এক বছরে দুই জাতীয় লিগ

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২১, ০১:৩০ এএম

করোনার কারণে নষ্ট হওয়ার একটি বছর পুষিয়ে নেওয়ার পূর্ণ চেষ্টায় বিসিবি। তাই একই বছর দুটি জাতীয় লিগ আয়োজন করতে যাচ্ছে তারা। ২২ মার্চ থেকে শুরু হবে শীর্ষ ঘরোনা ফার্স্ট ক্লাস প্রতিযোগিতা জাতীয় লিগের ২২তম আসর। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে ছয়টি রাউন্ডের খেলা। এরপর ১৫ অক্টোবর থেকে ২৫ নভেম্বর হবে ২৩তম আসর। এছাড়া একই বছর বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) এর নবম আসরও হবে। চার জোনের তিন রাউন্ডের এই টুর্নামেন্ট হবে ১ ডিসেম্বর থেকে ৭ জানুয়ারি, ২০২২ পর্যন্ত। শুধু তাই নয় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগও হবে এই লম্বা ফরম্যাটের আসরগুলোর মাঝে। ২০১৯-২০ মৌসুমের স্থগিত প্রিমিয়ার লিগ ৬ মে থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। এক কথায় ঘরোয়া ক্রিকেটারদের সময়ের সেরা ব্যস্ততায় কাটবে এই বছর। করোনার কারণে গত বছর যারা হতাশ ছিলেন তাদের মুখে এবার চওড়া হাসি। ২২ মার্চ থেকে বলা যায় লম্বা সময়ের জন্যই ব্যস্ততায় কাটবে ঘরোয়া ক্রিকেটারদের।

আসন্ন জাতীয় লিগের দুই আসরের জন্য ইতিমধ্যেই দল তৈরি হয়েছে বলে জানান প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। গতকাল বিভাগীয় দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন তারা। আলোচনা শেষে নান্নু জানান, ‘আমরা দলগুলো তৈরি করতে অধিনায়ক ও কোচের সঙ্গে আলোচনা করেছি। সে জন্যই আজ বসেছিলাম। আমরা ৮টা ডিভিশনের সঙ্গে বসেছি এবং মোটামুটি ১৮ জন করে দল তৈরি করে দিয়েছি। জাতীয় লিগ ২২ তারিখ থেকে একটা দেওয়া আছে। এখন করোনা টিকা কবে নেয় সেটার ওপর নির্ভর করছে। আমরা আমাদের কাজ এগিয়ে রেখেছি। দলগুলো প্রায় প্রস্তুত করে দিয়েছি যেন অনুশীলন শুরু করে দিতে পারে।’

দীর্ঘ বিরতি শেষে অনেক ক্রিকেটারই নতুন করে মাঠে ফিরতে যাচ্ছেন। তাই তাদের জন্য জড়তা কাটিয়ে ওঠার বিষয় থাকবে। তাই উইকেট কঠিন করে প্রস্তুত হবে না সহজ এমন প্রশ্নে নান্নু জানালেন সবাই যেন ভিন্ন উইকেটে মানিয়ে নিতে পারে সেই ব্যবস্থা থাকবে। হবে চ্যালেঞ্জিং উইকেট, ‘যেহেতু এক বছর কোনো ঘরোয়া ক্রিকেট হয়নি, সব মাঠেই কিন্তু নতুন করে খেলা শুরু হচ্ছে। সেই হিসেবে আমরা অবশ্যই ভালো উইকেট চাচ্ছি। এটাই প্রত্যাশা করছি এনসিএলের চারটি ভেন্যু থেকে। আশা করছি অন্তত দুটো ভেন্যুতে দুই রকমের খেলা হবে। যেন একটা দল দুই ভেন্যুতে দুই রকম উইকেট পায়। সবাই যেন সব ধরনের উইকেটে অভ্যস্ত হয়। যেহেতু উইকেটগুলো একদম ফ্রেশ পাচ্ছি, এক বছর খেলা হয়নি। আশা করছি চ্যালেঞ্জিং উইকেটই পাব।’

নিউজিল্যান্ড সফরে থাকায় জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা জাতীয় লিগের পুরো আসর খেলতে পারবেন না। দেশে ফিরেই শ্রীলঙ্কায় টেস্ট সিরিজের জন্য ১২ এপ্রিল দেশ ছাড়বেন তারা। হতে পারে একটা রাউন্ড খেলার সুযোগ পাবেন তারা। টেস্ট দলের সদস্যরাই জাতীয় লিগে খেলার সুযোগটা পাবেন বলে জানালেন নান্নু, ‘তৃতীয় রাউন্ড হবে ৫ এপ্রিল থেকে। আমরা আলোচনা করছি। যারা নিউজিল্যান্ড থেকে আসার পর এক রাউন্ডের জন্য ফাঁকা থাকবে, শ্রীলঙ্কা যাওয়ার আগে যদি একটা রাউন্ড খেলা যায়, আমরা সেই চেষ্টা করব।’

এতে শঙ্কা থাকছে লম্বা ফরম্যাটের প্রস্তুতি না নিয়েই শ্রীলঙ্কায় টেস্ট খেলতে যেতে হবে ক্রিকেটারদের। নান্নু তাই তাকিয়ে আছেন শ্রীলঙ্কার প্রস্তুতির দিকে। সেখানেই লাল বলে মানিয়ে নেওয়ার আশা করছেন তিনি, ‘লাল বল সাদা বলের ক্রিকেটটা সম্পূর্ণ আলাদা। একটা পার্থক্য তো আছেই। তারপরও শ্রীলঙ্কা গিয়ে যথেষ্ট সময় পাবে। আমরা যদি একটা তিনদিনের ম্যাচ খেলতে পারি এবং লাল বলে যথেষ্ট অনুশীলন করতে পারি, তাহলে মানিয়ে নিতে সমস্যা হবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত