ফৌজদারি মামলার তদন্ত চলাকালে আসামিকে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির নকল কেন দেওয়া হবে না, এ মর্মে রুল জারি করেছে উচ্চ আদালত। কুমিল্লার একটি হত্যা মামলায় এক আসামির করা এ সংক্রান্ত ফৌজদারি আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিন ও জোবায়দুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পি।
শিশির মনির জানান, গত বছরের ৪ জুলাই কুমিল্লা সদরে নাহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি খুন হন। খুনের মামলায় আসামি লিপন পাটোয়ারী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আসামির জবানবন্দির নকল চেয়ে অধস্তন আদালতে আবেদন করা হলে সেটি নামঞ্জুর হয়। এই আদেশের বিরুদ্ধে সম্প্রতি হাইকোর্টে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১-এ ধারায় আবেদন করেন আসামি।
তিনি বলেন, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি একটি পাবলিক ডকুমেন্ট। এই দলিল পেতে আসামির কোনো আইনি বিধিনিষেধ নেই। পাশাপাশি কোনো মামলায় এ ধরনের জবানবন্দি থাকলে হাইকোর্টে জামিনের আবেদনের শুনানির সময় এর অনুলিপির প্রয়োজন হয়। তখন নকল পেতে আসামিপক্ষকে তদন্তকারী কর্মকর্তার দারস্থ হতে হয় এবং এটি পেতে অনেক ক্ষেত্রে অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়।
শিশির মনির বলেন, আসামি তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারা অনুযায়ী ভুক্তভোগীর জবানবন্দি এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার অধিকারী। আদালত শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছে।
