করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে রাজধানীতে রাত ৮টার পর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ চান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। একই সঙ্গে সব দোকানপাটও বন্ধ চাচ্ছেন তিনি। গতকাল টানা দ্বিতীয় দিনেরমতো সাড়ে ৩ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হওয়ার দিন মেয়র তাপস এমন মন্তব্য করলেন। নতুন সাড়ে ৩ হাজার রোগীসহ দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৫ লাখ ৮০ হাজারে। আর নতুন ২৫ জন নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৭৮৩ জনে।
এদিকে দক্ষিণ সিটির মেয়র তাপসের দোকান বন্ধ চাওয়ায় আপত্তি নেই বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির। তবে এরকমের কোনো নির্দেশনা এলে তা সব ক্ষেত্রে অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে বলে দাবি করেছেন সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন। এছাড়া স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান শেষ হলে সমিতি বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান তিনি।
গতকাল বুধবার রাজধানীর গোপীবাগের বাংলাদেশ বয়েজ ক্লাব মাঠ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেয়র তাপস বলেন, ‘আমি আপনাদের মাধ্যমে ঢাকাবাসীকে দুটি নিবেদন করব। যেহেতু করোনা মহামারীর সংক্রমণ আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই রাত ৮টার মধ্যে অবশ্যই সব দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেবেন। আমরা গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। আমরা চাই, ৮টার মধ্যে সব বন্ধ হলে সংক্রমণও কমে আসবে এবং আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারব।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকার যদি ৮টার পরে দোকানপাট বন্ধ করতে চায় তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে সে ক্ষেত্রে শপিং মল, ফুটপাত সবকিছু বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় এ কার্যক্রম কোনো কাজে আসবে না। সরকার চাইলে রাজধানী কেন, সারা দেশেই এ পদক্ষেপ নিতে পারে।’
সমিতির পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা সংক্রমণের দিকে নজর রাখছি। বাংলাদেশে মৃত্যুহার অনেক কম হওয়ায় ঝুঁকি কম। এটা একটা ভালো দিক। কিন্তু কোনো কঠিন সিদ্ধান্তেও যেতে পারছি না। কারণ সামনে রমজান। এরপরও আমরা সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে চলমান কর্মসূচি শেষ ও বিদেশি মেহমানরা চলে যাওয়ার পর বসব। তখন সিদ্ধান্ত নেব কী করা যায়। তবে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে কোনো কিছুতেই লাভ হবে না। জনগণকে আগে এ বিষয়ে সতর্ক করতে হবে।
টানা দ্বিতীয় দিন সাড়ে ৩ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত : দেশে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া এক দিনে মৃত্যুর সংখ্যাও আগের দিনের চেয়ে বেড়েছে। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৫৬৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত প্রায় ৯ মাসের মধ্যে এটিই এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত। এর আগে গত বছর ২ জুলাই এক দিনে ৪ হাজার ১৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। একই সময় মৃত্যু হয়েছে ২৫ জনের। এ নিয়ে দেশে করোনায় মারা গেছেন ৮ হাজার ৭৬৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত অ্যান্টিজেন ও আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে ২৭ হাজার ৫০২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৯৭ শতাংশ। মোট শনাক্ত ৫ লাখ ৮০ হাজার ৮০৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯১৫ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ২৭ হাজার ৯০৯ জন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৪৪ লাখ ৮৭ হাজার ৬৮৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২৫ জনের মধ্যে ১৮ জন পুরুষ ও ৭ জন নারী। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে তাদের মধ্যে দুজনের বয়স ৪১-৫০ বছরের মধ্যে, ৯ জনের বয়স ৫১-৬০ বছরের মধ্যে ও ষাটোর্ধ্ব ১৪ জন। মৃতদের মধ্যে ১৮ জন ঢাকা বিভাগের, ৩ জন চট্টগ্রাম বিভাগের এবং ১ জন করে রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর বিভাগের বাসিন্দা।
দেশে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ৮ হাজার ৭৬৩ জনের মধ্যে ৬ হাজার ৬২৫ পুরুষ এবং ২ হাজার ১৩৮ জন নারী। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪ হাজার ৮৯৯ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ২ হাজার ১৭১ জনের বয়স ৫১-৬০ বছরের মধ্যে, ৯৮৮ জনের বয়স ৪১-৫০ বছরের মধ্যে, ৪২৯ জনের বয়স ৩১-৪০ বছরের মধ্যে, ১৭৩ জনের বয়স ২১-৩০ বছরের মধ্যে, ৬৬ জনের বয়স ১১-২০ বছরের মধ্যে এবং ৩৭ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম।
এর মধ্যে ৪ হাজার ৯৪৭ জন ঢাকা বিভাগের, ১ হাজার ৬০৬ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৪৮৯ জন রাজশাহী বিভাগের, ৫৭০ জন খুলনা বিভাগের, ২৬৬ জন বরিশাল বিভাগের, ৩১৬ জন সিলেট বিভাগের, ৩৭০ জন রংপুর বিভাগের এবং ১৯৯ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
