আইজিপির সংবাদ সম্মেলন

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামছে পুলিশ

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২১, ০২:২৬ এএম

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় তা রোধে মাঠে নামছে পুলিশ। ২১ মার্চ থেকে জনগণকে মাস্ক পরায় উদ্বুদ্ধ করতে সারা দেশে কাজ করবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, রাজারবাগে সংবাদ সম্মেলনের পর দুপুরে পুলিশের ৬ রেঞ্জের ডিআইজি, ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার ও পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন আইজিপি। ওই বৈঠকেও করোনা মহামারীর প্রকোপ ঠেকাতে পুলিশকে সতর্কভাবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি জনগণ যাতে নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘করোনা রোধে মাস্কের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের সবার উচিত, কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা। যাতে আমরা ও আমাদের পরিবার করোনা থেকে মুক্ত থাকতে পারি।’

বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণকে মাস্ক পরতে বাধ্য করা হবে কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, আমরা ঠিক বাধ্য কথাটা বলছি না। আমরা তাদের প্রেষণা ও প্রেরণা দিয়ে মাস্ক পরতে উদ্বুদ্ধ করতে চাই। তা ছাড়া মাস্ক পরতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে কেন? মানুষ নিজের দায়িত্ববোধ থেকে নিজের ও নিজের পরিবারের জন্য মাস্ক পরবে বলে আশা করছি।

আইজিপি বলেন, ২১ মার্চ থেকে ‘মাস্ক পরার অভ্যাস : কভিডমুক্ত বাংলাদেশ’ সেøাগান সামনে রেখে শুরু হবে এই কার্যক্রম। এতে কমিউনিটি পুলিশ ও বিট পুলিশ কাজ করবে। তারা মাস্ক পরতে উদ্বুদ্ধ করবে, প্রয়োজনে বিনা মূল্যে মাস্ক সরবরাহ করবে।

করোনা সংক্রমণের পরিসংখ্যান তুলে ধরে আইজিপি বলেন, গত এক বছরের মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে সবচেয়ে কম আক্রান্ত ছিল। মার্চে আবার ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত ৪৬ লাখ মানুষ টিকা নিয়েছেন, তবে এটা প্রথম ডোজ। এক ডোজে করোনা প্রতিরোধ সম্ভব নয়, দুই ডোজ লাগে। অবহেলা ও অবজ্ঞা করে করোনা থামানো যাবে না। সবাইকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। মাস্ক পরতে হবে, সাবান দিয়ে বারবার হাত ধুতে হবে, প্রয়োজনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার সঙ্গে রাখতে হবে। জনসমাগম বা ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় গেলে সেখান থেকে বাসায় ফিরে কাপড় খুলে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

বড় রাজনৈতিক অনুষ্ঠান, ওয়াজসহ জনসমাগম হয় এমন নানা অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয় পুলিশ। করোনার কারণে অনুমতি দেওয়া বন্ধ থাকবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। আমরা অনুমতি দিলেও প্রতিটি অনুষ্ঠানে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। তবে বেপরোয়াভাবে মাস্ক ছাড়া ঘোরাফেরা করতে থাকলে করোনা পরিস্থিতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে। গ্রাম-গঞ্জেও জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করা হবে। কখনোই মাস্ক পরতে ভুলবেন না, ঘর থেকে বেরোনো মানেই মুখে মাস্ক। অর্থনীতি ও জীবন চালিয়ে যেতে হবে, পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধিও মানতে হবে।

মহামারীর সংক্রমণ বাড়ার মধ্যে লকডাউন আরোপ করার সম্ভাবনার বিষয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনা সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই মুহূর্তে মাস্ক ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। বেপরোয়া চলাফেরা কঠোরভাবে পরিহার করতে পারলে আমরা করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির শুরু থেকেই পুলিশ কখনোই দায়িত্ব থেকে পিছপা হয়নি; বরং দায়িত্বের বাইরে গিয়ে গণমানুষের সঙ্গে ছিল। এবারও আমরা গণমানুষের সঙ্গে মিলে দায়িত্ব পালন করতে চাই।

এদিকে, গতকাল দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেন আইজিপি। ওই বৈঠকে পুলিশের ৬ রেঞ্জের ডিআইজি, ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার ও পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে রেঞ্জ ডিআইজি ও এসপিরা ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে উপস্থিত থাকা পুলিশের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে করোনার পরিস্থিতি প্রতিরোধ করার নির্দেশনা দিয়েছেন আইজিপি। তিনি বলেছেন, করোনার প্রভাব অনেক বেড়ে গেছে। পুলিশ সদস্যদের সতর্কভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। রাস্তা-ঘাটে কেউ মাস্ক না পরলে তাদের বুঝিয়ে তা ব্যবহার করার উদ্যোগ নিতে হবে। কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করা যাবে না। ডিউটি করার সময় দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত