বিয়ের নামে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অভিনেত্রী ও মডেল রোমানা ইসলাম স্বর্ণা ও তার দুই সহযোগীকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। সৌদি প্রবাসী কামরুল ইসলাম জুয়েলের করা মামলায় তাদের তিনজনকে এক দিন কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল শুক্রবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম মাহমুদা আক্তার এ আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এ জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করতে হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার লালমাটিয়ার বাসা থেকে স্বর্ণা, শেলী ও আন্নাফিকে গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন সৌদি আরব প্রবাসী কামরুল ইসলাম।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক দুলাল হোসেন তিনজনের পাঁচ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। এ সময় আসামিপক্ষে আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাদের রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচ করে আসামিদের এক দিনের জন্য জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।
এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন আশরাফি ইসলাম শেলী (৬০), নাহিদ হাসান রেমি (৩৬), আন্নাফি (২০), ফারহা আহম্মেদ (৩০) ও অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবক (৩৭)।
বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাতে প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন স্বর্ণা। রোমানা স্বর্ণার সঙ্গে ফেইসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয় সৌদি প্রবাসীর। এরপর বিভিন্ন সময় হোয়াটসঅ্যাপ-মেসেঞ্জারে তারা যোগাযোগ করতেন।
কামরুল হাসান জুয়েল বলেন, ‘আমার খালাতো ভাইয়ের মাধ্যমে স্বর্ণার সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয় হওয়ার একপর্যায়ে সে ফেইসবুকে আমাকে যুক্ত করে। সে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে। সে বলে আমার মাকে নিয়ে আমি অসহায় অবস্থায় আছি। আমার একটা ছেলে আছে, লেখাপড়া করাতে পারি না। মিডিয়াতে কাজ হয় না। এক কাজ করো আমাকে তুমি একটা উবার কিনে দাও, যেটা দিয়ে আমি চলতে পারব। আমি ১৮ লাখ টাকা দিয়ে উবার কিনে দিই। আমার সর্বমোট ২ কোটি টাকার মতো নিয়েছে।’
পুলিশ জানায়, অভিনেত্রী স্বর্ণা একটি প্রতারকচক্রের হয়ে কাজ করে আসছে দীর্ঘদিন। প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক, পরে হেনস্থার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করে থাকে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও জোনের উপপুলিশ কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, ‘ভুক্তভোগী জুয়েল বিদেশ থেকে আসার পর মডেল, অভিনেত্রী রোমানার বাড়িতে যান। সে সময় এই প্রতারকচক্র তাকে আবারও প্রতারণা করার জন্য নগ্ন করে ছবি তুলল। এরপর তাকে বলে তুমি যদি আরও টাকা না দাও তাহলে এই ছবি ফেইসবুক ও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেব। সেই ভয়ে ভুক্তভোগী আরও টাকা দেন।’
পুলিশ জানায়, স্বর্ণা ও তার দলের প্রতারণার শিকার হওয়া অনেকেই নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার বিষয়ে তুলে ধরেছে। কমপক্ষে দুই ডজন ব্যক্তি স্বর্ণার প্রতারণার শিকার হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
