জমে ওঠেনি শিশু চত্বর

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২১, ০১:০৮ এএম

শিশুদের জন্য তুলনামূলক কম বই প্রকাশ হয়েছে এবারের অমর একুশে বইমেলায়। স্টলগুলোতে এখনো জমেনি বিক্রি। মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে রয়েছে শিশুচত্বর। সেখানে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দর্শনার্থীদের আনাগোনা কম থাকায় অলস সময় কাটাচ্ছেন প্রকাশনা স্টলগুলোর বিক্রয়কর্মীরা। প্রকাশকরা জানিয়েছেন করোনার প্রভাবের জন্য এমনটা হয়েছে। বইমেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার ‘শিশু প্রহর’ রাখা হয়নি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ‘শিশু প্রহর’ চালু হতে পারে। মূলত ছুটির দিনে শিশু প্রহরে এসে শিশু-কিশোররা ভিড় জমায়। এবার করোনা সংক্রমণের কারণে অনেকেই সন্তানদের নিয়ে মেলায় আসছেন না। শিশু চত্বরে রয়েছে ‘সিসিমপুর’, ‘ময়ূরপঙ্খি’, ‘ইকরিমিকরি’, ‘বাবুই’, ‘ঝিঙেফুল’, ‘আদিগন্ত’সহ শতাধিক প্রকাশনার স্টল।

বাবুই প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী কাদের বাবু গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মেলার প্রথম সপ্তাহ পেরিয়েছে, শিশু চত্বরে এখনো বিক্রি তেমন বাড়েনি। এবার করোনার কারণে অনেক শিশু-কিশোর মেলায় আসছে না। আমাদের বাবুই থেকে ৩০টির মতো নতুন বই প্রকাশ করছি। এর মধ্যে অনেকগুলো বই এখন স্টলে রয়েছে। আশা করছি স্বাধীনতা দিবসের দিন থেকে শিশু চত্বরটি জমে উঠবে, বিক্রিও বাড়বে।’

বড়দের পাশাপাশি মেলায় ছোটদের লেখা বইও প্রকাশ হয়েছে। রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী অমর্ত্য রূপাইয়ের লেখা ‘কোলিয়াপ্তা কুলাপ্তা কালাপ্তা’ প্রকাশ করেছে বাবুই। লেখক অমর্ত্য রূপাই দেশ রূপান্তরকে জানায়, এটি তার লেখা দ্বিতীয় বই। নতুন বইটি এরই মধ্যে অনেকেই সংগ্রহ করেছে। মূলত সায়েন্স ফিকশন, গোয়েন্দা কাহিনীর প্রতি দুর্বলতা রয়েছে এই লেখকের। ভবিষ্যতে গোয়েন্দা গল্পের বই লিখতে চায় এই খুদে লেখক। অমর্ত্য রূপাই আগামী বইমেলার জন্যও নতুন বই লিখছে বলে জানায়। করোনার ঘরবন্দি সময়ে লেখালেখিতে ব্যস্ত থাকতে ভালোই লাগছে তার।

সিসিমপুরের স্টলের বিক্রয়কর্মী আবীর এবং নওশীন জানায়, বিক্রির চাপ খুব বেশি নেই। লোকজন কম আসছে। তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী নওশিন মেলায় বিক্রয়কর্মীর কাজটি ভীষণ উপভোগ করছে জানিয়ে বলে, ‘স্টলে লোকজন আসছে, কথা বলছি। আড্ডা-গল্পের মধ্য দিয়েই কাজ করছি।’ সিসিমপুরের স্টলে নতুন প্রকাশিত বই তেমন নেই। বিগত দু-তিন বছরের প্রকাশিত বইগুলো এবারের মেলায় বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে বেশি বিক্রি হচ্ছে ‘কাঠির কেরামতি’, ‘সাফারি পার্কে একদিন’, ‘ময়ূরপঙ্খি নাও’। শিশু গ্রন্থ কুটির এনেছে ঝর্ণাদাশ পুরকায়স্থের ‘জাদুকর ও আইসক্রীমের ঘর’।

শিশু চত্বরে সন্তান তাসিনকে নিয়ে এসেছেন ব্যাংক কর্মকর্তা আসিফ আহমেদ। তিনি জানান, সারা দিন ঘরে থাকতে গিয়ে তাসিনের ভীষণ মন খারাপ। আসিফ আহমেদ বলেন, ‘করোনার কারণে তো অনেক দিন ধরে শিশুরা ঘরে আটকে রয়েছে। স্কুল-কলেজ বন্ধ। ঢাকা শহরে খেলার মাঠেরও রয়েছে অভাব। ওরা যাবে কোথায়? শিশুদেরও তো চিত্তবিনোদনের প্রয়োজন আছে। তারা যদি বইমেলায় ঘুরে বই কিনতে পারে তাহলে তাদের মানসিক অবস্থা ভালো থাকবে।’

মাস্ক নেই, বই বিক্রি নেই

গতকাল বিকেলে বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সেমিনার কক্ষে চলমান বইমেলা বিষয়ে এক পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ‘মাস্ক নেই, বই বিক্রি নেই’ এই স্লোগান বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিটি প্রকাশনীর অভ্যন্তরে উৎকীর্ণ করার অনুরোধ জানানো হয়। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১৪ এপ্রিল ২০২১ পর্যন্ত বইমেলা চালু রাখার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এছাড়া ২৬ মার্চ শুক্রবার, স্বাধীনতা দিবস এবং ২৭ মার্চ শনিবার সরকারি ছুটির দিন থাকায় মেলায় জনসমাগম বৃদ্ধি পেতে পারে এ বিবেচনায় দেশের সংবাদমাধ্যমের কাছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বইমেলায় প্রবেশ ও অবস্থানের বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রচারণার অনুরোধ জানানো হয়। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন একাডেমির সচিব (ভারপ্রাপ্ত) অপরেশ কুমার ব্যানার্জী, বইমেলার সদস্য-সচিব ড. জালাল আহমেদ, সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক মনিরুল হক, পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সহসভাপতি শ্যামল পাল, পরিচালক নেছারউদ্দিন আইয়ুব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বাংলা একাডেমির পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বইমেলার অনুষ্ঠান

গতকাল বুধবার মেলার লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন হাবিব আনিসুর রহমান, সুদীপ্ত সালাম, সাকিরা পারভীন সোমা। এছাড়া বিকেল ৪টায় মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : মুক্তিযুদ্ধে সংবাদ সাময়িকপত্র শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাফর ওয়াজেদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মোহাম্মদ সেলিম এবং কুতুব আজাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ।

নতুন বই

বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী গতকাল বুধবার মেলায় নতুন বই এসেছে ১৯৪টি। নতুন বইয়ের মধ্যে প্রথমা এনেছে মহিউদ্দিন আহমেদের লেখা ‘প্রতিনায়ক’, মূর্ধণ্য এনেছে সরকার আমিনের ‘মৃদ্যু বেদনার হাসপাতালে’, নাগরি এনেছে আন্দালিব রাশদীর অনুবাদ ‘কাশ্মীরের কবিতা’, আহমাদ মোস্তফা কামালের ‘যে পথে হেঁটে এসেছি’, প্রশান্ত মৃধার ‘নির্জন মগ্নতার ধারে’, মাহবুব আলমের নাট্যগ্রন্থ ‘তিনকড়ি’, মাওলা ব্রাদার্স এনেছে মুনতাসীর মামুনের ‘মুক্তিযুদ্ধ একাত্তর সাহিত্য ও পশ্চিমবঙ্গ’, কথাপ্রকাশ এনেছে সন্জীদা খাতুনের আত্মজীবনী ‘জীবনবৃত্ত’, ঐতিহ্য এনেছে পিয়াস মজিদের কবিতার বই ‘মির্জা গালিব স্ট্রিট’, অন্যপ্রকাশ এনেছে শাইখ সিরাজের ‘করোনাকালে বহতা জীবন’, সাদাত হোসাইনের ‘তোমার নামে সন্ধ্যা নামে’, তাম্রলিপি এনেছে মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘বনবালিকা’, ঐতিহ্য এনেছে আলতাফ পারভেজের ‘ধান চাষের প্রতিবেদন’ প্রভৃতি।

আজকের অনুষ্ঠানসূচি

আজ বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলার ৮ম দিন। মেলা চলবে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : বাংলাদেশের গণহত্যা ও গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন স্বদেশ রায়। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী সাজ্জাদ আলী জহির (বীরপ্রতীক), আহম্মেদ শরীফ ও চৌধুরী শহীদ কাদের। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। এছাড়া ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের কালরাত্রি স্মরণে রাত ৯টা থেকে ৯:০১টা পর্যন্ত ‘ব্ল্যাক আউট’ কর্মসূচি পালন করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত