খুলনার এক আদালত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতা ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক রুহুল আমিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল রবিবার মহানগর দায়রা জজ শহিদুল ইসলাম জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। অ্যাডভোকেট বেগম আক্তার জাহান রুকু রুহুল আমিনের পক্ষে জামিন আবেদন করেন। এর আগে ১ মার্চ মহানগর হাকিম চতুর্থ আদালতের বিচারক আতিকুস সামাদ রুহুল আমিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন।
বেগম আক্তার জাহান রুকু বলেন, রুহুল আমিনের পক্ষে তার অনুপস্থিতিতে আমি জামিন আবেদন করি, কিন্তু আদালত সেটি নামঞ্জুর করে। পরবর্তী সময়ে নতুন করে আবেদনের পর তারিখ নির্ধারণ হবে।
অন্যদিকে গতকাল রবিবার বিকেল ৪টায় রুহুল আমিনের মুক্তির দাবিতে খুলনা প্রেস ক্লাবের সামনে শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতা ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, ‘সরকারের সমালোচনা করায় ওই আইনে লেখক মোশতাক আহমেদ ও কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দীর্ঘ ১০ মাসের মতো কারাগারে থাকার পর কারাগারেই মারা গেছেন মোশতাক আহমেদ। কিশোরের অবস্থাও ভালো নয়। আবার এটা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নতুন করে একই আইনে মামলার শিকার হয়েছেন রুহুল আমিন।’ বক্তারা অবিলম্বে রুহুল আমিনের মুক্তি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানান।
২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে খুলনা মহানগরীর গোয়ালখালীর কার্টুনিস্ট কিশোরের বাড়ি থেকে রুহুল আমিনকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময়ে একই বাড়ি থেকে ওই সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নিয়াজ মুর্শিদ দোলনকেও আটক করে পুলিশ। পরে ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে নিয়াজ মুর্শিদ দোলনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর ঐ রাতেই রুহুল আমিনের নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন খুলনা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক মো. নাহিদ হাসান।
মামলায় তার বিরুদ্ধে ফেইসবুক আইডি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি তথা সরকারের সুনাম ক্ষুণœ করাসহ বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে অপপ্রচার এবং জনগণের মধ্যে শত্রুতা, অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়।
