এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার জুড়ে চলছে সামরিক জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ। পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষে দেশটিতে ইতিমধ্যে অর্ধশতের বেশি নিহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার করা হয়েছে কয়েকশ আন্দোলনকারীকে। তবে বুলেট বা জেলের ভয় না করে প্রতিদিন দেশটির বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নামছেন লাখো মানুষ। ক্ষোভে-বিক্ষোভে উত্তাল মিয়ানমারের প্রতিটি দিনই হয়ে উঠছে সহিংস।
এর মধ্যে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ সংস্থা সেনাশাসন প্রত্যাহার করে সেখানে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে বিশেষ কোনো কারণে চীনের সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য মেলেনি এত দিন।
গতকাল রবিবার দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে অবশেষে সরকারিভাবে মন্তব্য করেছে মিয়ানমারের শক্তিশালী প্রতিবেশী চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল বলেছে, মিয়ানমারের চলমান সংকট নিরসনে তারা দুপক্ষের সঙ্গেই কাজ করতে চায়।
বিবিসি জানাচ্ছে, গতকাল দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তা স্টেট কাউন্সিলর ওয়াং ই বলেছেন, কোনো পক্ষ গ্রহণ না করে বরং ‘সব পক্ষের’ সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রতিবেশী মিয়ানমারের চলমান সংকট সমাধানের পথ সহজ করতে চায় চীন।
গতকাল চীনের পার্লামেন্টের বার্ষিক সমাবেশ অনুষ্ঠানের ফাঁকে ওই সংবাদ সম্মেলনে ওয়াং বলেন, ‘মিয়ানমারের জনগণের ইচ্ছায় এবং দেশটির সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে চীন সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী...দেশটিতে চলমান উত্তেজনা নিরসনে চীন গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে চায়।
তিনি বলেন, ‘ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)-সহ মিয়ানমারের সব দল এবং জোটের সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং সবসময় মিয়ানমারের সব দলের সর্বসম্মতিক্রমেই চীনের সঙ্গে এ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রয়েছে। কীভাবে মিয়ানমারের পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় সেটা চীনের কাছে কোনো বিষয় নয়। বরং চীন সব সময় দুদেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর এবং চীনের এ অবস্থানের পরিবর্তন কখনোই হবে না।
গত ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতার দখল নেয় দেশটির সেনাবাহিনী। পশ্চিমা দেশগুলো সেনা অভ্যুত্থানের কঠোর নিন্দা জানিয়ে দ্রুত অং সান সু চিসহ তার দলের আটক নেতাদের মুক্তি এবং বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বলেছে। নতুবা মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু চীন অভ্যুত্থানের বিষয়ে কিছু বলছিল না। বরং তারা প্রতিবেশী দেশের স্থিতিশীলতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে সেটা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছে। সেনা অভ্যুত্থানের পরপরই এর বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সাধারণ মানুষ গণবিক্ষোভে শুরু করেছে। টানা ওই গণবিক্ষোভে এরইমধ্যে প্রায় অর্ধশত সাধারণ মানুষের প্রাণ গেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুঞ্জন রয়েছে, মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পেছনে চীনের হাত রয়েছে। এ গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে পেইচিং-এর পক্ষ থেকে বলা হয়, সেনা অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ‘চীন নিশ্চিতভাবেই এমনটা দেখতে চায়নি’।
অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমার সেনাবাহিনী ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় যাওয়া সু চি এবং তাদের দলের নেতাদের আটক করে এবং দেশজুড়ে এক বছরের জরুরি অবস্থা জারি করে।
