নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ফিল্মি কায়দায় রাস্তা বন্ধ করে দুই যুবককে প্রায় আধা ঘণ্টা লাঠিপেটা করা হয়েছে। ওই সময় তাদের চিৎকারে আশপাশের কেউ সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অস্ত্রের ভয়ে এগিয়ে আসতে সাহস পায়নি। মারধরে জ্ঞান হারান দুই যুবক।
জানা গেছে, মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবককে বহুদূর থেকে অনুসরণ করা দুই অটোরিকশায় ছিলেন প্রায় ১৫-২০ জন। তাদের সবার হাতে ছিল রাম দা, লোহার রড, লোহার পাইপ, হকিস্টিকসহ নানা দেশীয় অস্ত্র। একপর্যায়ে প্রচণ্ড মারধরে দুই যুবক অজ্ঞান হয়ে গেলে তাদের মৃত ভেবে ফেলে চলে যায় সন্ত্রাসীরা। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দু’জনকে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
সোমবার দুপুর ১২টায় রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন মন্ডল বাড়ির চাঁন টেক্সটাইল এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পেয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে মারধরের ভিডিও।
গুরুতর আহতরা হলেন কাঞ্চন পৌর যুবলীগ নেতা আব্দুর রহমান (৩০) ও তার বন্ধু সাদেক মিয়া (৩১)। আর মারধর করা অস্ত্রধারীরা কাঞ্চন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসূল কলির লোক বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রূপগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জ্ঞান ফেরার পর কান্নাজড়িত কণ্ঠে আহত যুবলীগ নেতা আবদুর রহমান জানান, সোমবার বেলা ১১টার দিকে মোটরসাইকেলে কাঞ্চন মন্ডল বাড়ির পাশে বন্ধু সাদেককে আনতে যাই। মোটরসাইকেলের পেছনে আগ থেকেই দুটো অটোরিকশা আমাকে অনুসরণ করতে থাকে। প্রথমে বুঝতে পারিনি এরা কারা। একপর্যায়ে আমি কাঞ্চন মন্ডল বাড়ির পাশে বন্ধু সাদেকের জন্য মোটরসাইকেলটি থামাই। আমাকে অনুসরণ করা অটোরিকশা থেকে নেমে আসে ১৫-২০ জন যুবক। তাদের সবার হাতে ছিল দেশীয় অস্ত্র রামদা, হকি স্টিক ও লাঠিসোঁটা। ওই সময় তারা আমাকে ও সাদেককে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। আমি ও সাদেক চিৎকার করলে আশপাশের মানুষ এগিয়ে আসতে চাইলেও তারা দু’পাশের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে মানুষকে শাসিয়ে দেয়। পরে মারধরে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।
স্থানীয় চায়ের দোকানি লাকু মিয়া জানান, দুজনকে প্রচণ্ড পেটাতে দেখেছি। এরা কারা জানি না। দুজনের একজন জ্ঞান হারিয়ে ফেললে অস্ত্রধারীরা চলে যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে রূপগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় স্থানীয় বেশ কয়েকজন যুবক।
আহত আব্দুর রহমান আরো জানান, আমাকে মারার আগে আরেক যুবলীগ নেতা শুভকেও তারা মারধর করেছে। অস্ত্রধারীরা সকলেই কাঞ্চন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল কলির বাহিনী। এদের অনেককেই আমি চিনতে পেরেছি। এরা মারধর শেষে আমার মোটরসাইকেল ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। যারা আমাকে ও সাদেককে মারধর করেছে তারা হলো রবিউল, মতিউর, মঞ্জুর, নবিউল হোসেন শান্ত, সেকান্দর, ছাইফুল্লাহ, ইসলামউদ্দিন, দেওয়ান নবিউর, মোমেন, রাসেল, আলমগীর, বাবু, ইউসুফ, রুবেল, টুটুল, শাকিল, নীরজন কোলু,আমিন, মামুন। আর বাকিদের নাম বলতে পারছি না।
মারধর কেন করা হলো এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, প্রভাব বিস্তার ও স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্বেই এ হামলার শিকার হয়েছি।
এদিকে অপর একটি সিটি টিভির ফুটেজে দেখা গেছে, সন্ত্রাসী ওই বাহিনী সাদেক ও আব্দুর রহমানকে মারধর শেষে কাঞ্চন পৌরসভা গেটে তাণ্ডব চালিয়ে মহড়া দিয়েছে ।
রূপগঞ্জ থানার ওসি মহসীন কাদের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টায় জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে পুরো বিষয়টি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নিচ্ছি। রূপগঞ্জ পুলিশ এখন স্পটে অভিযান পরিচালনা করছে। রাত ১২টার মধ্যে আমরা একটি রেজাল্ট দেওয়ার চেষ্টা করব।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, ফুটেজ হস্তগত হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছি। অপরাধী যারাই হোক তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। রূপগঞ্জ ও সি সার্কেল এসপিকে এ বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
