জাপানের পতাকা মাথায় রেখে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের পতাকা চিন্তা করেছিলেন বলে মনে করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা। গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব উপলক্ষে এক ভিডিওবার্তায় শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মনে করতেন জাপানের উন্নয়ন মডেল অনুসরণযোগ্য।’
জাপানের জনগণের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন জানিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি দৃঢ় উদ্যোগ নিয়েছিলেন।’ বর্তমান সম্পর্কের বিষয়ে জাপানি প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়ে জাপানি শিশুরা ত্রাণ সংগ্রহের জন্য যেমন অত্যন্ত পরিশ্রম করেছে, তেমনি ১০ বছর আগে যখন জাপানে একটি বড় ভূমিকম্প হয়, তখন বাংলাদেশ ত্রাণ দিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘বিশ^াস, সহযোগিতা ও উভয়ের জন্য মঙ্গলজনক এ তিনটি জিনিসের ওপর ভিত্তি করে আমাদের প্রথাগত সম্পর্ক এখন আরও দৃঢ় ও মজবুত হয়েছে।’
স্বাধীনতার সময় থেকে সোনার বাংলা অর্জনে জাপান সহায়তা দিচ্ছে জানিয়ে ইয়োশিহিদে সুগা বলেন, ‘যমুনা সেতু, ১০০ টাকার ব্যাংক নোট, সোনারগাঁও হোটেল স্বাধীনতার পরপরই তৈরি হয়। বর্তমান সময়ে ঢাকায় রোড নেটওয়ার্কসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পে জাপান সহায়তা দিচ্ছে। এ ছাড়া ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরি করছে আঞ্চলিক কানেকটিভিটি বৃদ্ধির জন্য। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারত উপমহাদেশের মাঝখানে বাংলাদেশ অবস্থিত হওয়ায় এবং সাম্প্রতিক উন্নতির কারণে জাপানের কোম্পানিগুলোর বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক সামনের দিনগুলোয় আরও বৃদ্ধি পাবে আশা করে সুগা বলেন, ‘এই অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা এখন আমাদের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য আইনের শাসন ও কানেকটিভিটির ওপর ভিত্তি করে একটি স্বাধীন ও উন্মুক্ত ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হলে এটি শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। স্বাধীন ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করবে জাপান।’
