খেলার মাঠে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ। এই দুটি দলেই খেলেছেন এমন খেলোয়াড়ও আছেন। বার্সেলোনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির চুক্তি শেষ হবে এই জুনে। মেসির পরবর্তী সম্ভাব্য দল হিসেবে পিএসজি, ম্যানচেস্টার সিটির নাম শোনা যায় প্রায়ই। কিন্তু মেসির পরবর্তী গন্তব্য যদি হয় রিয়াল মাদ্রিদ তাহলে কেমন হবে? রিয়াল অধিনায়ক সার্জিও রামোস বলেছেন, মেসি রিয়ালে এলে তাকে স্বাগত জানাবেন। এমনকি দরকার হলে মেসিকে তিনি নিজ বাড়িতে রাখতে চান!
ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে আছেন রামোস। রিয়াল অধিনায়কের চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ৩০ জুন। মেসির মতো তিনিও এখনো নতুন চুক্তি করেননি। সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকারে রামোস জানিয়েছেন, ‘কিছু জানাতে পারলে (চুক্তির বিষয়ে) আমারও ভালো লাগত। কিন্তু এখনো নতুন কিছুই হয়নি। আমি এখন শুধু ইনজুরি থেকে ফেরার অপেক্ষায় আছি এবং ভালোভাবে মৌসুমটা শেষ করতে চাই। চুক্তি নবায়নের বিষয়ে যখন খবর আসবে, আমিই সবার আগে জানাব।’ গেল বুধবার দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন রামোস। চ্যাম্পিয়নস লিগ প্রি-কোয়ার্টারের দ্বিতীয় লেগে ফেরার সম্ভাবনা আছে তার।
রামোস দলবদল করলে বার্সেলোনাতে যাবেন না সে কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। তবে মেসি রিয়ালে এলে তাকে স্বাগত জানাবেন রামোস। ‘মেসিকে (রিয়াল মাদ্রিদে) স্বাগত জানাতে পারলে আমি খুশি হব। দরকার হলে প্রথম কয়েক সপ্তাহ আমি তাকে আমার বাড়িতে রাখার ব্যবস্থা করব।’ মেসি রিয়াল মাদ্রিদকে ভুগিয়েছেন এমন ম্যাচের সংখ্যা কম নয়। মেসির পেশাদার ক্যারিয়ারে বার্সার হয়ে প্রথম হ্যাটট্রিকও রিয়ালের বিপক্ষেই, সেটি ছিল ২০০৭ সালের ১০ মার্চ। রামোস আরও বলেন, ‘তার (মেসির) সেরা সময়ে আমাদের অনেক ভুগতে হয়েছে। তাই তার মুখোমুখি না হতে হলে সেটা ভালোই লাগবে। সে আমাদের আরও অনেক ট্রফি জিততে এবং সাফল্য পেতে সাহায্য করবে। আমি যদি উল্টোটা বলি, তাহলে সেটা ভুল হবে।’
রামোস তার নিজের বার্সাতে যোগ দেওয়া সম্পর্কে বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। হুয়ান লাপোর্তার (বার্সা সভাপতি) প্রতি আমার ভালোলাগা আছে। কিন্তু জীবনে কিছু কিছু জিনিস থাকে যা টাকা দিয়ে কেনা যায় না। আপনি জাভি (হার্নান্দেজ) কিংবা (জেরার্দ) পিকেকে কখনো রিয়াল মাদ্রিদে দেখতে পাবেন না!’ রামোস যদি বুঝেই থাকেন জাভি, পিকেরা রিয়ালে যোগ দেবেন না; তবে মেসিকে রিয়ালে প্রত্যাশা করাটা কি রসিকতাই করেছেন রামোস।
রিয়ালের বর্তমান কোচ জিনেদিন জিদান অনেকবারই প্রশংসা করেছেন স্বদেশি কিলিয়ান এমবাপের। অনেকে এখন এমবাপের সঙ্গে তুলনা করছেন নরওয়ের আর্লিং ব্রট হালান্ডকে। এই দুজনকে রিয়ালে দেখা সম্পর্কে রামোস বলেন, ‘তাদের দুজনকেই স্বাগত জানাব। তবে যদি এমন হয় তাদের মধ্যে একজন আসবে, তবে হালান্ডকে দলে আনাটা সহজ হবে। এমবাপের বেলায় অর্থনৈতিক বিষয়টিও ভাবতে হবে। হালান্ড গোলের জন্য ক্ষুধার্ত। তাই তাকে দলে ভেড়ালে মন্দ হবে না।’
