রাজশাহীতে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর এক চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম লুৎফর রহমান (২৭)। গতকাল সোমবার ভোরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। রামেক হাসপাতালের চিকিৎসক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে চিকিৎসক লুৎফর রহমান আত্মহত্যা করেছেন। তিনি রাজশাহীর দুর্গাপুরের ভবানিপুর এলাকার বাসিন্দা। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হেপাটোলজি বিষয়ে এমডি করছিলেন লুৎফর রহমান।
রামেক হাসপাতাল পুলিশ বক্স থেকে পাওয়া তথ্যমতে, গতকাল ভোর ৪টার দিকে ডা. লুৎফর রহমানকে অচেতন অবস্থায় রামেক হাসপাতালে আনা হয়। জরুরি বিভাগ থেকে দ্রুত তাকে হাসপাতালের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি মারা যান। পরে মরদেহ হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়।
রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে ডা. লুৎফর রহমান আত্মহত্যা করেছেন বলেই আমরা জানতে পেরেছি। ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।’
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসমত আলী বলেন, ‘ডা. লুৎফর রহমান রাজশাহী মেডিকেল কলেজের একটি মেসে ছিলেন। সেখানেই তিনি অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।’
অন্যদিকে রাজশাহী মহানগর পুলিশের রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডা. লুৎফর রহমান ইন্টার্ন কোয়ার্টারে ছিলেন। আমরা জানতে পেরেছি মাল্টিপল ড্রাগ অর্থাৎ কয়েক ধরনের ওষুধ একসঙ্গে করে খেয়েছেন তিনি। এতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই তিনি মারা যান। তার মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়া গেলে আরও নিশ্চিত করে এবং বিস্তারিতভাবে মৃত্যুর কারণ বলা যাবে।’
