সংযুক্ত মাথা থেকে মুক্তি

মুজিববর্ষে রাবেয়া রোকেয়ার ঘরে ফেরা গর্বের : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২১, ০২:৫৯ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষে সংযুক্ত মাথার যমজ বোন রাবেয়া ও রোকেয়াকে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করে সুস্থ শরীরে বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াকে বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আজ রাবেয়া-রোকেয়া বাড়ি ফিরে যাবে, তাদের মা-বাবার কোলে হেসে-খেলে বেড়াবে এটা সত্যি খুব বড় পাওয়া। যেখানে আমরা মুজিববর্ষ উদযাপন করছি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে যাচ্ছি, ঠিক এই সময়ে এত বড় একটা সফল অস্ত্রোপচার করা এবং সফলতা অর্জন করা এটা বাংলাদেশের জন্য অনেক বিরাট অর্জন। মুজিববর্ষে জোড়া মাথা থেকে মুক্তি পাওয়া রাবেয়া-রোকেয়ার শুভ গৃহ প্রত্যাবর্তন সবার জন্য আনন্দের এবং গর্বের।’

প্রধানমন্ত্রী গতকাল রবিবার রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) সংযুক্ত মাথা থেকে মুক্তি পাওয়া রাবেয়া-রোকেয়ার গৃহ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সিএমএইচর অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

এ মাসে (মার্চ) বাঙালির ইতিহাসে অনেক কিছু ঘটেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই মাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগ্রহণ করেন, দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়, ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ভাষা আন্দোলন শুরু হয়েছিল, একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।’

প্রধানমন্ত্রী যমজ শিশুদের জিজ্ঞেস করেন তারা কেমন আছে? উত্তরে বাচ্চাদের একজন জানায়, সে ভালো আছে এবং সে প্রধানমন্ত্রীকে কেমন আছেন জিজ্ঞেস করায় প্রধানমন্ত্রী জবাব দেন তিনিও ভালো আছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ছোট বোন শেখ রেহানা তাকে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত খবর দেখিয়ে যমজ শিশুদের সম্পর্কে অবহিত করার পরে তিনি সংযুক্ত শিশুদের চিকিৎসার উদ্যোগ নেন। রাবেয়া-রোকেয়ার মতো যমজকে পৃথক করার মতো এক বড় অপারেশন বাংলাদেশে করার কারণ হলো, এখানকার চিকিৎসক এবং টেকশিয়ানদের একটা অভিজ্ঞতা হবে। ৪৮টি অপারেশন এবং ৩৬ ঘণ্টা ধরে অপারেশন করা, এটা বিরাট ব্যাপার। হাঙ্গেরি থেকে আসা চিকিৎসকদের দলটি এখানে দীর্ঘদিন অবস্থান করে অপারেশনটা করেছে। আর সব থেকে ভালো লেগেছে এরা প্রত্যেকেই খুব আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী সবার কাজের আন্তরিকতার প্রশংসা করে বলেন, ‘প্রত্যেকেই এত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন যে, এটা আমি ভাষায় বর্ণনা করতে পারব না। এখানে প্রতিটি ক্ষেত্রে অত্যন্ত পারদর্শী যারা তাদেরই একত্রিত করা হয়েছে। যাতে কোনো রকম ফাঁক না থাকে। সব যেন ঠিকমতো হয়। কারণ এটা একটা জটিল অপারেশন ছিল।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাবেয়া এবং রোকেয়া জোড়া মাথা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘ক্রেনিয় পেগাজ’। এ ধরনের ঘটনা মাঝে মাঝে দেখা গেলেও আমাদের দেশে এটি পৃথক করার ঘটনা সম্পূর্ণ নতুন।’ সেটি সফলভাবে করতে পারায় সংশ্লিষ্ট সবাইকেই আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘সিএমএইচ-এ দীর্ঘদিন অপারেশন এবং রাবেয়া-রোকেয়ার বাবা-মাকে সেখানে রাখা এবং এত বড় একটা অপারেশন করাটা একটা অত্যন্ত মানবিক কাজ, যা আপনারা করেছেন।’ তিনি রাবেয়া-রোকেয়ার জন্য সবার দোয়া কামনা করে বলেন, ‘আমি দেশবাসীরও দোয়া চাই তারা যেন সুস্থ থাকে, ভালো থাকে এবং বাবা-মায়ের মুখে আনন্দ নিয়ে আসতে পারে।’

২০১৯ সালের ১ আগস্ট দেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক মাইলফলক। এ দিনেই সিএমএইচ-এ ঢাকায় জোড়া মাথা পৃথককরণের জটিল অপারেশনটি শুরু হয়। হাঙ্গেরি সরকারের সহযোগিতায় ‘অ্যাকশন ফর ডিফেন্সলেস পিপল ফাউন্ডেশন’র সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাঙ্গেরিতে ছোট-বড় ৪৮টি অপারেশন করা হয়। পরবর্তী সময়ে শিশু দুটিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এই অপারেশনের সবচেয়ে জটিল অংশ যমজ-মস্তিষ্ক আলাদাকরণের কাজটি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, ঢাকায় করা হয়। এ ধরনের অপারেশন সারা বিশ্বেই বিরল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রথম। অপারেশন পরবর্তী সাফল্যও বিশ্বে খুব বেশি নেই।

পিএমও সূত্র জানায়, ঢাকা সিএমএইচ শিশু দুটির জন্য আজীবন চিকিৎসা সুবিধা কার্ড প্রদান করেছে যাতে ভবিষ্যতে সিএমএইচসহ যেকোনো সরকারি হাসপাতালে তারা বিনামূল্যে সব ধরনের চিকিৎসাসেবা পায়।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

২০১৬ সালের ১৬ জুলাই রাবেয়া  ও রোকেয়া এই দুই বোন সংযুক্ত মাথা নিয়ে পাবনার স্কুলশিক্ষক দম্পতি রফিকুল ইসলাম ও তাসলিমা খাতুনের ঘরে জন্মগ্রহণ করে। বাসস

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত