পৃথিবীতে পড়ার বিষয় প্রচুর, কিন্তু সময় অল্প। তার ওপর যদি পড়ার গতি হয় ধীর তবে পড়ে জ্ঞানার্জনের পথ হয়ে যায় দুর্গম। তাই পড়ার গতি বাড়ানো একজন শিক্ষার্থীর অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। পড়ার গতি বৃদ্ধির কৌশল জানাচ্ছেন বিপুল জামান
উপযুক্ত স্থান বেছে নাও
কোলাহলপূর্ণ স্থানে পড়ার প্রতি মনোযোগ ধরে রাখা যায় না। পড়া থেকে বারবার মনে উঠে যায়। ফলে সময় বেশি লাগে। এ সমস্যা দূর করার জন্য পড়ার উপযুক্ত স্থান বেছে নাও। পড়ার উপযুক্ত স্থান হলো এমন স্থান যেখানে অসহনীয় শব্দ নেই, তোমাকে বিরক্ত করার কোনো লোক নেই। যদি চেয়ার টেবিলে পড়ার অভ্যাস থাকে তাহলে খেয়াল রাখো পড়ার নির্দিষ্ট ওই স্থানে যেন সে ব্যবস্থা থাকে। প্রথম প্রথম পড়ার স্থান খুব গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত গতিতে পড়ার অভ্যাস আয়ত্ত হয়ে গেলে যেকোনো স্থানে পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে পড়তে পারবে।
মনে মনে পড়ো
আমাদের অনেককেই শৈশবে শব্দ করে পড়ার অভ্যাস করিয়েছেন অভিভাবকরা। শব্দ করে পড়তে বেশি সময় লাগে। আবার অনেকে বর্তমানে শব্দ করে না পড়লেও শৈশবের অভ্যাসবশত পড়ার সময় ঠোঁট নাড়ান। এ সব অভ্যাস পড়ার গতিকে ধীর করে দেয়। তাই চেষ্টা করো মনে মনে পড়তে।
মোবাইল ফোন দূরে রাখো
যেকোনো কাজে মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটাতে মোবাইল ফোনের জুড়ি মেলা ভার। বারবার স্মার্টফোনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঁকি দিলে বা গেমস খেললে পড়ার সময় বেশি লাগবেই। তাই মনোযোগের সঙ্গে দ্রুত গতিতে পড়তে মোবাইল ফোন সাইলেন্ট করে দূরে রাখো।
পড়ার সময়সীমা নির্ধারণ করো
কোনো বই, অধ্যায় বা অংশ বিশেষ পড়ার সময়সীমা নির্ধারণ করো। সময়সীমা নির্ধারিত থাকলে সেই সময়ে শেষ করার একটা চাপ মনে কাজ করবে। এর ফলে মনোযোগ হারানোর হার কমে আসবে অনেকগুণ। প্রথম প্রথম নির্ধারিত সময়ে পড়া শেষ করতে না পারলে হতাশ হবে না। সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাও।
নিজেকে অতিক্রমের চেষ্টা করো
তোমার পড়ার গতিকে পর্যবেক্ষণ করো। সবসময় চেষ্টা করবে নিজের পূর্বের গতিকে অতিক্রম করার। এ কাজে থামা ঘড়ি ব্যবহার করতে পারো।
নির্দেশক ব্যবহার করো
পড়ার সময় পয়েন্টার বা নির্দেশক ব্যবহার করলে পড়া থেকে মনোযোগ ছুটে যেতে পারে না। পয়েন্টার না থাকলে খুব সহজে নকশাদার কোনো কাঠি বা কাগজের টুকরো দিয়ে বানিয়ে নিতে পারো। তাই বলে পয়েন্টার নেই এই অজুহাতে দ্রুত পড়ার চর্চা বাদ দিয়ো না। আঙুলকেই পয়েন্টার হিসেবে ব্যবহার করতে পারো।
