ঝুঁকির চেয়ে রাজনীতি বেশি

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২১, ১১:৫২ পিএম

গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার অভিযোগে ইউরোপের অধিকাংশ দেশেই অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা প্রয়োগ স্থগিত করা হয়েছে। রক্ত জমাট বেঁধে যাচ্ছে এমন অভিযোগে গতকাল পর্যন্ত অঞ্চলটির অন্তত ২১টি দেশের সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে করোনার টিকাদান। অবশ্য অ্যাস্ট্রাজেনেকা বরাবরের মতো দাবি করেছে, তাদের টিকা ক্ষতিকারক নয়, ববং এটি উপকারীই। যুক্তরাজ্যের ওষুধ প্রশাসন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলছে একই কথা। অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, যদিওবা টিকায় রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা ঘটে থাকে সেটা খুবই কমসংখ্যক। বেশি মানুষই উপকৃত হচ্ছেন টিকা নিয়ে।

এসব কারণে অনেকে বলছেন, দেশে দেশে টিকা বন্ধের সিদ্ধান্ত যতটা না স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে তার চাইতে বেশি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। ব্রিটিশ ওষুধ প্রশাসন কর্র্তৃপক্ষ এআইএফএ’র মহাপরিচালক নিকোলা মাগ্রিনি এই দলেরই একজন। ইতালির স্থানীয় সংবাদপত্র দৈনিক লা রিপাবলিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিকোলা মাগ্রিনি বলেন, আমরা বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশে ভ্যাকসিন প্রয়োগ স্থগিতের সিদ্ধান্ত দেখছি। এর মধ্যে রয়েছে জার্মানি ও ফ্রান্স। তারা ভ্যাকসিন প্রয়োগে হস্তক্ষেপ করতে চেয়েছে। খতিয়ে দেখার জন্য প্রয়োগ থামানো হয়েছে। এটি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা ছিল নিরাপদ এবং ঝুঁকির তুলনায় উপকার ছিল ব্যাপক ইতিবাচক।

তিনি বলেন, এআইএফএ দুই থেকে তিন দিন সময় নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবে। যখন আমাদের সন্দেহ দূর হয়ে যাবে আগের চেয়ে দ্রুতগতিতে ভ্যাকসিনের প্রয়োগ শুরু হবে।

এদিকে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, বুলগেরিয়া, ডেনমার্ক, আয়ারল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বেশ কয়েকটি দেশ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে টিকাদান কর্মসূচি স্থগিত করার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা ও রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার মধ্যে কোনো সম্পর্ক থাকার প্রমাণ মেলেনি। এটি নিলে ক্ষতির চাইতে উপকারই বেশি হবে।

ইউরোপীয় মেডিসিন এজেন্সিও (ইএমএ) বলেছে, টিকার সম্ভাব্য ঝুঁকির তুলনায় এর কার্যকারিতা অনেক বেশি। গত মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইএমএ’র বিশেষজ্ঞরা টিকা নিয়ে বৈঠকে বসেন। ইএমএ’র প্রধান এমার কুক বলেন, আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সক্ষম। টিকা নেওয়ার পর করোনায় সংক্রমিত হলেও হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া বা মৃত্যুর ঝুঁকি কমে। টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকির চেয়ে এসব উপকারিতার গুরুত্ব অনেক বেশি।

গত সপ্তাহে আয়ারল্যান্ড, ডেনমার্ক, নরওয়ে, বুলগেরিয়া ও আইসল্যান্ড টিকার প্রয়োগ স্থগিত করে। পরে জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স ও স্পেন কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেয়। তার এক দিন আগে নেদারল্যান্ডসও ২৯ মার্চ পর্যন্ত ভ্যাকসিন প্রয়োগ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। আর এরপর সুইডেন, লাটভিয়াও করোনাভাইরাসের টিকা কর্মসূচি স্থগিত করেছে। কর্মসূচি শুরুর আগেই তা স্থগিত করেছে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ইন্দোনেশিয়া, ভেনেজুয়েলা ও থাইল্যান্ড।

দামে তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় দরিদ্র দেশগুলোতে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা বেশি পছন্দের। তবে রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা ইউরোপ ও ইউরোপের বাইরেও প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু খোদ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী জেন কাসটেক্স নিজেই অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে তাদের শর্ত, তার আগে ইউরোপীয় ওষুধ সংস্থা এ টিকাকে নিরাপদ বলে ঘোষণা দিক। অবশ্য থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রিয়ুথ চ্যান ওচাও অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সে দেশের নাগরিকদের অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত