কলকাতায় অমিত শাহর জনসভা ফাঁকা

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২১, ০১:১৪ এএম

পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রামে গত সাধারণ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছিল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। কিন্তু সেই ঝাড়গ্রামেই এবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপির শীর্ষ নেতা অমিত শাহর সভায় তেমন জনসমাগম হয়নি। সভাস্থল থেকে যে র‌্যালি হওয়ার কথা ছিল, লোক স্বল্পতার কারণে তাও হয়নি। সার্কাস ময়দানের অবস্থা দেখে সভা বাতিল করতে হলো। যদিও বিজেপির বক্তব্য,হেলিকপ্টার খারাপ হওয়ার জন্যই সেখানে যেতে পারেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এমন যে হতে পারে, মাস কয়েক আগেও তা ভাবা যায়নি। কিছুদিন আগে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডারও ঝাড়গ্রামে সভা করতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সভায়ও লোক হয়নি। শেষ মুহূর্তে সভা বাতিল করতে হয়েছিল। ঝাড়গ্রামে বিজেপির প্রার্থী এবং সাবেক জেলা সভাপতি সুখময় সতীপতি জানিয়েছিলেন, পরিবর্তন যাত্রা চলছিল বলে মানুষ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিলেন। সে কারণে ময়দানে লোক বেশি হয়নি। কিন্তু সোমবারের ঘটনার কী ব্যাখ্যা দেবেন তিনি?

সুখময়ের বক্তব্য, এদিন যথেষ্ট লোক এসেছিলেন। শাহ নামলেই মাঠ ভরে যেত। কিন্তু হেলিকপ্টারের গণ্ডগোলের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসতে পারেননি। বাস্তবে কিন্তু সে দৃশ্য দেখা যায়নি। শাহ না গেলেও তার ভার্চুয়াল বক্তৃতা শোনানো হয়েছে সভায়। সেখানেও শয়ে শয়ে ফাঁকা চেয়ার পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

গত সোমবারই বাঁকুড়ায় সভা ছিল শাহের। সেখানে তিনি পৌঁছেছিলেন। সেখানেও তেমন ভিড় চোখে পড়েনি। অথচ দুই বছর আগের ছবিটাই ছিল আলাদা। লোকসভা ভোটের আগে শাহের সভা দেখতে হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষা করত। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করত। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়ায় মানুষের ঢল নামত। এবারের ছবি তার সঙ্গে কোনোভাবেই মিলছে না।

সোমবার পশ্চিমবঙ্গে দুটি সভা করে আসামে ভোটের প্রচারে যাওয়ার কথা ছিল শাহের। সেখান থেকে দিল্লি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু আসামের সভা শেষ করে ফের কলকাতায় ফিরে যান তিনি। দলীয় নেতাদের নিয়ে রাতভর বৈঠক করেন।

বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই বৈঠকে লোক না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ কথা হয়েছে। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, তার কৈফিয়ত চেয়েছেন শাহ। এর আগে নাড্ডার সভায়ও একই ঘটনা ঘটেছিল। সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন। সোমবার সকালে দিল্লির উদ্দেশে চলে যান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত