মুক্তি পেল দেশের প্রথম থ্রিডি সিনেমা

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২১, ০৫:৪৫ পিএম

আজ মুক্তি পেল দেশের প্রথম থ্রিডি সিনেমা ‘অলাতচক্র’। প্রখ্যাত লেখক, চিন্তক আহমদ ছফার আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস ‘অলাতচক্র’ উপন্যাসটি অবলম্বনে একই নামে সিনেমা বানিয়েছেন হাবিবুর রহমান। ‘অলাতচক্র’ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সিনেমা। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট মুভির গল্প। এতে তায়েবা চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান ও দানিয়েল চরিত্রে আহমেদ রুবেল।

পরিচালক হাবিব বলেন, ‘এ সিনেমার প্রযোজক আমার মা রহিমা বেগম। চলচ্চিত্রটি শুধু বাংলাদেশের নয়, বাংলা ভাষায় নির্মিত প্রথম থ্রিডি চলচ্চিত্র, যা প্রযুক্তিগতভাবে সর্বাধুনিক।’ তিনি আরও বলেন, ‘কথায় আছে, যাকে ধরে আহমদ ছফা, তার হয় দফারফা। আহমদ ছফার “অলাতচক্র” উপন্যাসের চলচ্চিত্রায়ন করতে গিয়ে ব্যাপারটা যেন হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি। ছয় বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চিত্রনাট্য নির্মাণ করা হয়েছে। অভিনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে চরিত্রের প্রতি সুবিচার করতে পারবেন এমন শক্তিমান, অভিজ্ঞ এবং বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ শিল্পীদের নেওয়া হয়েছে।’

জয়াকে নেওয়ার ব্যাপারে পরিচালক বলেন, ‘এ চরিত্রের জন্য জয়া আহসানের ওপরে আর কেউ নেই। তার মতো একজন গুণী অভিনেত্রীকে প্রথম মুভিতে পাওয়া একজন নির্মাতার জন্য বড় ব্যাপার।’

সিনেমা বানাতে গিয়ে দেনায় জর্জরিত হয়েছেন দাবি করে হাবিব বলেন, ‘“অলাতচক্র”র জন্য আকণ্ঠ ধারদেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছি। সারি সারি পাঁচিল বা বাধা পার হতে গিয়ে নিজের দোষে, নিজেই একা হয়ে পড়ছি যেন, মানে দফারফা। তথাপি আহমদ ছফার জয় হোক। তার চিন্তা এবং কাজ ছড়িয়ে পড়ুক।’

জয়া আহসান বলেন, ‘এ সিনেমায় আমাকে নেওয়ার জন্য পরিচালক অনেক দিন ধরে লেগে ছিলেন। দ্বিতীয়ত, আহমদ ছফার গল্প। তিনি অত্যন্ত গুণী, গুরুত্বপূর্ণ আর প্রথাবিরোধী একজন লেখক। চরিত্রটাও দুর্দান্ত। এছাড়া দেশের প্রথম থ্রিডি ফরম্যাটে বানানো প্রথম সিনেমা। সবদিক দিয়েই ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকার একটা সুযোগ আমি হাতছাড়া করতে চাইনি। তাই সিনেমাটি করতে রাজি হই। আমার অংশের শ্যুটিং হয়েছে ময়মনসিংহের সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে। আমার চারপাশে ৫০-৬০ জন নানা রোগে আক্রান্ত রোগী। তার ভেতরে যতটা সাবধানে পারা যায়, শ্যুটিং করা। তাই ভয়ে ভয়ে ছিলাম। এটা ছাড়া আমাদের কাছে আর কোনো বিকল্পও ছিল না। কেননা এ হাসপাতাল দেখতে বেশ খানিকটা কলকাতার হাসপাতালের মতো। শেষমেশ কতটা কী রাখা হয়েছে, তা জানি না।’

আহমেদ রুবেল বলেন, ‘দানিয়েল চরিত্রের জন্য পরিচালক আমাকেই চাইছিলেন। উনি আমার ওপর ভরসা করেছেন। আমিও করেছি। সাবজেক্টটা সুন্দর। আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি ভালো করার। আমরা পুরান ঢাকায় আর ময়মনসিংহে শ্যুটিং করেছি। সব মিলিয়ে দর্শক মুভিটি গ্রহণ করবেন বলে বিশ্বাস।’

১৭টি সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে মুভিটি। পরিবেশক সংস্থার তথ্যমতে, ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্সের তিনটি শাখা, ব্লকবাস্টার সিনেমাসে মুভিটি থ্রিডিতে প্রদর্শিত হবে। বাকি সিনেমা হলে টুডি ভার্সনে প্রদর্শন করা হবে। এর বাইরে মুভিটি প্রদর্শিত হবে শ্যামলী (ঢাকা), সিনেস্কোপ (নারায়ণগঞ্জ), সুগন্ধা (চট্টগ্রাম), সিলভার স্ক্রিন (চট্টগ্রাম), সঙ্গীতা (খুলনা), স্কাই ভিউ (কক্সবাজার), পূরবী (ময়মনসিংহ), মডার্ন (দিনাজপুর), অভিরুচি (বরিশাল), শাপলা (রংপুর), সেনা (সাভার), বর্ষা (জয়দেবপুর), চন্দ্রিমা (শ্রীপুর)।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত