগ শাহ। চালু করেছেন নিজস্ব ডিজিটাল প্রোডাক্ট স্টার্টআপ ‘কিডো’। এর আগে সিনিয়র ডিরেক্টর অব প্রোডাক্ট হিসেবে কাজ করেছেন কালেক্টিভ নামক প্রতিষ্ঠানে। ‘আমি যখন কালেক্টিভে চাকরি করতাম তখন আমার ব্যক্তিগত জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। আমি চেষ্টা না করলে হয়তো ক্যারিয়ারটাও ধরে রাখতে পারতাম না। কেউ জানত না বাড়িতে আমি কতটা ভয়াবহ একটি সম্পর্কে ছিলাম। শেষ পর্যন্ত নিজেকে শক্ত করে ডিভোর্স দিয়েছি তাকে। এখন আমার ১০ বছরের সন্তানের একক অভিভাবক আমি। আর এতে আমি মোটেই চিন্তিত নই। অনেকেই ভাবে ঘরোয়া নির্যাতন শুধু শারীরিকভাবেই হয়। মোটেও তা নয়। নির্যাতন সমানভাবে মানসিকও হয়। করোনার সময় এই নির্যাতন ক্রমাগতভাবে বেড়ে চলেছে। আমাদের এই গ্রুপটি তৈরি করার উদ্দেশ্য ছিল আমার মতো সম্পর্কে যারা অসহায় হয়ে পড়েছেন তাদের যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারি। ফাইরুজ আহমেদ এই কাজে আমার সবচেয়ে বড় সঙ্গী। আশা করছি দুজনে মিলে অনেক মানুষের জীবনে বদল আনতে পারব।’ বিপুল এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঘরের সহিংসতায়ই নিজেকে শেষ করে দিচ্ছেন অনেকে। অন্যকে বলার আগে প্যারাসল কো-অপারেটিভ চায় তাদেরই আগে সমস্যার কথা জানান। সমাধানের পথও পেয়ে যাবেন। এতে হয়তো বেঁচে যেতে পারে একটি জীবন।

র‌্যাচেল অ্যাবার

ইনটিগ্রেটিভ বায়োলজিতে পড়াশোনা করেছেন র‌্যাচেল অ্যাবার। মহামারীর সময় তিনি যুক্ত ছিলেন ট্রেস-কভিড প্রজেক্টে। বাড়ি বাড়ি ঘুরে কভিড নিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ করতেন তিনি। যে তথ্য থেকেই জানা যেত কতটুকু ভাইরাস ছড়িয়েছে অথবা আগের চেয়ে কী পরিমাণে সংক্রমণ কমেছে। নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি সম্প্রতি কথা বলেছেন ARCS Foundation (Advance Science in America)-এর ভার্চুয়াল ইভেন্টে। জানিয়েছিলেন জনগণের সঙ্গে বিজ্ঞানীদের সরাসরি কাজ করা কতটুকু জরুরি। এই ফাউন্ডেশন থেকে নিজ কাজের জন্য ওরিগন চ্যাপ্টার স্কলার অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছেন তিনি। ইনটিগ্রেটিভ বায়োলজি নিয়ে র‌্যাচেলের পড়ার কারণ ছিল গবেষণার জন্য যে প্রশ্নগুলো করা হয় সেগুলোর সঙ্গে যেন সরাসরি সংযুক্ত থাকা যায় অর্থাৎ ল্যাবে যেন এগুলো নিয়ে গবেষণা করতে তার কোনো বাধা না থাকে। নারীরা বিজ্ঞানের সব শাখায় কাজ করতে পারবে না এমন কথা মোটেও বিশ্বাস করেন না র‌্যাচেল। তার মতে, জটিল থেকে জটিল সব কাজে নারীদের ভূমিকা আছে। সামনের দিনে নারীদের জন্য কাজের ক্ষেত্র আরও বাড়বে। নিজেরাই তারা সুযোগ তৈরি করে নিতে পারবে।

রামিদা জুয়েংপাইজাল

থাইল্যান্ডে জাতীয় পর্যায়ে কভিড-১৯ ট্র্যাকার ‘কভিড ট্র্যাকার বাই ফাইভল্যাব’ বানানোর কাজে যুক্ত ছিলেন ২৪ বছর বয়সী রামিদা জুয়েংপাইজাল। এই ট্র্যাকার কাজ করেছে ভাইরাস-সংক্রান্ত সব তথ্য একত্র করতে এবং শুরুর দিকে ভাইরাস নিয়ে যে ধরনের ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছিল সেগুলো বন্ধে। রামিদার কাজ ছিল প্রাদুর্ভাব-সংক্রান্ত তথ্য প্রচার করা এবং ভুল তথ্য মুছে দেওয়া। সঙ্গে ছিল পরীক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য যেমনÑ কোথায় কত টাকায় পরীক্ষা করা হচ্ছে সেসব বিষয়ে সবাইকে জানানো। নারীরাও যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় সফলভাবে কাজ করতে পারেন এ কথা মানতে চান না অনেকেই। তাদের জন্য রামিদার মন্তব্য, ‘অনেক বছর ধরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখা এক রকম লিঙ্গভিত্তিক ছিল। নারী ও মেয়েদের কাজের ক্ষেত্র সেভাবে প্রসারিত ছিল না। অথচ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অনেক নারী আছেন, যারা শুধু সঠিক প্ল্যাটফর্মের অভাবে নিজেদের কাজ করে দেখাতে পারছেন না। এ ছাড়া নারীদের জন্য প্রতিদিনের শত বাধা তো আছেই। মহামারীর সময় এসব কাজে কিন্তু পুরুষ-নারী দেখা হয়নি। এখানে দেখা হয়েছিল শুধু যোগ্যতা। ঠিক এভাবেই প্রতিটি কাজে যোগ্যতা দেখাই সবার আগে জরুরি।’

কিজমিকিয়া করবেট

আমেরিকান সরকারের ভ্যাকসিন গবেষণা দলের নাম নিলে যে নামটি সবার আগে উঠে আসবে তার মধ্যে রয়েছে ড. কিজমিকিয়া করবেটের নাম। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের একটি দলে দলনেতা হিসেবে কাজ করেছেন করবেট। তাদের দল থেকে যে ভ্যাকসিন বানানো হয়েছিল, সেটি ছিল ৯০ শতাংশ কার্যকর। মহামারীর হাত থেকে পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্য তার এই অবদান জরুরি তো অবশ্যই। ভ্যাকসিন গবেষণায় নেতৃত্ব ও অবদান ছাড়াও কৃষ্ণাঙ্গ বলে তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বিশেষভাবে। কারণ আমেরিকায় করোনার মধ্যেও কৃষ্ণাঙ্গদের আন্দোলন হয় এবং সেখানে নিজেদের পদে পদে অবহেলিত হওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। এ ছাড়া ইতিহাসের পাতায়ও বিজ্ঞানে কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের অনেক অবদানের কথা মুছে ফেলা হয়েছে। তাই সব মিলিয়ে করবেটের নাম ইতিহাসে যুক্ত হয়েছে বিষয়টি সত্যিই আনন্দের। নিজে জটিল কাজের সঙ্গে যুক্ত থেকে করবেট বুঝেছেন এই খাতে আসলে নারী-পুরুষ বিভেদের কোনো জায়গা নেই। বিজ্ঞান আলাদাভাবে কোনো লিঙ্গ বোঝে না। যেকোনো জটিল সমস্যার সমাধান ও নেতৃত্ব প্রদানে নারীরা পুরুষের সমকক্ষ হয়ে কাজ করতে পারেন। করবেট চান নারীরা যেন আরও এগিয়ে আসেন বিজ্ঞানের নানা শাখায়। পৃথিবীকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের অবদানও সমানভাবে জরুরি।

ইন্তেলা কলোভানি

আলবেনিয়ার তিরানায় সংক্রামক রোগীদের হাসপাতালে ফিজিশিয়ান হিসেবে কাজ করেন ড. ইন্তেলা কলোভানি। করোনার সময় অনেক মানুষের চিকিৎসা করতে হয়েছে তাকে। মহামারীর শুরু থেকেই রোগীদের সঙ্গে তিনি সর্বক্ষণ থেকেছেন। তার সহকর্মীদের মধ্যে সাহস জোগানো, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দলগতভাবে নেতৃত্ব দেওয়ায় ভূমিকা রেখেছেন ইন্তেলা। স্বাস্থ্য ও সামাজিক ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ নারীর ভূমিকা আছে। তিনি বিশ্বাস করেন এই নারীদের প্রত্যেকে কভিড-১৯-এর সময় নিজেদের পুরোটা দিয়েই পরিস্থিতিকে সামলেছেন। অবশ্যই এই সময়টুকু সহজ ছিল না। ‘কভিড-১৯-এর রোগীদের চিকিৎসা করা খুব সহজ নয়। তাদের প্রত্যেকের চাহিদা আলাদা। আমরা শুধু রোগীদের ভাইরাসের হাত থেকে সেরে উঠতে সাহায্য করছি না, তাদের নেতিবাচক মানসিক প্রভাব থেকেও সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করেছি। তাদের প্রত্যেকে পরিবার থেকে দূরে ছিল। তাদের কাছাকাছি থাকার মতো একমাত্র আমরাই ছিলাম। তাদের একদম একা রাখিনি। রোগীরাও কিন্তু নারী-পুরুষ বিভেদ করে সেবা নিতে আসেননি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত