নিরাপত্তা বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে করোনা সনদ বাধ্যতামূলক

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২১, ০২:৫১ এএম

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশ নিতে করোনা নেগেটিভ সনদ লাগবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, এই সনদ ছাড়া কাউকে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অতিথিদের কঠোর নিরাপত্তা দেওয়া হবে। গতকাল বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে গঠিত নিরাপত্তাবিষয়ক উপকমিটির সভা শেষে কমিটির আহ্বায়ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে আগামী ১৭ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ১০ দিনব্যাপী ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন হবে। অনুষ্ঠানস্থলে নিরাপত্তার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তাবিষয়ক উপকমিটি নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠানে কভিড-১৯ মহামারীর কারণে সরকারের নেওয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সবাইকে অনুষ্ঠানস্থলে গেলে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। সনদ ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে চলতি মাসে ঢাকা সফরে আসবেন দক্ষিণ এশিয়ার চার শীর্ষ নেতা। তাদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারি, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম মোহামেদ সলিহ এবং শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। বিদেশি কূটনীতিকদের অনুষ্ঠানে আনা-নেওয়ার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিদেশি অতিথিদের যাতায়াত এবং যেসব হোটেলে তারা অবস্থান করবেন, সেগুলোর ভেতরে ও বাইরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সব অনুষ্ঠানে গোয়েন্দা নজরদারি থাকার কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানে অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিস রাখা হবে। থাকবে জরুরি মেডিকেল সাপোর্টও। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সমন্বয়ের জন্য একটি কন্ট্রোল রুম থাকবে। অনুষ্ঠানস্থলে সব ধরনের ইউটিলিটি সেবা থাকবে। এ ছাড়া মশক নিধনের ব্যবস্থা করা হবে।

যানজট এড়াতে এ সময় ছুটি দেওয়ার ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘এটা নিয়ে আমাদের পুলিশ প্রধানসহ নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করবে। তারা অনুষ্ঠানের আগে সুনির্দিষ্টভাবে জানিয়ে দেবে, কীভাবে যান চলাচল করবে, কোন রাস্তা কতক্ষণের জন্য বন্ধ থাকবে।’

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যে আয়োজনটা করছি এখানে সীমিত আকারে করছি। যেহেতু স্বাস্থ্যবিধি মেনে করতে হচ্ছে সেজন্য বড় আকারে জনসমাগম করা হচ্ছে না। পুরো অনুষ্ঠানটি সারা পৃথিবীতেই সম্প্রচার করা হবে, সেভাবে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এটা বড় ধরনের প্রোগ্রাম এবং সবাই যাতে দেখতে পারে। সেজন্য একটা প্রোডাকশন টিমও এটার জন্য কাজ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, সেজন্য যারা দাওয়াত পাবেন আমরা প্রত্যেককে বলে দিচ্ছি কভিড টেস্ট করতে হবে, এটা বাধ্যতামূলক। এটার মেয়াদ থাকবে ৪৮ ঘণ্টা। নেগেটিভ রিপোর্টটা তারা সঙ্গে নিয়ে আসবেন। যাতে সেখানে অন্য কোনো পরিস্থিতি না হয়। আমরা কভিড পরিস্থিতিতেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুন্দর অনুষ্ঠান করতে চাই। আমরাও দেখাতে চাই, এই রকম একটা অনুষ্ঠান করার সক্ষমতা এই রকম পরিস্থিতিতে আমাদের আছে।’

কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী আরও বলেন, ‘১০ দিনের অনুষ্ঠানে ফিজিক্যালি হচ্ছে চার দিন। ওই চার দিনের অনুষ্ঠানেই আমন্ত্রিত অতিথিরা থাকবেন। বাকি ছয় দিন অনুষ্ঠানটি সরাসরি করব। সেখানে কাউকে আমরা আমন্ত্রণ জানাচ্ছি না। তবে চার দিনের অনুষ্ঠানও সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। এখন পর্যন্ত এভাবেই অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে।

কয়টি দেশ থেকে আমন্ত্রিতরা এ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন জানতে চাইলে প্রধান সমন্বয়ক বলেন, ‘বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানরা এবং বিশিষ্টজনরা ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সম্পৃক্ত হবেন। প্রতি মুহূর্তে অনেকে আসার আগ্রহ প্রকাশ করছেন, যেটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমাদের জানিয়েছে। আমরা বিষয়টি হয়তো জানিয়ে দেব, পরবর্তী দিন কারা সংযুক্ত থাকছেন। এতে সবার দেখার আগ্রহও থাকবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত