আলোচনা সভায় ফখরুল

বিএনপির বক্তব্য শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘মিথ্যাচার’ করেছেন

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২১, ০৩:০৪ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন ‘একদিনে, একজনের ভাষণে দেশের স্বাধীনতা আসেনি বলে আমরা যে বক্তব্য প্রতিদিন রাখছি তাতে প্রধানমন্ত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে অনেক কথা বলেছেন, যা মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয়।’ গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বিএনপির স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির উদ্যোগে ঐতিহাসিক ৯ মার্চ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একাত্তরের ৭ মার্চ ও জিয়াউর রহমান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বক্তব্য রেখেছেন, তা সঠিক নয়।  কেনো এই মিথ্যাচার? এর কারণটা কী? একটাই কারণ এখানে শুধুমাত্র তাদের যে লক্ষ্য সেই লক্ষ্যকে চরিতার্থ করতে চায়, তাদের বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় যে, একজন মাত্র ব্যক্তি তার একক  ঘোষণায়, তার একক কথায় দেশ মুহূর্তের মধ্যে স্বাধীন হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে একটি পত্রিকায় ছাপিয়েছে ৯ মার্চ ১৯৭১ সালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পল্টন ময়দানে কী বললেন। তিনি বললেন, স্বাধীনতা মেনে নিন ইয়াহিয়াকে ভাসানী। আর কাল বিলম্ব না করে স্বাধীনতা দিয়ে দিন। আজকে আওয়ামী লীগ ভাসানীকে স্মরণ করে না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘একজন মানুষের কথা, একজন মানুষের নির্দেশে এক মুহূর্তে দেশ স্বাধীন হয়ে গেছে সেটা সঠিক নয়। বছরের পর বছর, দিনের পর দিন যারা সংগ্রামের মাধ্যমে আত্মত্যাগের মাধ্যমে এই স্বাধীনতার ক্ষেত্রটাকে তৈরি করেছিলেন তাদেরকেই আজকে আমরা স্মরণ করি না। তাদের মধ্যে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী অন্যতম। তার বিষয়ে এককথায় বলে শেষ করা যাবে না। তিনি একজন কিংবদন্তির নায়ক। রাজনীতিতে একটি জাদুকরি বিষয় যেটা সেটা তার মধ্যে পাবেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই ভাসানী নাম কেন হয়েছে? এই মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তখন আসামের নির্যাতিত কৃষকদের পক্ষে আন্দোলনের জন্য সারা দেশে ছুটে বেড়াতেন। তখন  মোটরসাইকেল ছিল না, একটি ঘোড়া নিয়ে তিনি এখানে সেখানে  যেতেন এবং কিছুক্ষণ পরে ৫০ মাইল দূরে আরেক জায়গায় গিয়ে বক্তৃতা দিতেন এবং মানুষকে সংঘবদ্ধ করতেন। মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনকারী জমিদারদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেন। তিনি পাকিস্তানের পক্ষে ব্রিটিশ থেকে স্বাধীন হওয়ার জন্য লড়াই করেছেন, সংগ্রাম করেছেন। তিনি আসাম মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন, তার আগে কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। আজীবন তিনি  খেটে খাওয়া মানুষের জন্য লড়াই করেছেন, সংগ্রাম করেছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান  মোস্তফা জামাল হায়দার ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত