নির্যাতনের বিচার চেয়ে মামলা

কার্টুনিস্ট কিশোরকে শাবাশ দিলেন মির্জা ফখরুল

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২১, ০২:৫৬ এএম

নির্যাতনের অভিযোগ এনে বিচার চেয়ে আদালতে কার্টুনিস্ট কিশোর যে মামলার আবেদন করেছেন সে জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাদেরকে কিশোরের মতো সাহস নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে কটূক্তি ও খেতাব বাতিলের চেষ্টা, লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু, সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের’ দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন কার্টুনিস্ট কিশোরকে কী নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, মুশতাক আহমেদ কারাগারে মৃত্যুবরণ হয়েছেন। আমি শাবাশ দিতে চাই কার্টুনিস্ট কিশোরকে যে, অত্যাচারের বিরুদ্ধে সে মামলা করেছে। এই সাহস নিয়ে সবাইকে  বেরিয়ে আসতে হবে। এই অন্ধকার ও স্বৈরাচারকে দূর করতে হবে। আমাদের সোচ্চার হতে হবে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের সরকার নয়। আগের রাতে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতা দখল করে আছে। তাদের বিরুদ্ধে যাতে কেউ কিছু বলতে না পারে সে জন্য এই আইন করা হয়েছে। তাই অবিলম্বে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল করতে হবে। এই আইনে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের সবাইকে মুক্তি দিতে হবে।’

গত বুধবার নির্যাতনের অভিযোগ এনে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ  কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলার আবেদন করেছেন। কিশোর নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে আদালতের কাছে এর বিচার চান। কিশোরের মামলার আবেদনের বিষয়ে দুই-এক দিনের মধ্যে আদেশ দেওয়া হবে বলে আদালত জানিয়েছে।

এদিকে বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে সকাল ৯টা থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের চারপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী  মোতায়েন করা হয়। মৎস্য ভবন মোড়, কদম ফোয়ারা মোড়,  তোপখানা ও সচিবালয়ের সড়কসহ আশপাশের সড়কে বসানো হয় ব্যারিকেড। সচিবালয়ের কাছে রাখা হয় জলকামানের গাড়ি ও সাঁজোয়া যান। সকাল সাড়ে ১০টায় সমাবেশ শুরু হলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান  সোহেলসহ শতাধিক নেতাকর্মীর অবস্থান ছিল। এই সড়কের যান চলাচলও পুলিশ একপর্যায়ে বন্ধ করে দেয়। সমাবেশ থেকে বলা হয়, এই সমাবেশ হবে সংক্ষিপ্ত। সাড়ে ১১টার আগেই সমাবেশ শেষ হয় বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে।

সমাবেশে নেতাকর্মীদের আসতে বাধা দেওয়ায় বিএনপি মহাসচিব সরকারকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘আপনারা এত ভয় পান কেন, অনুমতি দেওয়ার পরও কেন চতুর্দিকে বন্ধ করে দিয়ে আমাদের  নেতা-কর্মী-সমর্থকদের আসতে বাধা দিচ্ছেন? কারণ, আপনারা জানেন, জনগণ জেগে উঠলে আপনাদের ক্ষমতায় থাকা সম্ভব হবে না।’ সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘কোনো কিছু দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের আটকে রাখা যাবে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমাদের  যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) যারা সমস্ত নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে তাকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে নতুন ইসি গঠন করতে হবে। এই সরকারকে অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগ করতে হবে এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, নিরপেক্ষ ইসির পরিচালনায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের পার্লামেন্ট ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে এবং দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার ও আবদুল আলিম নকির পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিএনপি নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, নাজিম উদ্দিন আলম, আবদুস সালাম আজাদ, মহানগর উত্তরের বজলুল বাসিত আনজু, এ জি এম শামসুল হক, যুবদলের এস এম জাহাঙ্গীর, এস এম জিলানী, গোলাম মাওলা শাহিন, শ্রমিক দলের সুমন ভুঁইয়া, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত