যুক্তরাজ্যের আদালতের রায়

জাহাজ মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে শ্রমিকরা

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২১, ০৩:৪৬ এএম

কোনো ব্রিটিশ জাহাজ ভাঙার সময় বাংলাদেশি শ্রমিক আহত বা নিহত হলে মামলা করতে পারবে তাদের পরিবার। সম্প্রতি ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের আপিল বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি রায় দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশি জাহাজভাঙা শ্রমিকদের ব্যাপারে জাহাজ বিক্রয়কারী লন্ডনভিত্তিক একটি শিপিং কোম্পানির আপিলের ভিত্তিতে ওই রায় দেওয়া হয়। বিশে^র প্রথম কোনো আদালত এ ধরনের রায় দিয়েছে বলেও গার্ডিয়ানের খবরে উল্লেখ করা হয়।

আদালতের ওই রায়ে ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে তিন লাখ টনের একটি জাহাজ ভাঙার সময় শ্রমিক খালিদ মোল্লার মৃত্যুতে তার স্ত্রী হামিদা বেগমকে মামলা করার অধিকার দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ আদালতের এই রায়ে বাংলাদেশের অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে জাহাজভাঙা শিল্পের মান আরও উন্নতর হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৫ বছরে চট্টগ্রামে জাহাজভাঙা শিল্পে অন্তত ২১৬ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে চলতি বছরেই নিহত হন ৭ জন। এ ছাড়া অনেক শ্রমিক গুরুতর আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। নোংরা, বিপজ্জনক এবং অনিশ্চিত কাজের পরিবেশের জন্য চট্টগ্রামের কুখ্যাতি রয়েছে। তার ওপর শিপিং কোম্পানিগুলো শেষ মুহূর্তে জাহাজের মালিকানা পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়ার মাধ্যমে শ্রমিকদের প্রতি দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ পায়। পাশাপাশি তারা করছাড়ের সুবিধাসহ মধ্যস্বত্বভোগীদেরও ব্যবহার করে।

জাহাজভাঙা শিল্পে ওপর থেকে পড়ে, বিস্ফোরণে ও দুর্ঘটনায় প্রতি বছর শত শত শ্রমিক নিহত ও আহত হচ্ছেন, যাদের অধিকাংশই চুক্তিবিহীনভাবে কাজ করেন। এ ছাড়া জাহাজ থেকে নির্গত পরিত্যক্ত তেল, সিলিকেট খনিজ ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল দ্বারা সমুদ্রতীরবর্তী পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে। এসবের ফলে এখানে বছরব্যাপী কর্মরত শ্রমিকরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

লন্ডনভিত্তিক আইনি সংস্থা ‘ল ডে’ বলছে, এমন পরিবেশে হানিফ মোল্লার নিহত হওয়ার ঘটনা প্রত্যাশিত ছিল। ব্রিটিশ জাহাজ কোম্পানি মারানের এ ধরনের কাজে ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা থাকা উচিত ছিল। ‘ল ডে’ জানায়, মারান বাংলাদেশের শ্রম আইনের দুর্বলতাগুলো কাজে লাগিয়েছে। জাহাজ মালিকদের জন্য বাংলাদেশের মতো কাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে জাহাজ ভাঙার জন্য উচ্চদামে জাহাজ কেনা কতটা যুক্তিসংগত তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে ‘ল ডে’। তবে মারান জানায়, জাহাজ বিক্রি করে দেওয়ার পর তারা জানে না যে জাহাজটি কোথায় ভাঙা হবে। সুতরাং এসব ঘটনায় তাদের কিছু করার থাকে না।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেছেন, আপিলকারীকে যথাযথভাবে খোঁজ নিয়ে নিরাপদ ইয়ার্ডে জাহাজ বিক্রি করা উচিত ছিল, যেখানে কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়। জাহাজভাঙাসংক্রান্ত বেসরকারি সংস্থার তথ্যমতে, প্রতি বছর ৮০০ জাহাজ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়। আর এসব জাহাজ বাংলাদেশ, ভারত অথবা পাকিস্তানে ভাঙার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও প্রচলিত নিয়ম অনুসারে মেয়াদোত্তীর্ণ জাহাজগুলোর মালিক ও জাহাজভাঙা শিল্পের মালিকদের মাঝে সরাসরি কোনো লেনদেন হয় না। ক্রেতারা এর ঝুঁকি বহন করে। ‘ল ডে’র পরিচালক মার্টিন ডে আপিল বিভাগের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ডের আদালত এটি প্রমাণ করেছে যে লন্ডনের আদালতে যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত