হত্যা কিংবা হুলিয়া উপেক্ষা করেই দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে মিয়ানমারে চলছে জান্তা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। শুরুর দিকে সেনা সরকার কিছুটা সহনশীলতা দেখালেও ধীরে ধীরে কঠোর হতে শুরু করে তারা। বিক্ষোভকারীরা ভয় না পেয়ে নিজেদের দাবি নিয়ে রাজপথে নামছেন প্রতিদিন। প্রতিদিনই তারা পুলিশ কিংবা সেনাসদস্যদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন সংঘর্ষে। গতকাল রবিবারও পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে নিহত হয়েছে অন্তত ১৬ জন। সব মিলিয়ে এ সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৯০। গ্রেপ্তারের সংখ্যাও আড়াই হাজারের বেশি। এরই মধ্যে গত শনিবার অং সান সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি পার্টির (এনএলডি) নির্বাচিত পার্লামেন্ট সদস্যদের মধ্যে যারা গ্রেপ্তার এড়িয়ে আত্মগোপন করতে সক্ষম হয়েছেন তারা একটি নতুন গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন। কমিটি ফর রিপ্রেজেন্টিং পাইডাংসু লুত্তাও বা সিআরপিএইচ নামে জোটটি ঘোষণা দিয়েছে, ক্ষমতাসীন জান্তার পতন ঘটাতে ‘বিপ্লব’ তারা চালিয়ে যাবে।
গতকাল দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে অন্তত ১৪ জন নিহত হন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বাগো শহরে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে আরেক তরুণ। উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় হপাকান্তে আরেক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কাচিন ওয়েভ।
গত মাসে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিয়ানমারে চলমান আন্দোলনে শনিবার পর্যন্ত ৯০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স। একই সময়ে ২ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
এদিকে অং সান সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি পার্টির (এনএলডি) নির্বাচিত পার্লামেন্ট সদস্যদের মধ্যে যারা গ্রেপ্তার এড়িয়ে আত্মগোপন করতে সক্ষম হয়েছেন তারা একটি নতুন গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর নাম কমিটি ফর রিপ্রেজেন্টিং পাইডাংসু লুত্তাও বা সিআরপিএইচ। মান উয়িন খাইং থান এর অস্থায়ী প্রধান নিযুক্ত হয়েছেন।
সিআরপিএইচ মিয়ানমারের বৈধ সরকার হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
শনিবার গোপন অবস্থান থেকে ফেইসবুকের মাধ্যমে দেওয়া ভাষণে খাইং থান বলেন, ‘এটি জাতির সবচেয়ে অন্ধকার মুহূর্ত কিন্তু নিকটেই ভোর।’
সিআরপিএইচ মিয়ানমারে একটি ফেডারেল গণতন্ত্র তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে। এর নেতারা দেশটির বৃহত্তম নৃগোষ্ঠীগুলোর সশস্ত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং ইতিমধ্যে কিছু গোষ্ঠী সিআরপিএইচের প্রতি সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এই বিদ্রোহী সশস্ত্র সংগঠনগুলো মিয়ানমারের বিস্তৃত বহু অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে রেখেছে। সিআরপিএইচ জান্তাকে একটি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ বলে ঘোষণা করেছে।
খাইং থান বলেছেন, ‘নিজেদের রক্ষার আইনি অধিকার যেন জনতার থাকে সেই লক্ষ্যে সিআরপিএইচ প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।’ ‘অন্তর্বর্তী জনপ্রশাসন দল’ মিয়ানমারের সরকারি প্রশাসন পরিচালনা করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলীয় মোনিওয়া পৌরসভা নিজস্ব স্থানীয় সরকার ও পুলিশ বাহিনী গঠনের ঘোষণা দিয়েছে।
