প্রথম দফায় মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা প্রকাশ

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২১, ০১:২৯ এএম

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৩৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ১৯১ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা প্রকাশ (প্রথম দফায়) করেছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এক সংবাদ সম্মেলনে এই তালিকা প্রকাশ করেন। যাচাই-বাছাই শেষে সবশেষ তালিকা ৩০ জুনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।

প্রথম পর্যায়ে প্রকাশিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় রয়েছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানের নাম। তালিকায় বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের পাশাপাশি খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের নামও রয়েছে।

তালিকায় বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে ৩৭ হাজার ৩৮৭ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৩০ হাজার ৫৩, বরিশাল বিভাগে ১২ হাজার ৫৬৩, খুলনা বিভাগে ১৭ হাজার ৬৩০, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ হাজার ৫৮৮, রাজশাহী বিভাগে ১৩ হাজার ৮৯৯, রংপুর বিভাগে ১৫ হাজার ১৫৮ ও সিলেট বিভাগে ১০ হাজার ২৬৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকার বিষয়ে আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় তৃণমূল থেকে তদন্তের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা চূড়ান্তকরণের কাজ করছি। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকার প্রথম পর্যায় আজ প্রকাশ করা হলো। সবকিছু যাচাই-বাছাই শেষে সবশেষ তালিকা ৩০ জুনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। নতুন করে মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার জন্য কেউ কোনো আবেদন করতে পারবেন না। এখন শুধু আপিল করা হবে। এরপর রিভিউ হবে।’

তালিকায় বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি, মোশতাক ও জিয়ার নাম থাকা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তাদের খেতাব বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু তারা তো মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। তারা যুদ্ধ করেননি, এটা তো বলতে পারব না। তা হলো তো ইতিহাসের বিকৃতি হবে। যদি বলি জিয়াউর রহমান যুদ্ধ করেননি, এটা তো ঠিক হলো না। তিনি তো সেক্টর কমান্ডার ছিলেন, যুদ্ধ করেছেন। পরবর্তীকালে কী কাজ করেছেন, এটার শাস্তি হতে পারে।’

 মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাওয়ার তালিকায় ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৪ জনের নাম থাকার তথ্য তুলে ধরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘প্রায় ৩৫ হাজার জনের বেসামরিক গেজেট জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের অনুমোদন না থাকায় তালিকার বাইরে রয়ে গেছে। ইতিমধ্যে এসব গেজেট নিয়মিতকরণের লক্ষ্যে আমরা ৪৩৪ উপজেলার প্রতিবেদন পেয়েছি। সেগুলো যাচাই-বাছাই এবং আপিল শুনানি শেষে ৩০ জুনের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় প্রকাশ করা হবে।’

বুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা দেশের প্রখ্যাত গবেষকদের নিয়ে কমিটি গঠন করে করা হয়েছে। প্রথম ধাপে আমরা ১৯১ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর তালিকা প্রকাশ করছি। যাচাই-বাছাই শেষে ধাপে ধাপে আরও তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই তালিকাও আগামী ৩০ জুনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ করা হবে।’

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৭ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করে। এ সময় নতুন করে প্রায় দেড় লাখ আবেদন আসে। কিন্তু যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন থেকে শুরু করে পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। শেষ পর্যন্ত নতুন তালিকা প্রকাশ স্থগিত করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তরা জানান, এত দিন জেলা প্রশাসনের তালিকার ভিত্তিতেই ১ লাখ ৯২ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ভাতা পাঠানো হতো। কিন্তু ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে (এমআইএস) বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার পর সংখ্যাটি ২১ হাজার কমে গেছে। গত অক্টোবর ও নভেম্বরে ১ লাখ ৭১ হাজার জনকে ভাতা পাঠানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত