শীত চলে গেছে প্রায় এক মাস হতে চললেও দেখা নেই এই সময়ের স্বাভাবিক ঝড়-বৃষ্টির। গত বছর ফেব্রুয়ারি থেকেই ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা শুরু হলেও এ বছর মার্চের প্রথম নয় দিনে মাত্র দু-একদিন অল্প কিছু জায়গায় হালকা ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া গত ফেব্রুয়ারি মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় ৯৯ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এ রকমটা প্রায় সময়ই হয়ে থাকে। তবে কিছু জায়গায় সামান্য মাত্রায় ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এই প্রবণতা ধীরে ধীরে বাড়বে। মাসের শেষ নাগাদ মাঝারি বা তীব্র মাত্রার কালবৈশাখী হতে পারে। একই সঙ্গে তাপপ্রবাহের শঙ্কাও রয়েছে।
অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শহিনুল ইসলাম গতকাল সোমবার রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা ধীরে ধীরে বাড়বে। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তুলনামূলক বেশি ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে। ধীরে ধীরে তাপমাত্রাও বাড়বে। আর তাপমাত্রা যত বাড়বে ততই কালবৈশাখী ঝড়ের প্রবণতা বাড়বে। তবে ঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টি হলেও বৃষ্টির মাত্রা তেমন বেশি থাকবে না এবং টানা বৃষ্টির সম্ভাবনাও নেই। কারণ উত্তর-পশ্চিমা বায়ুর সংমিশ্রণে সৃষ্ট কালবৈশাখী ঝড় সর্বোচ্চ আট ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। ঝড়-বৃষ্টি বড় জায়গাজুড়ে হওয়ার সম্ভাবনাও কম। এক পাশে বৃষ্টি তো অন্য পাশে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া থাকতে পারে। আগামী তিন মাস ধরেই এমন প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।
অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি মাসে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে ১-২ দিন বজ্র ও শিলাবৃষ্টিসহ মাঝারি বা তীব্র মাত্রার কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র ২-৩ দিন বজ্র ও শিলাবৃষ্টিসহ হালকা বা মাঝারি ধরনের কালবৈশাখী হতে পারে। এ ছাড়া মাসের শেষ দিকে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে ১-২টি মৃদু বা মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠতে পারে।
গত রবিবার রাজধানীতে এক পশলা বৃষ্টি হয়েছে। ফলে গতকাল দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমেছে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত আছে। রাজধানীতে গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন দেশের দুই থেকে তিনটি স্থানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ ডিগ্রির বেশি ছিল। অন্যান্য স্থানে ১৬-২২ ডিগ্রির মধ্যে ছিল।
আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, কয়েক দিন পর প্রায় সব স্থানেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩-২৪ ডিগ্রির ওপর থাকতে পারে। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে দিনাজপুরে ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে গোপালগঞ্জে ৩৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিন রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, কুমিল্লা ও কিশোরগঞ্জ অঞ্চলসহ ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
