২২তম জাতীয় লিগ শুরু হতে আর হাতেগোনা দিন বাকি। আগামী সপ্তাহ থেকেই বিভাগীয় দলগুলোর অনুশীলন শুরু হবে। বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণি ক্রিকেটের প্রসঙ্গ এলেই সামনে আসবে দুটি নাম। তুষার ইমরান ও আবদুর রাজ্জাক। রাজ্জাক থেমেছেন। তুষার
থামবেন কবে? ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বয়সী হিসেবে ২০১৯ সালে ৪৩ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণিকে বিদায় বলেন মার্কাস ট্রেসকোথিক। বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণিতে তুষার ইমরানের রানের রেকর্ড আছে। বয়সের দিক থেকেও সবার চেয়ে এগিয়ে। তাহলে কি আরও দূর যেতে চান? তুষারের সেই লক্ষ্য নেই। জানালেন, এই মৌসুম খেলেই থামবেন। তবে সামনে চ্যালেঞ্জ রেখেছেন ১২ হাজারের মাইলফলক ছোঁয়ার, যা থেকে আর ২৯৬ রান দূরে তিনি। গতকাল দেশ রূপান্তরের মুখোমুখি হয়ে এই লক্ষ্যের পাশাপাশি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় আক্ষেপের কথাও জানালেন।
চলতি মৌসুমে ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলো খেলতে চান তুষার। জাতীয় লিগ তো আছেই, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, সুযোগ পেলে বিসিএল তার লক্ষ্য। ‘এই মৌসুমটা খেলেই আমি অবসরে যাব। এর মধ্যে জাতীয় লিগ আছে, বিসিএলে যদি সুযোগ পাই তবে ওটা। আর প্রিমিয়ার ডিভিশন আছে। এগুলো খেলার ইচ্ছা আছে। এর মধ্যে ১২ হাজার রানের লক্ষ্যটা আছে। ওটা হলে আমি বেশ খুশি’ বলছিলেন তিনি।
২০০০-০১ সালে প্রথম শ্রেণিতে অভিষেক তুষারের। কিন্তু লম্বা এই ক্যারিয়ার নিয়ে তুষার সন্তুষ্ট, তবে আক্ষেপ একটাই, এত রান করেও জাতীয় দলে আবার সুযোগ না পাওয়া। ৪১ ওয়ানডের পাশাপাশি ৫ টেস্ট খেলেছেন। রান ৮৯। শেষটি খেলেছেন ২০০৭-এ। ২০১৮ জাতীয় লিগে ৫ ম্যাচে ৫১৮ রান করেও ডাক না পাওয়ায় হতাশ হয়েছিলেন তিনি, ‘রান করে গেছি বলে এতদিন টিকেছি। রান না পেলে এত বছর কাটানো কঠিন হতো। রান করার পর যদি ওই সম্মানটা পেতাম। এর পুরস্কারটা তো পেলাম না। রান করার জন্য যদি ভালো জায়গায় (জাতীয় দল) সুযোগ দিত তাহলে বা আমার ক্যারিয়ারটা আরও দুই-তিন বছর লম্বা হতো, ভালো হতো। এটা আক্ষেপের বিষয়। রাজ্জাক কিন্তু সেবারই (২০১৮) অনেক উইকেট পাওয়ার পর জাতীয় দলে (শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি টেস্ট) সিরিজও খেলল। এখন তো বিসিবি থেকে ভালো প্রস্তাব পেয়ে অবসর নিয়ে নিল ও। ওই সময় (২০১৮) আমি কিন্তু ৯০ ভাগ শিউর ছিলাম যে আমি টেস্ট দলে থাকছি। কিন্তু কী কারণে যে সুযোগ পেলাম না। বলা হচ্ছিল যে কোন পজিশনে খেলাবে, কিন্তু দেখেন এখন শান্তকে খেলানোর জন্য মুমিনুলকে তার পজিশন ছাড়তে হয়েছে। ওই সুযোগটা যদি আমি পেতাম তাহলে কাজে লাগাতে পারতাম। আবার বলা হচ্ছিল ঘরোয়া ক্রিকেট ও আন্তর্জাতিকের পার্থক্য। এটা ঠিক আছে কিন্তু সুযোগ দিয়ে তো দেখতে পারত। টেস্ট দলে জায়গা তো থাকেই। এজন্য আক্ষেপ লাগে যে যেভাবে রান করেছি সেই রকম সুযোগটা পাইনি।’
তবে এখন আর জাতীয় দলের স্বপ্ন দেখেন না। এবার ক্যারিয়ারের শেষটা ভালো করতে চান, ‘এখন আর ওই স্পৃহাটা নেই। যেটা ২০১৮-তে ছিল যে জাতীয় দলে ফেরার। কিন্তু এবার সেটা ভাবছি না। তারপরও চিন্তা হলো ক্যারিয়ারের শেষটা ভালো করা। ১২ হাজার রান এবং অন্য খেলাগুলোতেও ভালো করে শেষ করতে চাই।’
খুলনা বিভাগ জাতীয় লিগে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। এর প্রস্তুতিতে ইয়ো ইয়ো টেস্ট দিয়ে রেখেছেন তুষার। তুলেছেন পাস মার্ক ১৬। কিন্তু তরুণদের সঙ্গে অভিজ্ঞদের বয়স অনুযায়ী ফিটনেসের স্কোরে পার্থক্য চান তিনি। এবার খুলনার শিরোপা ধরে রাখা বেশ চ্যালেঞ্জের হবে বলে মনে করেন তুষার। দলে রাজ্জাকের অভাব অপূরণীয় তার কাছে, ‘খুলনা বিভাগ থেকে কয়েক বছর পরপরই ক্রিকেটার বের হয়। আমাদের মধ্যে হয়ত রাজের (রাজ্জাক) জায়গাটা পূরণ হওয়া কঠিন কিন্তু আমার জায়গা মানে ব্যাটসম্যান খুলনা বিভাগে আছে। কারণ ইমরুল আছে, সৌম্য, মিঠুন আছে। ওরা যতদিন খেলবে খুলনার ব্যাটিং নিয়ে সমস্যা হবে না। তবে বোলিং জায়গাটা পূরণ হতে সময় লাগবে। কারণ, আমাদের দলে রাজের মতো স্পিনার নেই। আর লম্বা ফরম্যাটে তো বোলাররাই ম্যাচ জেতায়। গত ৭-৮ বছরে আমরা পাঁচবারই চ্যাম্পিয়ন ছিলাম। তো রাজ না থাকায় এই ধারাবাহিকতা রাখা হয়ত এবার কঠিন হতে পারে।’
পুরো ক্যারিয়ারে অনেক অর্জনই আছে তুষারের। যা নিয়ে তিনি নিজে খুশি। সবচেয়ে খুশি প্রথম হিসেবে ১০ হাজারের মাইলফলকে। তবে এই রেকর্ড ভাঙবে বলেও মনে করেন তিনি, ‘অর্জন বলতে প্রথম শ্রেণির শিক্ষাটা। শুরুতে তো তেমন বুঝতাম না। কিন্তু ৩০ বছরের পর থেকে অনেক কিছু শিখেছি। এ ছাড়া ১২ হাজার রান। এগুলো আমার অর্জন। আমি নিজেকে চ্যালেঞ্জ দেই যে একজন জাতীয় দলের ক্রিকেটারের চেয়ে আমাকে বেশি রান করতে হবে। তো সব মিলিয়ে আমি আমার ক্যারিয়ার নিয়ে সন্তুষ্ট। আর রানের রেকর্ড ভাঙা অনেক ব্যাটসম্যানের পক্ষেই সম্ভব। তবে এর জন্য দীর্ঘদিন খেলতে হবে, একই সঙ্গে রানও করতে হবে।’
