রাহুলের দিদিমা ভুল করেছিলেন

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২১, ১০:৫১ পিএম

দিদিমা ভুলটা বোঝেননি, বোঝার কথাও নয়। কারণ আদুরে খোকা রাহুলের কাকা সঞ্জয় দিদিমার চোখ অন্ধ ও কান বধির করে রেখেছিলেন। দুর্বিনীত ছেলেরা বহু মা এবং বহু রাষ্ট্রের সর্বনাশ করেছেন।

দিদিমা যখন ভুলটা করেন কিংবা কাকা ও তার সাঙ্গাতরা যখন তাকে দিয়ে এ কাজটা করান, এ অপকর্ম করতে আরও দম দেন চিত্তরঞ্জন দাসের নাতি, পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চম মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শংকর রায়। তখন রাহুলের বয়স বড়জোর পাঁচ বছর। এসব তার বোঝার কথা নয়, কিন্তু যারা কমবেশি বুঝেছিলেন, রাহুলের বাবার কথা বাদই থাক তখন তো তার হাতে উড়োজাহাজের জয়স্টিক, তারা মুখে খিল আঁটলেন রাহুলের দিদিমা গোস্বা হলে হয়তো তা ভাঙানো যেত কিন্তু সঞ্জয় কাকু অসন্তুষ্ট হলে রক্ষা করার কেউ তখন ভূ-ভারতে ছিল না। সঞ্জয়রাজ শেষ পর্যন্ত কায়েম হয়নি। কারণ বড়দা রাজীব কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স নিয়ে পাঁচ হাজার টাকা কামাই করতে দিল্লি-জয়পুর রুটে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনসের (এখন এয়ার ইন্ডিয়া) মাঝারি উড়োজাহাজ নিয়ে যাত্রী টানেন, তাকে তো আর বড়দার মতো হরাইজন্টাল চালালে চলবে না, তাকে যেতে হবে উলম্ব-পার্পেন্ডিকুলার। ১৯৮০ সালের জুনের ২৩ তারিখে আকাশে অ্যারোবেটিকস দেখাতে পিটস এস-২ দুই সিটের উড়োজাহাজ নিয়ে ওপর থেকে সোজা নিচে নেমে গোত্তা মেরে উঠে যাবেন ভেবেছিলেন। ওঠা আর হয়ে ওঠেনি, ইনস্ট্রাক্টর সুভাষকে নিয়ে তিনি একেবারে ওপারে চলে গেলেন। রাহুলের দিদিমার কষ্ট যতই হোক, মানতেই হবে তিনি বেঁচেও গেলেন।

গত ৪৫ বছরে কংগ্রেসের কেউ কংগ্রেসে থাকা অবস্থায় বলেননি যে ইন্দিরা গান্ধী ভুল করেছেন। তাকে ভুলের ঊর্ধ্বে ওঠাতে গিয়ে ১৯৭৫-৭৭-এর জরুরি অবস্থাকালের দানবীয় শাসনের দায়টা কংগ্রেস এত বছর ঘাড়ে নিয়ে বেড়িয়েছে, তাদেরই ব্যর্থতায় মৌলবাদ পরিপুষ্ট হয়েছে এবং ক্ষমতায় বসেছে।

রাহুল ধন্যবাদ পেতেই পারেন, হোক ৪৫ বছর আগের ঘটনা, কেউই যখন জরুরি অবস্থা জারিকে ভুল বলেননি, নরম সুরে হলেও রাহুল তো বলেছেন। গত অর্ধশতকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের মুখপাত্রদের তাদের নেতাদের এবং তাদের করা ভুল নিয়ে অহংকার করতে দেখতেই জাতি অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। রাহুল হয়তো বলতেন না যদি না বিজেপি চোখে আঙুল দিয়ে দেখাত দিদিমার ১৯৭৫-৭৭ আমলে তো এসব হয়েছে, তখন কংগ্রেস ছিল কোথায়? সেই কলঙ্কের ২১ মাস কংগ্রেসকে আরও বহুকাল তাড়া করে বেড়াবে। রাহুল গান্ধী ভারতের একসময়ের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা এবং কর্নেল বিশ^বিদ্যালয়ের এখনকার শিক্ষক কৌশিক বসুর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বললেন, জরুরি অবস্থা জারি করে ইন্দিরা গান্ধী ভুল করেছেন। অবশ্যই তা ভুল ছিল এবং আমার দিদিমা সে কথা বলেছেনও। জরুরি অবস্থা বলবৎ হওয়ার পর টাইমস অব ইন্ডিয়া অবিচুয়ারি লিখেছিল : Democracy, beloved husband of Truth, loving father of Liberty, brother of Faith, Hope and Justice, expired on June 26.

 

বহুল প্রশংসিত ইন্দিরা শাসনামলের এই একুশ মাস এতই দুর্নাম কামিয়েছে, যা এমনকি ভিএস নাইপলের ‘ইন্ডিয়া : এ ওন্ডেড সিভিলাইজেশন’ ও সালমান রুশদীর ‘মিডনাইট’স চিলড্রেন’-এও তা উঠে এসেছে। ‘আধি’, ‘কিসসা কুরসি কা’ এবং এমনকি সত্যজিতের ‘হীরক রাজার দেশে’র মতো সিনেমার পেছনে রয়েছে ইমার্জেন্সির দুঃশাসন। এতে অন্য রাজনৈতিক দল যদি শিক্ষা নেয় ভালো, কংগ্রেস যদি মন্দকে মন্দ বলতে শেখে সেটাও ভালো। আমরা যদি শিখি তা হলে তো কথাই নেই। কিন্তু মোসাহেববেষ্টিত নেতৃত্বের কাছে তো মোসাহেবি সত্যের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

* * *

১২ জুন ১৯৭৫ ইন্দিরা গান্ধী পরপর তিনটি দুঃসংবাদ পেলেন। নাশতার টেবিলে শুনলেন তার দীর্ঘদিনের বিশ^স্ত সঙ্গী ও উপদেষ্টা একাত্তরের বাংলাদেশ নিয়ে অন্যতম প্রধান আলোচনার সঙ্গী একদা রাষ্ট্রদূত ও মন্ত্রী, তারই মতন একজন কাশ্মীরী দুর্গা প্রসাদ ধর ভিপি ধর নামেই যার খ্যাতি পেসমেকার লাগানোর সময় অপারেশন টেবিলেই মৃত্যুবরণ করেছেন। দুপুরে খাবারের সময় শুনলেন গুজরাট রাজ্যসভার নির্বাচনে তার দল কংগ্রেসে মোরারজি দেশাইয়ের পাঁচদলীয় জোটের কাছে ধরাশায়ী। এটি অশুভ বার্তা এর প্রভাব অন্য রাজ্যেও পড়বে। মারাত্মক এবং তৃতীয় দুঃসংবাদটি পেলেন রাজীব গান্ধীর কাছে। রাজীব জেনেছেন রাজনারায়ণের দায়ের করা ইলেক্টোরাল ম্যালপ্র্যাকটিস মামলায় এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারক জগমোহন লাল সিনহা ইন্দিরা গান্ধীকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। মামলাটি বেশ পুরনো, ১৯৭১ সালের। বিচারক বলেছেন, ইন্দিরা গান্ধী যে নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছেন তার প্রমাণ একজন সরকারি কর্মচারী তার নির্বাচনের কাজে সহায়তা করেছেন এবং পুলিশ তার একটি নির্বাচনী সভায় মঞ্চ তৈরি করে দিয়ে তাতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে। সুতরাং ইন্দিরার ১৯৭১-এর নির্বাচন বাতিল এবং তিনি অযোগ্য ঘোষিত হলেন। ২০ দিনের মধ্যে কাউকে তার স্থলাভিষিক্ত করতে হবে। এটুকু সুযোগ আদালত দিল।

ক্ষমতায় মত্ত থাকাকালে রাষ্ট্র এবং সরকার যে এক নয়, এই বোধ কাজ করে না। যে সরকারি কর্মচারীকে নিয়ে রাজনারায়ণের অভিযোগ, তার নাম যশরাজ কাপুর। যশরাজ সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে প্রচারণার কাজে নামবেন এমন কথাই ছিল; তিনি ইস্তফা দিলেন, যা ১৯৭১-এর ১০ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু ৭ জানুয়ারিতেই তিনি যে এ কাজে নেমে পড়েন রাজনারায়ণ প্রমাণসহই আদালতে পেশ করেন। প্রধানমন্ত্রিত্বের দশম বর্ষে লঘু অপরাধে আদালত তাকে কার্যত বরখাস্ত করায় ইন্দিরা সরকার পড়ে যায় যায় অবস্থা। লঘু অপরাধে গুরুদ- দেখে লন্ডন টাইমস আলংকারিক উপমা দিয়ে সংবাদের শিরোনাম করেছিল : ট্রাফিক আইন অমান্য করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরখাস্ত। যে সময় কংগ্রেস থেকে ইন্দিরার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার মতো বড় মাপের তিনজন নেতা তার সামনে : জগজীবন রাম, সর্দার শরণ সিং, ওয়াই বি চ্যাবন। তাদের জায়গায় সঞ্জয় গান্ধী থাকলে তিনি হয়তো রাজ হয়ে যেতেন, হয়তো পরবর্তী সংকট ভিন্ন চেহারা পেত। ইন্দিরাকে ঘিরে যে ক্ষমতাবলয়, সেই বলয়ের গ্রহ-উপগ্রহ কেউই চাইবেন না ইন্দিরা আদালতকে মান্য করুন। এমনকি সুহৃদ উপদেষ্টা ও মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শংকরও বললেন, দরকার নেই। মামলা আপিল আদালত সুপ্রিম কোর্টে গেল। এবার ইন্দিরার কট্টর সমালোচক ননী পাল্কিওয়ালা তার হয়ে লড়তে রাজি হলেন আর রাজনারায়ণের পক্ষে শান্তিভূষণ। আপিল পর্যন্ত অপেক্ষা করার কী দরকার? সমাধান নিয়ে হাজির হলেন নিজ পুত্র সঞ্জয় গান্ধী, স্বরাষ্ট্রের ওম মেহতা আর হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী বংশী লাল। সিদ্ধার্থ দিলেন সমর্থন।

সুতরাং মন্ত্রী পর্ষদে আলোচনার প্রয়োজন কেউ অনুভব করলেন না; সিদ্ধার্থ রায়কে নিয়ে ইন্দিরা হাজির হলেন অনুগত প্রেসিডেন্ট ফখরুদ্দীন আলী আহমেদের কাছে, তিনি সঙ্গে নিয়ে যাওয়া ইমার্জেন্সি অর্ডার প্রোক্লেমেশনে প্রেসিডেন্টের সই করিয়ে নিয়ে এলেন। রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় জরুরি অবস্থা জারি কেন প্রয়োজন ব্যাখ্যা করলেন। মনে মনে দলের বিবেকবান সবাই বললেন কী দরকার ছিল! কিন্তু কারও মুখ ফুটল না।

প্রধানমন্ত্রীর বেলা-অবেলার সহকারী আর কে ধাওয়ানের কক্ষে সেকালের তিন রথী সঞ্জয়, ওম মেহতা এবং বংশী লাল কাদের গ্রেপ্তার করতে হবে, তার তালিকা চূড়ান্ত করতে বসে গেলেন। এমনকি এ নিয়ে ইন্দিরার সম্মতির প্রয়োজন রয়েছে এটাও কেউ মনে করেননি। ভারতের পুলিশ এমন তৎপরতা আগে কখনো দেখায়নি। সঞ্জয় বংশী লাল আর ওম মেহতার ইচ্ছে পূরণ করতে আইজি থেকে শুরু করে থানাদার পর্যন্ত সবাই মরিয়া হয়ে উঠলেন। গ্রেপ্তার হলেন জয় প্রকাশ নারায়ণ, মোরারজি দেশাই, চরণ সিং, বিজয়রাজ সিন্ধিয়া, রাজনারায়ণ, জীবৎরাম ভগবানদাস কৃপালনি, অটল বিহারি বাজপেয়ি, দেব গৌড়া, লাল কৃষ্ণ আদভানি, অরুণ জেঠলি, সত্যেন্দ্র নারায়ণ সিনহা, রানি গায়ত্রী দেবী, জেবি পট্টনায়ক, রামকৃষ্ণ হেগড়ে, চন্দ্রশেখর, মোহন ধারিয়া, প্রকাশ সিং বাদল, জর্জ ফার্নান্দেজ, পিলু মোদি থেকে শুরু করে লালু প্রসাদ যাদব পর্যন্ত টুঁ শব্দটি করতে পারেন এমন কেউ-ই বাদ গেলেন না। ভারতের কারাগারে একসঙ্গে এমন বিপুলসংখ্যক উঁচুদরের রাজনীতিবিদদের আবাসন আর কখনো হয়নি। হয়তো হবেও না।

এটুকু বলাই যথেষ্ট ইন্দিরার ইমার্জেন্সি যাদের কারাগারে ঢুকিয়েছে, নতুন শতাব্দী ছুঁতে না ছুঁতেই তাদের পাঁচজন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন : মোরারজি দেশাই, চরণ সিং, অটল বিহারি বাজপেয়ি, দেব গৌড়া ও চন্দ্রশেখর। বাঙালি সাহিত্যিক গৌরকিশোর ঘোষও সেবার কারাবাস করেছেন। জরুরি অবস্থায় প্রাপ্ত ক্ষমতা ইন্দিরার ‘কচি-কাঁচার আসর’-কে এমনই দিশেহারা করে তুলেছিল যে, কিশোর কুমার কংগ্রেসের পার্টি র‌্যালিতে গান গাইতে রাজি না হওয়ায় জরুরি অবস্থা বহাল থাকা পর্যন্ত অল ইন্ডিয়া রেডিও আকাশবাণী এবং টেলিভিশন দূরদর্শনে তার গান প্রচার নিষিদ্ধ হয়ে যায়।

১৯৭৫-এর জুলাই মাসেই বিভিন্ন পর্যায়ের ৫০ হাজার রাজনৈতিক নেতা ও কর্মী কারারুদ্ধ হন। জরুরি অবস্থা শেষ হতে না হতেই অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধী এবং কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়। ষষ্ঠ লোকসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জনতা পার্টি ক্ষমতাসীন হয় এবং মোরারজি দেশাই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। যারা গ্রেপ্তার হন তাদের অনেকেই কংগ্রেসের সাবেক নেতা কেউবা সঞ্জয়ের নানা জওয়াহেরলাল নেহরুর আমলের, কেউ মা ইন্দিরা গান্ধীর সাবেক সহকর্মী। ইন্দিরার যখন পতন হয় তার দুদিন আগেও আকাশছোঁয়া চাটুকারবৃত্তির মূল সেøাগান ছিল ‘ইন্দিরা ইজ ইন্ডিয়া’।

জনতা দলের ব্যর্থতা ইন্দিরাকে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনেছে। কিন্তু ইন্দিরা কখনো অনুভব করেননি যে জরুরি অবস্থা জারি করে যে নিপীড়ন করেছেন, তা ঠিক করেননি, সঞ্জয়কে তার নিজের চেয়েও শক্তিশালী একনায়ক বানানোটা যে অন্যায় হয়েছে, এটা তিনি বিশ্বাসও করেননি। কোন কোন বিদেশি সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করতে হবে সঞ্জয় তার হুকুম দিলেন তথ্যমন্ত্রী ইন্দর কুমার গুজরালকে। গুজরাল বললেন, বিদেশি সাংবাদিক জেলে পাঠানো তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। ইন্দিরা গান্ধীর উপস্থিতিতে সঞ্জয় গুজরালের সঙ্গে অশোভন আচরণ করলেন। তিনি সঞ্জয়কে শুধু মনে করিয়ে দেন, কংগ্রেসের সঙ্গে তার সম্পর্ক সঞ্জয়ের জন্মের আগে থেকেই। ইন্দর কুমার গুজরাল তবু মুখ খুলেছেন, কিন্তু অন্যরা মুখ খোলার সাহস পাননি। গুজরালকে ডেকে এনে ইন্দিরা বলে দিয়েছেন, আপনাকে মন্ত্রিত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এই আইকে গুজরাল ভারতের দ্বাদশ প্রধানমন্ত্রী। (আমার দু-একটি দুর্লভ সৌভাগ্যের একটি হচ্ছে দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে সাবেক ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী গুজরালের পাশে বসে নৈশভোজ উপভোগ করার।) বিবিসির মার্ক টালিকে ডেকে এনে তার ট্রাউজার খুলে চাবকানোর কথা বলেছিলেন ইন্দিরার বিতর্কিত প্রিয়জনদের একজন। শেষ পর্যন্ত ভারতপ্রেমিক মার্ক টালি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতে অবাঞ্ছিত ঘোষিত হন। ইমার্জেন্সির বাড়াবাড়ি শুরু হলে ইন্দিরার আপিল মামলার বড় উকিল ননী পাল্কিওয়ালা ঘোষণা দিয়ে বেরিয়ে যান। যেদিন জরুরি অবস্থা জারি হলো সঞ্জয়ের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে কয়েকটি খবরের কাগজে অফিসের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হলো, যাতে পরের দিন জরুরি অবস্থা নিয়ে কিছু তারা প্রকাশ করতে না পারে একই সঙ্গে তাদের যেন শিক্ষা হয় সরকার চাইলে কি না পারে। সব বুঝেশুনে যদি রাহুল গান্ধী বলে থাকেন দিদিমা ভুল করেছেন, তাকে অবশ্য সাধুবাদ দিতে হবে এবং এমনকি পরিস্থিতি সামাল দিতেও যদি বলে থাকেন, স্বীকার তো করেছেন।

পাদটীকা : আমি মোটেও ইন্দিরাবিরোধী নই, জরুরি অবস্থাবিরোধী হয়তো-বা। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি ইন্দিরা না থাকলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পিছিয়ে যেত।

লেখক সরকারের সাবেক কর্মকর্তা ও কলামনিস্ট

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত