সাকিব আল হাসান ইস্যুতে মুখ খুললেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বোর্ডের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাকিব। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ থেকে ছুটি নিয়ে আইপিএল খেলার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গেও কথা বলেন। আর এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বিসিবি পরিচালক আকরাম খানের সমালোচনা করেন। কথা বলেছেন বিসিবির হাই পারফরম্যান্স ইউনিট (এইচপি) নিয়ে। যার প্রধান নাইমুর রহমান দুর্জয়।
একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব ব্যাপারেই বললেন পাপন। দেশের ক্রিকেটের দুই সাবেক অধিনায়ক আকরাম ও দুর্জয়কে নিয়ে সাকিবের সমালোচনা মোটেও ভালোভাবে নেননি বিসিবি প্রধান।
তিনি বলছেন, ‘ও (সাকিব) একজন জাতীয় দলের খেলোয়াড়। সেরা খেলোয়াড়। অন্যতম সেরাও না, একদম সেরা। ও তো অধিনায়কও ছিল। সিনিয়র কোনো খেলোয়াড় সম্পর্কে বলা, যে আগে অধিনায়ক ছিল… (আকরাম খান)। নিয়ম অনুযায়ী তো কথাই বলতে পারে না। চুক্তিপত্রে পরিষ্কার যেটা আছে- বোর্ড নিয়ে, বোর্ডের সদস্য নিয়ে কিচ্ছু বলতে পারবে না। প্রত্যেকটা পয়েন্ট বাই পয়েন্ট লেখা আছে। এটা হলো নিয়মের কথা। কিন্তু একজন ব্যক্তি হিসেবে ন্যূনতম সম্মান তো সিনিয়রদের প্রতি থাকা উচিত।’
নাজমুল হাসান পাপন আরো বলেন, ‘অন্তত আকরাম খান, দুর্জয় এদের মতো খেলোয়াড় নিয়ে কেন বলতে যাব একটা খেলোয়াড় হয়ে। মানে বেশি ভালো খেললে বলতে হবে অন্যদের? ওর যদি কিছু বলার থাকে তাহলে প্রস্তাব দিতে পারে (কি করলে ভালো হয় ইত্যাদি)। এই দিক দিয়ে এটা আমার কাছে খারাপ লেগেছে।’
যোগ করেন, ‘ওদের আমরা এত যত্ন করি, এখন ওরা যদি সিনিয়রদের সম্পর্কে এভাবে বলে…। সাবেক অধিনায়ক তারা। তাদের কি কোনো অবদান নেই? এদের সম্পর্কে এভাবে মিডিয়াতে বলে দেবে? এটা কি শোভন? এটা কি হলো?’
সাকিব তার সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, শ্রীলঙ্কা সফর থেকে ছুটি চেয়ে বিসিবিকে দেওয়া চিঠির কোথাও বলেননি তিনি টেস্ট খেলতে চান না। ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির প্রধান আকরাম খান চিঠি না পড়েই কথা বলছেন বলে অভিযোগ তার।
সাকিবের টেস্ট খেলা প্রসঙ্গে পাপন বলেন, ‘এর আগেও সে চিঠি দিয়েছিল সে টেস্ট খেলতে চায় না। আমাকে চিঠি দিয়েছিল আগে, সে টেস্ট খেলবে না (২০১৭ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে)।’
এরপর সাকিবের এবারের ছুটি চাওয়ার প্রেক্ষাপট নিয়েও বলেছেন পাপন, ‘ও আমাকে ফোন করে বলেছে যে আইপিএল খেলতে চায়। আমি বললাম, তুমি এটা কি বল? আমরা এখন এত খারাপ খেলছি টেস্ট। তোমাকে তো পেলাম না গত ক’দিন। ভারতে পেলাম না, পাকিস্তানে পেলাম না, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গেও পেলাম না। সেই জায়গায় এখন আরেকটা সিরিজ আছে এখানে তোমাকে কীভাবে অনুমতি দেই?’ তো ওর কথা শুনে মনে হলো যে ও যাবেই।’
নাজমুল হাসান বলে যান, ‘তখন হঠাৎ করে আমার মনে হলো ঠিকাছে, জোর করে তো খেলিয়ে লাভ নেই। তারপরে বললাম, চিঠি দাও। চিঠি দিয়েছে। বোর্ডের অনেকেই রাজি ছিল না। আমিই বলেছি, দিয়ে দাও (অনুমতি)। দিয়ে দিয়েছে। এখানেই তো শেষ। ওই সিরিজে যাওয়া, না যাওয়া ওখানেই শেষ। এরপর তো আমি আর কথাও বলিনি। আমি একটা কথা বলেছিলাম, কে কোন ফরম্যাট খেলতে চায় এটা আমরা মে-জুন মাসের মধ্যে জেনে নিতে চাই।’
