ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ড. সাদেকা হালিমসহ তিন শিক্ষকের গবেষণায় প্ল্যাজিয়ারিজম (কুম্ভীলকবৃত্তি) বা চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় দেশ রূপান্তর সম্পাদক অমিত হাবিব, প্রকাশক মাহির আলী খাঁন রাতুল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি তানভীর হাসানকে উকিল নোটিস পাঠানোর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (জাবিসাস), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক ফোরাম এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি। গতকাল মঙ্গলবার আলাদা আলাদা বিবৃতিতে এর প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে উকিল নোটিস প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনগুলো।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি দেশ রূপান্তরের শেষ পৃষ্ঠায় ‘সাদেকা হালিমসহ ৩ শিক্ষকের গবেষণার অধিকাংশ নকল’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ প্রতিবেদন নিয়ে পরদিন (২৩ ফেব্রুয়ারি) একটি প্রতিবাদলিপি পাঠান অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। ওই প্রতিবাদলিপিটি পর্যবেক্ষণ তথা যাচাই-বাছাই করে ছাপা হওয়ার আগেই ৯ দিনের মাথায় ৪ মার্চ অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ও ঢাবির আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাউছার আহমেদের পক্ষে দেশ রূপান্তরের সম্পাদক, প্রকাশক ও ঢাবি প্রতিনিধির নামে উকিল নোটিস পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ফয়েজউল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশের জন্য কাউকে আইনি নোটিস প্রেরণ সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকের কণ্ঠরোধ করার প্রয়াস। ড. সাদেকা হালিমসহ অন্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যখন গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ আসে, তখন শিক্ষকদের কর্তব্য ছিল দলিলাদি পেশ করে অভিযোগটিকে ভিত্তিহীন প্রমাণ করা। কিন্তু তা না করে তারা সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে একটি তদন্ত কমিটি করে তার মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানাই।’
জাবিসাসের সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘আইনি নোটিস পাঠানো অনাকাক্সিক্ষত ও অনভিপ্রেত। এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ। অযৌক্তিক চাপ প্রয়োগ সংবাদমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরার প্রয়াস মাত্র। দৈনিক দেশ রূপান্তরের সম্পাদক, প্রকাশক ও ঢাবি প্রতিনিধির প্রতি যে উকিল নোটিস পাঠানো হয়েছে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী।’ ওই সংবাদের ভিত্তিতে ঢাবি প্রশাসন যথাযথ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের এ ধরনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলেও বিবৃতিতে আশা করেছে জাবিসাস।
এদিকে জাবি প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান তানভীর ও সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমের ওপর এরূপ হুমকি সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের অন্তরায়। ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা অপরিহার্য। আমরা সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।’
স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি হাসান ওয়ালী ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘অধ্যাপক সাদেকা হালিম তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের জবাব না দিয়ে উল্টো সাংবাদিকদের কণ্ঠ থামিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করছেন। তার এমন অপচেষ্টা সফল হবে না। অনতিবিলম্বে উকিল নোটিস প্রত্যাহার করতে হবে।’
অন্যদিকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম ও মঈনুল পাঠান এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘সাংবাদিক যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে সংবাদ উপস্থাপন করেছে। নিজের অন্যায় ঢাকতে অধ্যাপক সাদেকা হালিম সাংবাদিকদের আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের কাছে এটা মোটেও কাম্য নয়।’ বিবৃতিতে অবিলম্বে এই উকিল নোটিস প্রত্যাহারেরও দাবি জানানো হয়েছে।
