গত ৩ অক্টোবরে চতুর্থ মেয়াদে বাফুফের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার দ্বিতীয় দিন জেলাগুলোকে খেলা না চালালে কাউন্সিলরশিপ কেড়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন কাজী সালাউদ্দিন। জেলার ফুটবলের দায়িত্ব নিজের কাছে রেখে বুঝিয়েছিলেন এবার আর কোনো ছাড় দেবেন না। গতকাল জেলা ফুটবল লিগ কমিটির সভায় ফের জেলাগুলোকে নিয়মিত লিগ আয়োজনের কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন বাফুফে সভাপতি। তবে নির্বাচনে জেতার পর কাউন্সিলরশিপ কেড়ে নেওয়ার কথা বললেও কাল সেটা অস্বীকার করেছেন। ফিফা-এএফসি’র নির্দেশনার কথা বলে জেলাগুলোকে টিকে থাকতে খেলা আয়োজনের তাগিদ দিয়েছেন সালাউদ্দিন।
জেলার ফুটবলে অগ্রগতি জানতেই কাল কমিটির অন্য সদস্যদের নিয়ে বসেছিলেন বাফুফে সভাপতি। কয়েকটি জেলায় লিগ আয়োজনে বরাদ্দকৃত টাকা অন্য খাতে ব্যবহারের অভিযোগ কানে এসেছে তার। এসব অনিয়মের অভিযোগে বেজায় চটেছেন সালাউদ্দিন, ‘জেলা লিগের চিত্র মোটেই ভালো নয়। জেলাগুলো খেলার চেয়ে নির্বাচন নিয়েই বেশি আগ্রহী। সব জেলার চিত্র এমন নয়, তবে বেশির ভাগ জেলাই অকার্যকর। আমার কথা হলো, ফুটবল দেশের সর্বত্র হতে হবে। আপনারা যারা যেখানে আছেন, যে দায়িত্বে আছেন, আপনাদের কর্তব্য করেন। আমরা আমাদের কর্তব্য করব।’
জেলা-বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্থা মিলিয়ে বাফুফের সর্বশেষ নির্বাচনে কাউন্সিলর সংখ্যা ছিল ১৪৭। এর মধ্যে ভোটাধিকার ছিল ১৩৯ জনের। ফিফা-এএফসি প্রশ্ন তুলেছে কেন এত কাউন্সিলর? তাদের কাছে খবর আছে, অনেক জেলা নিয়মিত খেলা আয়োজন করে না। অনেক শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয়েরও কাউন্সিলরশিপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ফিফা। সালাউদ্দিন বলেন, ‘ফিফা বলেছে যারা খেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় তাদের না রাখতে। ওরা বলেছে তোমাদের গঠনতন্ত্রে অনেক গাফিলতি আছে। আমাদের অফিস এটাকে নিয়ে কাজ করছে। বেশি কাউন্সিলর মানে এজিএম করলে খরচও বেশি। কেন এত কাউন্সিলর, কেন এত কমিটি জানতে চায় ফিফা। তাই আমি বারবার বলছি, এখন বলি জেলার সংগঠকদের দায়িত্বশীল হতে হবে। জেলায় লিগ না হলে ফিফা-এএফসির কিছু যাবে আসবে না। কিন্তু জেলায় লিগ না হলে ভালো খেলোয়াড় আসবে না। আমরা এএফসি কাপ, বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলতে পারব না।’ যারা নিয়মিত লিগ করবে না তাদের কাউন্সিলরশিপ বাদ দেওয়ার অতীত হুঁশিয়ারি মনে করিয়ে দিলে সালাউদ্দিন বেমালুম তা অস্বীকার করে বলেন, ‘না না, আমি এটা বলিনি। আমি কখনো বলিনি কাউন্সিলরশিপ বাতিল করার কথা। এবং এটা আমার বলার অধিকারও নেই। জেলাগুলোকে আজ একটা বার্তা দিলাম যে খেলায় না থাকলে কঠিন কিছুই হবে। কারণ বিষয়টি ফিফার নজরে এসেছে। আপনারা নিশ্চিত করেন কাজ করছেন। নইলে ফিফার কাছ থেকে যে কোনো নির্দেশনাই আসতে পারে, তখন আমার কিছু করার থাকবে না।’
