টিকা নেওয়ার এক মাসের মাথায় করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।
মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পৃথক শোক বার্তায় তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ) আসনে টানা তৃতীয়বারের এমপি, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব। তিনি গত ৭ মার্চ থেকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি কভিড-১৯-এর টিকা নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত সচিব জুলহাস আহমেদ।
তিনি আরও জানান, ৭ মার্চ রাতে মাহমুদ উস সামাদ সিলেট থেকে ঢাকায় আসেন। ঢাকায় আসার পথে বিমানেই অসুস্থ বোধ করায় ওইদিনই তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন সকালে করোনার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর বিকেলে তার পজিটিভ ফল আসে। এরপর থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়।
জুলহাস আহমেদ বলেন, সাংসদ কয়েস গত ১০ ফেব্রুয়ারি করোনা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন। টিকাগ্রহণের পর তার শরীরে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়নি। টিকাগ্রহণের এক মাসের মাথায় তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন।
সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ স্ত্রী, এক ছেলে ও আত্মীয়স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে সিলেটসহ নিজ নির্বাচনী এলাকা দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষ শোকাহত হয়ে পড়েছেন। গত বছর মার্চে করোনা মহামারী শুরুর পর লকডাউনের সময় তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালান। সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন এ ধনাঢ্য সাংসদ। করোনাকালে তার ত্রাণ তৎপরতা প্রশংসিত হয়েছিল।
মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। পৃথক শোক বার্তায় তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
এদিকে মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের লাশ আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় হেলিকপ্টারে তার গ্রামের বাড়ি ফেঞ্চুগঞ্জে নিয়ে আসা হবে বলে জানা গেছে। এরপর বিকেল ৫টায় ফেঞ্চুগঞ্জের কাসিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।
আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সিলেট-৩ আসনে নির্বাচন করে হেরেছিলেন। এরপর ২০০৮, ’১৪ ও ’১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি টানা তিনবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সাংসদ নির্বাচিত হন।
