জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছেলেবেলার গল্প শোনালেন তার ছোট মেয়ে শেখ রেহানা। গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধুর ১০১তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে প্রচারিত ‘আমার বাবার ছেলেবেলা’ শীর্ষক এক ভিডিওতে শেখ রেহানা তার বাবার শৈশব-কৈশরের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন শিশু-কিশোরদের সামনে। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে নিজের স্মৃতিচারণাও করেন। কথা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়েও।
শেখ রেহানার বর্ণনায় টুঙ্গিপাড়ার শ্যামল পরিবেশে শেখ মুজিবের জীবন কতটা দুরন্তপনায় কেটেছে তা উঠে এসেছে। উঠে এসেছে মধুমতীর ঘোলাজলে গ্রামের ছেলেদের সঙ্গে সাঁতার কাটা, দল বেঁধে হা-ডু-ডু, ফুটবল, ভলিবল খেলায় দস্যি বালকদের নেতা কীভাবে বিশ^নেতা হয়ে উঠলেন, হয়ে উঠলেন বাঙালি জাতির পিতা তারও আবেগময় বয়ান।
বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে জানান, গ্রামের মাটি ও মানুষ তাকে যেমনটা আকর্ষণ করত, তেমনি তিনিও গ্রামের মাটি ও মানুষকে ভালোবেসেছিলেন পরম মমতায়। পক্ষান্তরে তাকেও সবাই আপন সন্তানের মতো বিশ্বাস করত ও ভালোবসত।
ছোটবেলা থেকেই বাবার পরোপকারী ও মানবিক মন ছিল উল্লেখ করে শেখ রেহানা বলেন, দশ বছর বয়সে নিজের গায়ের জামা খুলে অন্যকে দান করে কিশোর শেখ মুজিব, এ যেন মানবতার অনন্য উদাহরণ। শিশুকাল থেকেই শেখ মুজিব ছিলেন পরোপকারী ও অন্যায়ের প্রতিবাদী। মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখলেই তিনি যেমন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন, তেমনি কোনো অন্যায়-অবিচার দেখলেই প্রতিবাদ করতেন।
প্রায় ৩৮ মিনিটের ভিডিওর একপর্যায়ে শেখ রেহানা বলেন, একবার তার গ্রামের চাষিদের ফসল নষ্ট হয়ে যায়। ফলে কৃষকদের অনেক বাড়িতেই দুবেলা ভাত রান্না বন্ধ হয়ে যায়। সারা গ্রামেই প্রায়-দুর্ভিক্ষাবস্থা । কিশোর মুজিব এ রকম পরিস্থিতিতে কিছু করার জন্য ছটফট করছিলেন। পরে নিজের পিতাকে তার গোলা থেকে বিপন্ন কৃষকদের মধ্যে ধান বিতরণের জন্য অনুরোধ জানালেন। তাদের নিজেদের ধানের মজুদ কেমন, এই অনুরোধ তার বাবা রাখতে পারবেন কি না, সেসব তিনি ভাবেননি। কৃষকদের বাঁচিয়ে রাখার চিন্তাটিই ছিল তখন তার কাছে মুখ্য।
ভিডিওটির একেবারে শেষ দিকে ছোট্ট সোনামণিদের উদ্দেশে শেখ রেহানা বলেন, ‘সোনামণিরা, তোমরা নিশ্চয়ই কার্টুন দেখতে ভালোবাসো। আমি কিন্তু দারুণ পছন্দ করি। তোমরা কি লায়ন কিং দেখেছ? লায়ন কিংয়ের মুফাসার সাথে যেভাবে তার কাছের একজন বিশ্বাসঘাতকতা করে, মুজিবের সাথেও খুব ঘনিষ্ঠ স্কার-এর মতো কিছু দুষ্ট লোক হিংসা, ষড়যন্ত্র করে পৃথিবী থেকে তাকে সরিয়ে দেয়। তার অসহায় সিম্বাকে প্রাণে বেঁচে সব সহ্য করতে হলো। ঠিক যেমন আমাদের দুই বোনকে দেশে ঢুকতে দেওয়া হলো না। সিম্বা অর্থাৎ আমাদের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’
শেখ রেহানা বলেন, ‘আমার বোন শেখ হাসিনা প্রবাস থেকে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন দেশে ফিরবেন সিংহের মতন। স্কারদের ভয় করলে চলবে না। বাংলার মানুষের ভালোবাসায় আল্লাহর ইচ্ছায় দেশে ফিরলেন সিম্বার মতন। তাই আমি তাকে সিম্বা বলেই ডাকি। দেশে ফিরে আব্বার অনেক স্বপ্ন বাংলাদেশকে সোনার বাংলা গড়ে তুলবেন, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবেন, ঠিক মুজিবের মতো করেই মানুষের কল্যাণে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করলেন। এখনো কাজ করে যাচ্ছেন।’
তিনি বলেন, ‘জানো ছোট্টমণিরা আমরা দুবোন একে অপরকে পাশে রাখি। দুজন দুজনকে সাহায্য করি খুব ভালোবাসি। ফ্রোজেনের ঠিক এনা-এলসার মতো। ট্রু লাভ। এনা-এলসার মা-বাবা-ভাইও একসাথে পৃথিবী থেকে চলে যায়। ঠিক আমাদের দুই বোনের মতো। আজ এ পর্যন্ত। অনেক অনেক আদর, স্নেহ নিও। আজ আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন। তোমরাও আল্লাহর কাছে দোয়া করো আল্লাহ যেন ওনাকে বেহেশত নসিব করেন। তোমরা ভালো থাকো, তোমাদের জন্য ছোট্ট একটি সারপ্রাইজ আছে।’
এরপরই এ সময় পাশে এসে দাঁড়ান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এনা আর এলসা হাসিনা-রেহানা। তোমাদের সামনে। তোমাদের সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই। এরপর দুই বোন একসঙ্গে বলে ওঠেন, ‘শুভ জন্মদিন’।
