সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির বিদেশি অংশীদার আট বছর ধরে লভ্যাংশ না পাওয়ার অভিযোগ করেছে। এছাড়া বিদেশি অংশীদার এলআর ম্যানেজার্স ইনভেস্টমেন্টস, এলপি তার স্থানীয় অংশীদার এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলামের প্রতি উদ্বেগ ও অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) এমন অভিযোগ জানিয়েছে এলআর গ্লোবালের বিদেশি অংশীদার।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্কভিত্তিক বেসরকারি বিনিয়োগ সংস্থা এলআর ম্যানেজার্স ইনভেস্টমেন্টস, এলপির পক্ষে গ্যাভিন উইলসন এসইসিতে চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছেন, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশের ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ শেয়ারের মালিক এলআর ম্যানেজার্স ইনভেস্টমেন্টস। চিঠিতে বলা হয়েছে, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশের ৫২ দশমিক ৩ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে রিয়াজ ইসলামের হাতে।
এসইসিতে দেওয়া চিঠিতে অংশীদার সমস্যার সমাধান চেয়ে গ্যাভিন উইলসন জানিয়েছেন, ‘আমি এসইসিকে জানাতে চাই যে অংশীদার হিসেবে রিয়াজ ইসলামের উপযুক্ততা সম্পর্কে আমরা অনেক অভিযোগ পেয়েছি।’ এতে বলা হয়েছে, আমরা গত আট বছরে কোনো লভ্যাংশ পাইনি। যদিও এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ প্রতি বছর লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।
চিঠিতে অভিযোগ জানিয়ে বলা হয়েছে, ‘আমরা বহু বছর ধরে এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশের কাছ থেকে তাদের পরিচালন কার্যক্রম বা আর্থিক অবস্থা সম্পর্কিত কোনো তথ্য পাচ্ছি না। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলাম তার বিদেশি অংশীদারদের ক্ষতি করছেন। যদিও তিনি বাংলাদেশে ফার্মের পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠানটি থেকে বেতন, বোনাসের পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ব্যয় করে চলেছেন। আমাদের তহবিলের বেশিরভাগ উদ্যোক্তা রিয়াজ ইসলাম ও কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে এ জাতীয় উদ্বেগে রয়েছে।’
এসইসিতে দেওয়া চিঠিতে গ্যাভিন আরও বলেন, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশে রিয়াজ ইসলামের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আমাদের কয়েকজন উদ্যোক্তা উদ্বেগে রয়েছেন। সব শেয়ারহোল্ডারের বিশ্বাস এবং সমর্থন ফিরে পেতে আমরা সব উদ্যোক্তার সঙ্গে এমন উদ্বেগের বিষয়ে আলোচনা করব এবং এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশে রিয়াজ ইসলামের শেয়ার কেনার চেষ্টা করব।
বিদেশি অংশীদারদের অভিযোগ প্রসঙ্গে এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশের লিগ্যাল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স বিভাগের প্রধান মনোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, আমরা আমাদের বৈধ মালিকদের সব ধরনের তথ্য সরবরাহ করে আসছি। বিগত বছরগুলোতে আমরা বৈধ মালিকদের যে পরিমাণের লভ্যাংশ দিয়েছি, তা তাদের বিনিয়োগের ৩০০ গুণ বেশি।
যারা অভিযোগ জানিয়েছেন, তারা যে এ প্রতিষ্ঠানটির বৈধ মালিক তার কোনো প্রমাণ তারা দিয়েছেন কি না এমন প্রশ্ন রাখেন মনোয়ার হোসেন। তিনি আরও বলেন, বিদেশি অংশীদারের কাছ থেকে যেকোনো অভিযোগের বিষয়ে আমরা এখনো কোনো চিঠি পাইনি।
