‘জিনের বাদশা’র ফাঁদে নিঃস্ব খোকন-খালেক

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২১, ০২:৪৩ এএম

প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডির ঢাকা মেট্রো-পশ্চিমের একটি দল। গ্রেপ্তাররা হলোÑ কথিত জিনের বাদশা তরিকুল ইসলাম, তার সহযোগী আবদুল্লাহ বিশ্বাস, আল মাসুম ও সাইদুল ইসলাম ওরফে রাজু।

এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি প্রাইভেটকার, নগদ ১৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকা, দুটি ভেকু, টাকা তৈরির সাদা কাগজের বাক্স, মাজারের মাটি, লাল কালিতে আরবি লেখা কাগজ জব্দ করা হয়।

গতকাল বুধবার দুপুরে সিআইডি সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক।

প্রতারণার বিষয়ে তিনি জানান, ছোট খাবারের দোকান থেকে বড় রেস্টুরেন্টের মালিক হন শাহাদুজ্জামান খোকন। কিন্তু তিনি  আরও দ্রুত ধনী হতে চেষ্টা করছিলেন। এরই মধ্যে রেস্টুরেন্টের নিয়মিত কাস্টমার আবদুল খালেকের সঙ্গে আলাপে কথিত জিনের বাদশা তরিকুল ইসলামের সন্ধান পান। আবদুল খালেক তার চিকিৎসায় স্ত্রী ও ছেলে কিছুটা সুস্থ হলে বিশ্বস্ত হন। কৌতূহল থেকে খোকন একটি বালতি কিনে এনে তাকে দেন। এরপর পানি ও টুথপেস্ট ভর্তি সেই বালতি থেকে ১৫ হাজার টাকা বানিয়ে দেখান তরিকুল। এতে খোকন এবং আবদুল খালেক লোভে পড়ে যান। জিনের বাদশার আশ্বাসে ৬ কোটি টাকা বানানোর জন্য দুজন মিলে ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা দেন। সর্বশেষ ২ লাখ টাকা দিতে খোকন স্ত্রীর গহনা বিক্রি করতে গেলে দেখা দেয় বিপত্তি। ঘরে থাকা টাকা বানানোর বাক্স স্ত্রী ভেঙে ফেললে তাতে কাগজ ছাড়া কিছুই পাওয়া যায়নি। প্রতারণার শিকার হয়ে সিআইডিতে অভিযোগ করলে ফাঁদ পেতে তরিকুল ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও জানান, খোকন ও আবদুল খালেক চাহিদা দিলে তরিকুল তাদের ৬ কোটি টাকা বানানোর পথ বাতলে দেন। এজন্য শর্ত দেন, পৃথিবীতে যত মসজিদ আছে, তার সবগুলোতে একটি করে কোরআন শরিফ কিনে দিতে হবে। আর এগুলো কিনতে ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লাগবে। তরিকুলের কথায় বিশ্বাস করে ৬ কার্টন এ-ফোর সাইজের সাদা কাগজ কিনে আনেন তারা। এরপর তরিকুল তাদের কার্টন দিয়ে বলেনথ যতদিন ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা দিতে পারবেন না, ততদিন এটি খোলা যাবে না। এভাবেই আবদুল খালেক দফায় দফায় ১ কোটি ১৩ লাখ এবং খোকন ৫৩ লাখ টাকা জমা দিয়ে প্রতারণার শিকার হন।

খোকন সাংবাদিকদের বলেন, ‘কৌতূহল থেকে লোভে পড়ে গাড়ি, জমাজমিসহ সব সম্পদ বিক্রি করে প্রতারক চক্রকে টাকা দিয়েছিলাম। স্ত্রীর গহনা বিক্রি করতে চাইলে তার কল্যাণে কথিত জিনের বাদশার প্রতারণা বুঝতে পারি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত